×

খেলা

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ

মাদ্রিদের ১৫তম শিরোপা জয়

Icon

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 মাদ্রিদের ১৫তম শিরোপা জয়

কাগজ ডেস্ক : ১৯৮১ সালের পর আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে হারেনি রিয়াল মাদ্রিদ। ২০২৪ সালে এসেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তাদের রেকর্ড ভাঙতে পারল না বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। লন্ডনে গতকাল আরো একবার মাদ্রিদ প্রমাণ করেছে যে ইউরোপিয়ান ফুটবলের রাজা তারাই। দ্বিতীয়ার্ধের দুর্দান্ত ফুটবলে ডর্টমুন্ডকে ছিটকে দিয়ে রেকর্ড ১৫তমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জয় করেছে লস ব্লাঙ্কোসরা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ওয়েম্বলিতে গতকাল দানি কারভাহাল ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোলে মাদ্রিদের জয় নিশ্চিত হয়। রাইট-ব্যাক কারভাহাল ৭৪ মিনিটে টনি ক্রুসের কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে মাদ্রিদকে এগিয়ে দেন। এরপর ৮৩ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র স্প্যানিশ জায়ান্টদের জয় নিশ্চিত করেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ক্লাব হিসেবে আগেই মাদ্রিদের গায়ে যে জনপ্রিয়তার তকমা লেগেছিল এই জয়ে তা আরো কিছুটা সমৃদ্ধ হলো। এদিকে মেজর লিগ সকারে গতকাল ঘরের মাঠে টানা দ্বিতীয় হার দেখতে বসেছিল মেসির দল ইন্টার মায়ামি। ভার রিভিউ শেষ পর্যন্ত বাঁচিয়ে দিয়েছে তাদের। তাতে সেন্ট লুইসের সঙ্গে ৩-৩ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মায়ামি। মায়ামি সর্বশেষ আতালান্তার কাছে অপ্রত্যাশিত হার দেখেছিল। এই ম্যাচেও ৬৮ মিনিটে লুই সুয়ারেজের আত্মঘাতী গোলে ৩-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ায় আরেকটি হার তাদের চোখ রাঙাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত বদলি খেলোয়াড় জুলিয়ান গ্রেসেলসের লং বল জাল খুঁজে পেলে মিয়ামির দর্শক ঠাসা স্টেডিয়ামে আনন্দের ঢেউ লাগে।

রিয়াল মাদ্রিদ ইউরোপের সেরা ক্লাব, এ নিয়ে কোনো সংশয়ের অবকাশ নেই। তবে এবার ফাইনালে ভয়টা ছিল। প্রতিপক্ষ বরুশিয়া ডর্টমুন্ড বলেই। শুরুতে তারা দাপুটে রূপে হাজিরও হয়েছিল। তাদের আক্রমণের তোড়ে ভেসে যাওয়ার অবস্থা হয়েছিল কার্লো আনচেলত্তির দলের। তবে রিয়াল ঠিকই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে প্রতিপক্ষের জালে দুই গোলে দিয়ে ২-০ ব্যবধানে জিতেছে ইউরোপের রাজারা।

ফাইনাল জিতে রিয়ালের চার তারকা টনি ক্রুস, লুকা মদ্রিচ, দানি কারভাহাল এবং নাচো ৬ বার শিরোপা জয়ের ক্লাবে যোগ দিয়েছেন। এই ফাইনালটা বিশেষ ছিল ক্রুসের জন্য। এই ম্যাচ দিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ এবং ক্লাব ফুটবলকে বিদায় জানালেন এ জার্মান স্নাইপার। বিদায় বেলাতেও নিজের গুরুত্বটা ঠিকই বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন তিনি। সামনের দিনগুলোতেও নিশ্চিতভাবেই ক্রুসের অভাবটা আরো বেশি বোধ করবে রিয়াল। ক্রুসের বিপরীতের মার্কো রয়েসের হতাশার কথাও বলে রাখা উচিত। ডর্টমুন্ডের হয়ে নিজের শেষ ম্যাচটা গতকাল খেলেছেন রয়েস। কিন্তু শেষটাও হলো শিরোপাহীন ও হতাশার। ফুটবলের ওপর ঋণের বোঝাটা আরেকটু ভারি করেই হলুদ-কালোশিবিরকে বিদায় জানালেন রয়েস। ম্যাচের শুরুতে অবশ্য রিয়ালকে চেনা ছন্দে দেখা যায়নি। দ্বাদশ মিনিটে প্রথম শট নেয় রিয়াল, তবে লক্ষ্যের ধারেকাছেও ছিল না। এরপরই বরুশিয়ার ঝড়। চর্তুদশ মিনিটে রিয়ালের বক্সে হানা দেন জুলিয়ান ব্রান্ডট। তবে দারুণ পজিশনে বল পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নিয়ে হতাশ করেন জার্মান মিডফিল্ডার।

২১তম মিনিটে যে মিসটি করে বরুশিয়া, মূলত সেখানেই শেষ তাদের জয়ের আশা। সতীর্থের থ্রæ বল ধরে গোলরক্ষককে একা পেয়ে যান কারিম আদেইয়েমি, আগুয়ান থিবো কোর্তোয়াকে দারুণভাবে কাটিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত পারেননি শট নিতে। ২৩তম মিনিটে নিকলাস ফুয়েলখুগের শট কোর্তোয়াকে ফাঁকি দিয়ে লাগে পোস্টে। দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণ শাণায় রিয়াল। তবে ডি-বক্সের বাঁ কোণা থেকে টনি ক্রুসের বাঁকানো ফ্রি-কিক ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ফেরান গোলরক্ষক। একই কর্নারে হেড মিস করেন দানি কারভাহাল। ৫৭তম মিনিটে বক্সে ফাঁকায় বল পেয়েও নিয়ন্ত্রিত শট নিতে পারেননি কারভাহাল। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণের রেশ ধরে রিয়াল এগিয়ে যায় ৭৪তম মিনিটে। পরপর দুটি কর্নার আদায় করে নেয় তারা। গোলটা আসে টনি ক্রুসের কর্নারে। বিদায়ি জার্মান গ্রেটের দ্বিতীয় কর্নারে দুর্দান্ত কোনাকুনি হেডে ঠিকানা খুঁজে নেন কারভাহাল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কারভাহালের দ্বিতীয় গোল এটি। প্রথমটি ২০১৫-১৬ মৌসুমে গ্রুপ পর্বে। গোল পেয়ে আক্রমণের ঝড় বইয়ে দেয় রিয়াল। বারবার হানা দেয় বরুশিয়ার রক্ষণে। ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ৮৩তম মিনিটে এগিয়ে যায় তারা। নিজেদের সীমানায় খুব বাজে ভুল করে বসেন ডিফেন্ডার ইয়ান মাটসেন। তার ভুল পাস ধরে বেলিংহাম বক্সে ফাঁকায় খুঁজে পান ভিনিসিয়ুসকে। বাকি কাজটা অনায়াসে করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। ম্যাচে দুই গোলে এগিয়ে থাকার রেশটা বাকি সময়েও ধরে রাখে রিয়াল। ফলে আর ঘুরে দাঁড়ানো হলো না বরুশিয়ার। ১১ বছর আগে এই মাঠেই অল জার্মান ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে হেরেছিল ডর্টমুন্ড। সেখানেই আরো একবার ইউরোপসেরার মুকুট পরার স্বপ্ন চূর্ণ হলো তাদের।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App