×

খেলা

পাকিস্তান দলে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

Icon

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পাকিস্তান দলে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

কাগজ ডেস্ক : চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটা পাকিস্তানের জন্য দুঃস্বপ্নের মতো হয়ে আছে। টানা দুই ম্যাচে দুই হারে আসর থেকে ছিটকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে বাবর আজমের দলের। বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় হাইভোল্টেজ ম্যাচ। যেখানে স্কোরবোর্ডে মাত্র ১১৯ রান আসে। অথচ সেটা নিয়েই ভারতের বোলাররা শেষ ওভারে সমীকরণ নিয়ে আসে ৬ বলে ১৮ রানে। পাকিস্তানের শেষ ভরসা ইমাদ ওয়াসিম তখন ক্রিজে। কিন্তু ভারতের পেসার আর্শদীপ সিংয়ের করা শেষ ওভারের প্রথম বলেই ইমাদ কট বিহাইন্ড হলে সম্ভাবনার পাল্লা অনেকটাই হেলে পড়ে ভারতের দিকে। ম্যাচের শেষের দিকে নাসিম শাহর দুটি বাউন্ডারিতে শুধু পরাজয়ের ব্যবধানটাই কমিয়েছেন। শেষ ওভারে ১১ রান নিলে পাকিস্তানের ইনিংস থামে ৭ উইকেটে ১১৩ রানে। শেষ পর্যন্ত ৬ রানে পাকিস্তানকে হারিয়েছে চিরপ্রতিদ্ব›দ্বী ভারত।

নিউইয়র্কের পিচ একটু কঠিন কিন্তু তবুও পাকিস্তান জিতবে এমন আশাই ছিল বেশি। কিন্তু শেষ অবধি তারা হেরে গেছে ম্যাচটি। পুরো ২০ ওভার খেললেও ?১১৩ রানের বেশি করতে পারেনি পাকিস্তান।

নিজেদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে কম রান ডিফেন্ড করে জয় পেয়েছে ভারত। ৪ ওভারে স্রেফ ১৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে তাতে নায়ক হয়েছেন জাসপ্রিত বুমরাহ। এই ম্যাচ হারের পর বিশ্বকাপের সুপার এইটে খেলা এখন পাকিস্তানের জন্য বেশ কঠিন হয়ে গেছে।

নিজেদের শেষ দুই ম্যাচে কানাডা ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শুধু জিতলেই হবে না, পাকিস্তানকে তাকিয়ে থাকতে হবে যুক্তরাষ্ট্র অথবা ভারতের দুই ম্যাচেই হারের দিকে। এরপর রান রেটের সমীকরণ তো আছেই। এখন কী পরিকল্পনা হবে পাকিস্তানের?

পরপর দুই ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে আছে বাবর আজমের দল। তাদের সুপার এইটের ভাগ্য টিকে আছে পরের দুই ম্যাচে বড় জয় এবং অনেক যদি কিন্তুর ওপর। এদিকে ভারতকে অল্পতে আটকে দিয়েও জয় হাতছাড়া হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটাররা। এর মধ্যেই দলে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসীন নাকভি।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের পর গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নাকভি বলেন, ‘মনে হয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট দলের জন্য মাইনর সার্জারিই (ছোটখাটো অস্ত্রোপচার) যথেষ্ট। কিন্তু এ ধরনের বাজে পারফরম্যান্সের পর এটা পরিষ্কার যে, দলে মেজর সার্জারি দরকার’। আগামী বছর পাকিস্তানের মাটিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হওয়ার কথা রয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর আসন্ন টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুত হতে দলের বাইরে থাকা প্রতিভাবানদের সুযোগ দেয়ার সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন পিসিবি প্রধান।

আগামী বছর ঘরের মাটিতে হতে যাওয়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য ভিন্ন ধরনের দল সাজানো হবে বলেও জানিয়েছেন পিসিবি চেয়ারম্যান, ‘চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য আমাদের প্রস্তুত হতে হবে। এজন্য নতুন প্রতিভা যারা সাইড লাইনে আছে, তাদের সুযোগ দিতে হবে’।

ধারাভাষ্যের সূত্রে মাঠে বসেই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখেছেন ওয়াসিম আকরাম। দেখেছেন ৪৪ বলে ৩১ রান করে রিজওয়ান কীভাবে জাসপ্রিত বুমরাকে আড়াআড়ি খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন। এ নিয়ে ম্যাচ শেষে স্টার স্পোর্টসে বিরক্তিই প্রকাশ করেছেন আকরাম, ‘ওরা ১০ বছর ধরে ক্রিকেট খেলছে। আমি তো ওদের শেখাতে পারব না। রিজওয়ানের মধ্যে কোনো গেম অ্যাওয়ারনেসই (ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝা) নেই।

তার জানার কথা বুমরার হাতে বল তুলে দেয়া হয়েছে উইকেটের জন্য।

ওই সময় বুমরাকে সতর্কতার সঙ্গে খেলাটাই হতো বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু রিজওয়ান বড় শট খেলতে গেল এবং আউটও হলো’।

পাকিস্তান দলের যারা বড় শট খেলতে পারেন, তাদের অন্যতম ফখর ও ইফতিখার। ফখর এক ছয় এক চারে ৮ বলে ১৩ রান করে হার্দিক পান্ডিয়াকে ওড়াতে গিয়ে ঋষভ পন্তের হাতে ক্যাচ দেন। আর ইফতিখার ১৯তম ওভারে বুমরার ফুলটস বলে ক্যাচ তোলেন। এ দুজনের মধ্যে ইফতিখারের তীব্র সমালোচনা করেছেন আকরাম, ‘ইফতিখার আহমেদ লেগ সাইডে একটা শটই (খেলতে) জানে। সে কয়েক বছর ধরে দলের অংশ, কিন্তু কীভাবে ব্যাট করতে হয়, জানে না। আর ফখরের গেম অ্যাওয়ারনেস নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না’।

আকরাম কথা বলেছেন পাকিস্তান দলের খেলোয়াড়দের মধ্যকার দ্ব›দ্ব নিয়েও। বিশেষ করে বাবর আজম ও শাহীন আফ্রিদির মধ্যে নেতৃত্ব কেন্দ্র করে যে মানসিক লড়াইয়ের গুঞ্জন শোনা যায়, সেটি ওঠে এসেছে আকরামের কথায়, ‘খেলোয়াড়েরা একে অপরের সঙ্গে কথা বলে না। এটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, আর আপনি দেশের হয়ে খেলছেন। এ ধরনের খেলোয়াড়দের দেশে বসিয়ে রাখুন’।

বিশ ওভারের বিশ্বকাপে এ নিয়ে ভারতের বিপক্ষে আটবারের দেখায় সাতবারই হার মানতে হলো পাকিস্তানকে। ব্যাপারটা মেনে নিতে পারছেন না পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার শোয়েব আখতার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোয়েব বলেন, ‘ম্যাচ দেখে হতাশ ও দুঃখিত। সারাদেশ মর্মাহত। দেশের জার্সি দেশকে গর্বিত করার সুযোগ হেলায় হারাল পাকিস্তান’।

পাকিস্তান দলকে জয়ের অযোগ্য হিসেবে দেখছেন শোয়েব। খেলোয়াড়রা সেরাটা দিচ্ছেন না এই মর্মে সাবেক এই পেসার আরো বলেন, ‘জয়ের জন্য নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে হয়। আমার মনে হয় পাকিস্তান জেতার যোগ্য দলই নয়’।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App