×

খেলা

জিতলে সমতা হারলে সিরিজ হাতছাড়া টাইগারদের

Icon

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জিতলে সমতা হারলে সিরিজ হাতছাড়া টাইগারদের

কাগজ প্রতিবেদক : ইতিহাস গড়ল প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নাম লেখানো দল যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেট। ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে টাইগারদের ৫ উইকেটে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের যে কোনো ফরম্যাটে এই প্রথম বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে নেমেই জয়ের ইতিহাস গড়ল যুক্তরাষ্ট্র। তাতে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির সিরিজ হার দিয়ে শুরু করে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ল বাংলাদেশ। আজ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ যদি টাইগাররা নিজেদের করতে পারে তাহলে সমতায় ফিরবে তারা। যদি প্রথম ম্যাচের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে তাহলে হার দিয়ে লজ্জাজনক ইতিহাস গড়বে হাথুরুসিংহের শিষ্যরা।

বাংলাদেশের টেস্টপূর্ব যুগে আইসিসি ট্রফিতে দুদলের সাক্ষাৎ হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গতকালই প্রথমবার মুখোমুখি হয় তারা। প্রথম দেখাতেই ঐতিহাসিক জয়ই তুলে নিয়েছে স্বাগতিকরা। টি-টোয়েন্টির র‌্যাঙ্কিংয়ে ১০ ধাপ এগিয়ে থাকা বাংলাদেশকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে আইসিসির সহযোগী সদস্য এই দেশটি। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ভরাডুবিতে ৫ উইকেটে হারের পর বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে টাইগার ক্রিকেটারদের সামর্থ্য নিয়ে পুরনো প্রশ্নটা আরো জোরালো হচ্ছে। গতকাল টস হেরে টপঅর্ডারের লিটন-শান্ত-সৌম্যদের ব্যর্থতার পর হৃদয়ের ফিফটিতে টেনেটুনে ১৫৩ রানের পুঁজি গড়েছিল বাংলাদেশ। যেখানে দলের স্কোর পঞ্চাশ ছুঁতেই ড্রেসিংরুমে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্তও। প্রথম ১০ ওভারে রান ওঠে কেবল ৬৫। হৃদয়ের ৪৭ বলে ৫৮ আর মাহমুদউল্লাহর ২২ বলে ৩১ রানের মান বাঁচানো ইনিংসে দেড়শ রান পেরোয় বাংলাদেশ। তবে পুঁজিটা মোটেও ডিফেন্ড করার মতো ছিল না সেটি হাড়ে হাড়ে বুঝিয়েছেন স্বাগতিক ব্যাটাররা। ১৫৪ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২৮ বলে ৬২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে যুক্তরাষ্ট্রকে স্মরণীয় জয় এনে দেন হারমিত ও কোরি অ্যান্ডারসন। ৯৪ রানে ৫ উইকেট পতনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩১ বলে ৬০ রান। মুস্তাফিজের করা ১৭তম ওভারে হারমিতের দুই ছক্কায় ১৭ রান পায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে শেষ ৩ ওভারে ৩৮ রান দরকার পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের। শরিফুলের করা ১৮তম ওভারে ১৪ এবং মুস্তাফিজের করা ১৯তম ওভারে ১৫ রান নেন হারমিত ও অ্যান্ডারসন। ফলে শেষ ওভারে জয়ের জন্য ৯ রানের সমীকরণ পায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর মাহমুদউল্লাহর করা শেষ ওভারের প্রথম বলে অ্যান্ডারসন ছক্কা ও তৃতীয় বলে চার মেরে যুক্তরাষ্ট্রকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন হারমিত। ষষ্ঠ উইকেটে হারমিত ও অ্যান্ডারসনের ২৮ বলে অবিচ্ছিন্ন ৬২ রানের জুটিতেই জয়ের স্বাদ পায় যুক্তরাষ্ট্র। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে টপঅর্ডারদের ব্যাটিং ব্যর্থতা। তারওপর আবার যোগ হয়েছে রান খরচে কার্পণ্য না করা।

গতকালের হারার ম্যাচে দুটি উইকেট পেলেও ৪ ওভারে মোস্তাফিজ একাই খরচ করেছেন ৪১ রান। যা বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে খারাপ ইকোনমিক্যাল বোলিং। যদিও তাকে নিয়ে সন্তুষ্ট টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি বলেছেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে এমনটা হতেই পারে। আমরা আমাদের প্ল্যান কাজে লাগাতে পারিনি। আমরা সবাই জানি মোস্তাফিজ কতটা ভালো। আমরা মোস্তাফিজের বোলিং নিয়ে চিন্তিত নই। আমাদের পরের ম্যাচে দল হিসেবে খেলতে হবে।’

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে গতকাল বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা ভালো ব্যাটিং করিনি। প্রথম দুই ওভারে ভালো শুরু করেছিলাম। কিন্তু মাঝে উইকেট হারিয়েছি। নাহলে আমরা আরো ২০ রান বেশি করতে পারতাম। তাতে ম্যাচের চিত্রটা ভিন্ন হতো। আমার মনে হয় ভালো উইকেটে খেলছি না।

জিম্বাবুয়ে সিরিজেও একই অবস্থা ছিল। তবে এটা মানসিক ব্যাপার। আশা করি, (পরের ম্যাচে) ব্যাটাররা ঘুরে দাঁড়াবে। স্পিনাররা ভালো বোলিং করেছে। তবে পেসাররা শেষ দুই-তিন ওভারে পরিকল্পনা মতো বোলিং করতে পারেনি। আশা করি পরের ম্যাচে ভালো করবে।’

পরিসংখ্যান বলছে টি-টোয়েন্টিতে বিশ্বকাপে কখনোই ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। যে কারণে এবারো টাইগারদের নিয়ে খুব একটা প্রত্যাশা দেখছেন না সমর্থকরা। দেশ ছাড়ার আগে বেশি আশা করতে নিষেধ করে গেছেন অধিনায়ক ও নির্বাচকরাও। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে এভাবে হেরে যাবে এটা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য ছিল। বাংলাদেশের হারের পরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। যেখানে বরাবরের মতো লিটন, শান্তদের ফর্মহীন হয়ে স্কোয়াডে জায়গার পাওয়ার প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে বাংলাদেশ কী করবে তা নিয়ে বেশ জোরেশোরে আলোচনা হচ্ছে। আবার অনেকেই ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২২ এ আর্জেন্টিনার হারের উদাহরণ টেনে টাইগারদের পক্ষে থাকার পক্ষেও কথাও বলেছেন। কথায় আছে আপনি যদি হার মেনে নিতে না পারেন তাহলে আপনি বড় দলের সর্মথক হতে পারবেন না। আর আমরা হাল না ছাড়া জাতি। শেষপর্যন্ত শান্তর ওপর ভরসা রেখে পরের ম্যাচে (আজকে) কামব্যাকের আশা রাখাটা এখন উচিত।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App