×

খেলা

সুপার ওভারে ওমানকে হারিয়ে দুর্দান্ত শুরু নামিবিয়ার

Icon

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সুপার ওভারে ওমানকে হারিয়ে দুর্দান্ত শুরু নামিবিয়ার

কাগজ ডেস্ক : এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর যেন পুরনো রেকর্ড পুনরাবৃত্তির আসর। কেননা এবারের আসরের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার ম্যাচেও যেমন কিছু ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ছিল ঠিক তেমনি পরের দিনেও ওমান আর নামিবিয়া ম্যাচে আবারো এক যুগ পরে দেখা মিলল সুপার ওভারে ম্যাচ গড়ানোর রেকর্ড। সুপার ওভারের এ ম্যাচে ওমানকে ১১ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপে শুভসূচনা করেছে নামিবিয়া। যদিও শুরুতে ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে আইসিসির সহযোগী দুই দেশের ম্যাচ নিয়ে আগ্রহ ছিল না তবে ম্যাচ সুপার ওভারে গড়ানোর কারণে এই ম্যাচটি রেকর্ড বইয়ে জায়গা করে নিয়েছে। নামিবিয়ার জয়ের নায়ক ডেভিড ভিসে ২৮ রান খরচায় তুলে নেন ৩ উইকেট। তাতে ম্যাচসেরাও হন তিনি।

বার্বাডোসের কেনসিংটন ওভালে গতকাল নামিবিয়া জয় পায় সুপার ওভারে। এর আগে নির্ধারিত ওভারে টস জিতে ওমানকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় নামিবিয়া। আগে ব্যাট করতে নেমে ১৯.৪ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১০৯ রান সংগ্রহ করে ওমান। ১১০ রানের জবাবে নির্ধারিত ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১০৯ রান করে নামিবিয়া। তাতে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানে ব্যাট হাতে ও বলে নৈপুণ্য দেখিয়ে দলকে জেতান ডেভিড ভিসে। প্রথম ওভারের প্রথম দুই বলেই উইকেট হারিয়ে ইনিংস শুরু করে ওমান। রুবেন ট্রাম্পেলম্যানের প্রথম বল খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন কাশ্যপ প্রজাপতি। দ্বিতীয় বলে একইভাবে আউট হন আকিব ইলিয়াস। রিভিউ নিয়েও লাভ হয়নি ওমানের। তৃতীয় উইকেটটিও শিকার করেন নামিবিয়ার এই বোলার। তৃতীয় ওভারে তার বলে এরাসমাসের হাতে ক্যাচ তুলে নাসিম খুশি বিদায় নেন ৬ রানে। চতুর্থ উইকেটে কিছুক্ষণ লড়াই করেন জিসান ও খলিল। ২৪ বলে তাদের গড়া ২৭ রানের জুটিটি ভাঙেন স্কলটজ। ২০ বলে ২২ রান করে তার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে বিদায় নেন জিসান। এরপর আয়ান খানের সঙ্গে ৩১ রানের জুটি গড়ে ফেরার চেষ্টা করেন খলিল। কিন্তু আয়ান ১৫ রানে বিদায় নিলে ভাঙে এই জুটি। কিছুক্ষণ পর দলের হয়ে লড়তে থাকা খলিল ডেভিড ভিসের বল তার হাতেই ক্যাচ তুলে দেন। ৩৯ বলে ৩৪ রান করে খলিলের বিদায়ের পর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে ওমান। তাতে ১০৯ এ বন্ধ হয় রানের খাতা।

নামিবিয়ার হয়ে ৪ ওভারে ২১ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন ট্রাম্পেলম্যান। এছাড়া ৩.৪ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন ভিসে। জোড়া উইকেট পান এরাসমাস। একটি উইকেট নেন স্কলটজ।

অন্যদিকে রান তাড়ায় নেমে দ্বিতীয় বলেই মাইকেল ফন লিংগেনকে হারায় নামিবিয়া। শুরুর এই ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় উইকেটে ৪৯ বলে ৪২ রানের জুটি গড়েন নিকোলাস ডাভিন ও ইয়ান ফ্রাইলিঙ্ক। নবম ওভারে আকিবের বল খেলতে গিয়ে নাদিমের ক্যাচে ডাভিন ফিরে গেলে ভাঙে এই জুটি। ৩১ বলে ২৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন নামিবিয়া ব্যাটার। এরপর গেরহার্ড এরাসমাস নেমে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেননি। আয়ানের বলে তিনি ক্যাচ তুলে দেন জিসানের হাতে। ১৬ বলে ১৩ রান করেন নামিবিয়া অধিনায়ক। সেই ধারাবাহিকতায় পাঁচে নামা জেজে স্মিতও অবশ্য টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। মেহরানের বল ঠিকঠাক টাইমিং করতে পারেননি তিনি। আয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ৮ রানেই। এদিকে একপ্রান্ত সামলে লড়তে থাকেন ফ্রাইলিঙ্ক। তবে ফিফটি স্পর্শ করা হয়নি তার। শেষ ওভারের প্রথম বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। শেষ হয় তার ৪৮ বলে ৪৫ রানের ইনিংস। তাতে শেষ ৫ বলে নামিবিয়ার দরকার ছিল ৫ রান। ওভারের প্রথম বলে উইকেট নেয়ার পর দ্বিতীয় বলে কোনো রান দেননি মেহরান খান। তৃতীয় বলে রিভার্স সুইপ খেলার চেষ্টা করতে গিলে এলবিডব্লিউ হন ইয়ান গ্রিন। মেহরানের আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। রিভিউ নিয়েও লাভ হয়নি নামিবিয়ার। চতুর্থ বলে এক রান পায় তারা। স্ট্রাইকে থাকা ভিসে পঞ্চম বলে জোরে ব্যাট চালালেও বল লাগে অন্যপাশের স্ট্যাম্পে। দুই রান নিয়ে তিনি পান আবারো স্ট্রাইক। শেষ বল ব্যাটেই লাগাতে পারেননি ভিসে। তবে দৌড়ে এক রান নেন তিনি তাতে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। যেখানে শেষ হাসিটা হেসেছে নামিবিয়া। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নামিবিয়া বিলাল খানের ওভার থেকে স্কোরবোর্ডে ২১ রান তোলে। জবাবে ডেভিড ভিসের ওভার থেকে ওমান ১০ রানের বেশি করতে পারেনি।

এ ম্যাচের মধ্য দিয়ে সবচেয়ে বেশি এলবিডব্লিউ শিকারের রেকর্ড গড়েছে নামিবিয়া। ওমানের ১০ ব্যাটারের মধ্যে ৬ জনই সাজঘরে ফিরেছেন এলবডব্লিউর ফাঁদে পড়ে। যা টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি এলবিডব্লিউতে আউট হওয়ার রেকর্ড। এদিকে এর আগে এক ইনিংসে পাঁচটি এলবডব্লিউর দেখা মিলেছে তিনবার। এর মধ্যে দুবার শিকার হয়েছে নেদারল্যান্ডসই। আরেকটি স্কটল্যান্ডের। সেই লজ্জার রেকর্ডে আজ ওমানের নাম সবার উপরে নিয়ে গেল নামিবিয়া।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App