×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

খেলা

ফেডারেশন কাপ

মোহামেডানকে হারিয়ে বসুন্ধরার রোমাঞ্চকর ট্রেবল জয়

Icon

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মোহামেডানকে হারিয়ে বসুন্ধরার রোমাঞ্চকর ট্রেবল জয়

কাগজ প্রতিবেদক : প্রায় এক যুগ পর দেশের ফুটবল অঙ্গন আবারো অবিস্মরণীয় একটি মুহূর্তের সাক্ষী হলো। পুনরাবৃত্তি হলো শেখ রাসেলের পরে কোনো ক্লাবের ট্রেবল জয়ের ইতিহাসের। গতকাল ফেডারেশন কাপের ফাইনালে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে লিগ শিরোপা নিশ্চিত করেছে দেশের অন্যতম সফল ক্লাব বসুন্ধরা কিংস। দারুণ এ জয়ের মধ্য দিয়ে ১২ বছর পর দেশীয় ফুটবল ইতিহাসে দ্বিতীয় ক্লাব হিসেবে প্রিমিয়ার লিগ, স্বাধীনতা কাপ এবং সর্বশেষ ফেডারেশন কাপ জয়ের মাধ্যমে ট্রেবল জয় স্বাদ গ্রহণ করল অস্কার ব্রুজোনের শিষ্যরা। গতকালের ম্যাচটি ছিল মোহামেডানের সামনে ছিল চিরপ্রতিদ্ব›দ্বী আবাহনীর সমান ফেডারেশন কাপ জয়ের সুযোগ। অন্যদিকে কিংসের সামনে স্বপ্নের ট্রেবল জয়ের সুযোগ। যেখানে শেষ হাসিটা ছিল কিংসের ট্রেবল জয়ের। এর আগে ঘরোয়া ফুটবলের ইতিহাসে ২০১২-২০১৩ মৌসুমে দেশের প্রথম ক্লাব হিসেবে ট্রেবল জয় করেছিল শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র।

ময়মসসিংহের রফিক উদ্দিন ভুঁইয়া স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ ছিল গতকাল। ফেডারেশন কাপের ফাইনালে ১২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে মোহামেডানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফেডারেশন কাপের শিরোপা জিতেছে বসুন্ধরা কিংস। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসে দুই দল। শুরুতে আক্রমণের চেষ্টা চালিয়ে গেলেও পরিষ্কার কোনো গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না কোনো দলই। প্রথমার্ধে বসুন্ধরা কিংসের চেয়েও সুযোগ বেশি পেয়েছে মোহামেডান। ম্যাচের ৪০ মিনিটে ইমানুয়েল সানডে থেকে মোজাফফরভের পা হয়ে বল পেয়ে দিয়াবাতে যে মিসটি করেছেন, সেটি নিয়ে আক্ষেপ হতেই পারে। কিংসের গোলকিপার মেহেদী হাসান ফিস্ট করে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন। তবে এর পরপরই রাইট উইঙ্গার আরিফ হোসেন দারুণভাবে দিয়াবাতেকে আবারো একটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু তার প্লেসিং লক্ষ্য খুঁজে পায়নি। এরপর কিংসও সুযোগ পেয়েছিল, যদিও তারা তা কাজে লাগাতে পারেনি। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড দরিয়েলতন সুযোগটি মিস করেন। আরেকটি সহজ সুযোগ মিস করেন সোহেল রানা জুনিয়র। মোহামেডানের বক্সের মধ্যে বল পেয়েও তাতে পা লাগাতে পারেননি তিনি। তাতে কোনো গোল ছাড়াই বিরতিতে যায় দুদল। বিরতিতে থেকে ফিরে শুধুই মোহামেডানের আধিপত্য। একের পর এক আক্রমণে কিছুটা দিশাহারাই হয়ে পড়ে কিংস। মোজাফফরভ তো ছিলেনই, ছিলেন ইমানুয়েল সানডে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে শাহরিয়ার ইমন আশরাফুল হক আসিফের জায়গায় মাঠে নেমে মোহামেডানের খেলাই পাল্টে দেন। ম্যাচের ৬০ মিনিট থেকে ৬৫ মিনিট পর্যন্ত কিংসকে একেবারে নাজেহালই করে ফেলে সাদা-কালোরা। কিংসের গোলকিপার মেহেদী হাসান পরপর তিনটি নিশ্চিত প্রচেষ্টা ঠেকান। তবে চতুর্থবার দলকে বাঁচাতে পারেননি শ্রাবণ। বক্সের বাইরে থেকে এমানুয়েল সানডের দুর্দান্ত শট পোস্টঘেঁষে জড়িয়ে যায় জালে। তাতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় মোহামেডান। যেটা ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের ৪ মিনিট আগেও বজায় রেখেছিলো সাদা-কালো জার্সিধারীরা। এরপর ব্যবধান বাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ পেলেও গফুরবেক, বিশ্বনাথ, শ্রাবণরা মোহামেডানের আক্রমণগুলো রুখে দিয়েছেন বারবার।

অন্যদিকে গোলপোস্টে বীরত্ব কম দেখাননি মোহামেডানের গোলরক্ষক সুজনও। ৭৬ মিনিটে ডরিয়েলটনের শট রুখে দিয়েছেন তিনি। এরপর ৮০ মিনিটে রবসনের বুলেট শট ফিরে আসে মোহামেডানের পোস্টে লেগে। পাল্টা আক্রমণ থেকে সোলেমান দিয়াবাতের শট রুখে দেন কিংসের গোলরক্ষক। ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার খেসারত দিতে হয়েছে মোহামেডানেকে ৮৬ মিনিটে গোল হজম করে। রবসনের দুটি শট রুখে দিয়েছিলেন মোহামেডানের গোলরক্ষক। কিন্তু ৮৬ মিনিটে মিগুয়েলের শট আটকাতে পারেননি সুজন। প্রায় মধ্যমাঠ থেকে নিজেই একটা বল নিয়ে প্রায় একক প্রচেষ্টায় ঢুকে কিংসকে সমতায় ফেরান তিনি। এমন অভাবনীয় কামব্যাকে ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি। তারপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোলটি পেয়ে যায় বসুন্ধরা কিংস। ডান প্রান্ত থেকে কিংসের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড মিগুয়েল দামাসেনোর কর্নার উড়ে এল মোহামেডানের বক্সে। গোলকিপার সুজন হোসেন গ্রিপ করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি সেটি পারেননি। ভারসাম্য হারিয়ে কিছুটা হতভম্বই হয়ে পড়েছিলেন। এই ফাঁকে কাজের কাজটি করে দেন বসুন্ধরা কিংসের বদলি ফুটবলার জাহিদ হোসেন। জটলার মধ্য থেকে তিনি বল ঠেলে দেন জালে। কিংসের জয়ের উদযাপনের মধ্যেই মোহামেডান দলের প্রতিবাদ।

তাদের দাবি, বল যখন বাতাসে তখন গোলকিপার সুজনকে ধাক্কা দিয়েছিলেন কিংসের কোনো ফুটবলার। তীব্র উত্তেজনায় মোহামেডানের ডাগআউট থেকে মাঠে ঢুকে পড়লেন কোচিং স্টাফ ও অতিরিক্ত খেলোয়াড়রা। পরে কোচ আলফাজ দলকে তুলে নিলেন মাঠ থেকে। খেলা বন্ধ থাকল ১০ মিনিটের মতো। এরপর আবারো খেলা মাঠে গড়ালেও আর কোনো গোলের দেখা পায়নি মোহামেডান। তাতে রানার্সআপ ট্রফি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো তাদের।

** চ্যাম্পিয়ন : বসুন্ধরা কিংস

** রানার্সআপ : মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লি.

** ফেয়ার প্লে : আবাহনী লিমিটেড, ঢাকা

** সেরা খেলোয়াড় : রবসন রবিনহো

** সেরা গোলদাতা : ওয়াশিংটন ব্রান্দাও

** সেরা গোলকিপার : মেহেদী হাসান শ্রাবণ

** ম্যান অব দ্য ফাইনাল : মিগেল ফিগুয়েরা

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App