×

খেলা

বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন জাভি

Icon

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ ডেস্ক : প্রয়োজন শেষ প্রয়োজনের সময় ব্যবহৃত জিনিস ছুড়ে ফেলে দেয়ার অভ্যাস রয়েছে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার। হতাশার বিষয় হলো এখনো তারা সেই গণ্ডি থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি। সম্পর্ক ছিন্ন করার সময় যে ন্যূনতম সৌজন্যতাবোধ প্রদর্শন করতে হয় তা জানে না কাতালান জায়ান্ট ক্লাবটি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে যখন কোচ জাভি হার্নান্দেজ নিজ থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন তখন হন্য হয়ে কোচ খুঁজেও ব্যর্থ হয়ে পুনরায় জাভিকে কোচ হিসেবে থাকার জন্য রাজি করায় বার্র্সা কর্তৃপক্ষ। তাতে ২০২৫ মৌসুম পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করে জাভি। তবে শেষপর্যন্ত গত শুক্রবার ক্লাবের আর্থিক বিষয় নিয়ে কথা বলার জেরে জাভিকে বরখাস্ত করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। এবারের চুক্তির মেয়াদ শেষ না হওয়ার আগে বরখাস্ত করার কারণে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ক্যাম্প ন্যুয়ের ক্লাবটি। বার্সেলোনা থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৯০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতিপূরণ পাবেন জাভি।

২০২১ সালের নভেম্বরে কোচ হয়ে বার্সেলোনার ডাগআউটে দাঁড়ান বার্সেলোনার একসময়ের খেলোয়াড় জাভি হার্নান্দেজ। জরিমানার পুরো অর্থ পাবেন না জাভি। অর্ধেক যাবে তার পকেটে, বাকিটা কোচিং স্টাফের অন্য সদস্যরা পাবেন। স্প্যানিশ দৈনিক লা ভ্যানগার্দিয়া জানিয়েছে, এই আর্থিক ক্ষতিপূরণ দুই ভাগে বিভক্ত হবে। প্রধান কোচ হিসেবে জাভি পাবেন অর্ধেকটা। অর্থাৎ, ৭৫ লাখ ইউরো (৯৫ কোটি টাকার মতো)।

দেশটির আরেক ক্রীড়া দৈনিক ‘এএস’ জানিয়েছে, লা লিগায় কোচদের ক্ষেত্রেও যেহেতু বেতনসীমা-সংক্রান্ত নীতি আছে, তাই পাওনা টাকা থেকে কিছুটা ছাড় দেবেন জাভি। ৭৫ লাখ ইউরোর পরিবর্তে তিনি ৭০ লাখ ইউরো (৮৯ কোটি টাকা) নেবেন। এতে করে নিজের লভ্যাংশ কিছুটা কম হলেও বার্সাকে আর্থিক সংগতি নীতি ভাঙার ঝামেলায় পড়তে হবে না। ছাঁটাই করার পরও বিদায়বেলায়ও বার্সার প্রতি এমন ভালোবাসা দেখে ক্লাবটির বোর্ড ও ক্রীড়া কমিশন তাকে ‘ক্লাবের প্রিয়পাত্র’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

বরখাস্তের পরও প্রাণের ক্লাবটিতে আড়াই মৌসুম কাটাতে পেরে গর্বিত বোধ করছেন জাভি। নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ভক্তদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তায় এই কোচ বলেন, ‘প্রিয় ভক্তরা, বার্সার ডাগআউটে আমার সময় শেষ হতে যাচ্ছে রবিবার। প্রাণের ক্লাবটি থেকে চলে যাওয়াটা সহজ নয়। কিন্তু আড়াই বছরের মতো হেড কোচ হিসেবে ড্রেসিংরুমে থাকাটা আমার কাছে ছিল দ্বিতীয় বাড়ির মতো, যা নিয়ে আমি খুবই গর্বিত।’

‘সমর্থন ও ভালোবাসার জন্য ভক্তদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। যারা সব সময় আমার পাশে ছিল এবং ফুটবলার থাকার সময় যে সম্মান দেয়া হয়েছিল, সেই একই সম্মান আমাকে দিয়েছেন তারা। রবিবার থেকে স্ট্যান্ডে আমি আরেকজন বার্সাসমর্থক হিসেবে থাকব, হোক সেটা এখনকার এস্তাদি অলিম্পিকে বা কয়েকমাস পর ক্যাম্প ন্যুতে। কারণ খেলোয়াড় বা কোচ হওয়ার আগে আমি একজন বার্সাভক্ত এবং প্রাণের ক্লাবটির সবচেয়ে ভালো করুক, এটাই চাই আমি। দুর্দান্ত স্টাফ ও এক দল অসাধারণ খেলোয়াড়ের সঙ্গে কাজ করেছি আমি। গত বছর লিগ ও সুপার কাপ নিয়ে যে লক্ষ্য ঠিক করেছিলাম আমরা, সেটা অর্জন করায় তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। এই মৌসুমে আমরা যেমন চেয়েছিলাম, সেভাবে কাটাতে পারিনি, তবে লা মাসিয়ার নতুন প্রজন্মের তরুণ ফুটবলারদের বেড়ে উঠতে সাহায্য করেছি আমরা। যারা সমস্ত বার্সাভক্তদের রোমাঞ্চিত করে। ভক্ত, স্টাফ, ক্লাবের কর্মচারী, প্রেসিডেন্ট, বোর্ড অব ডিরেক্টর, স্পোর্ট ডিরেক্টর, মিডিয়া এবং যাদের সঙ্গে এই আড়াই মৌসুম কাটিয়েছি তাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।’

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App