×

খেলা

ক্রিস্টালের কাছে লজ্জার হার ইউনাইটেডের

Icon

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ক্রিস্টালের কাছে লজ্জার হার ইউনাইটেডের
কাগজ ডেস্ক : ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সেলহার্স্ট পার্কে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ৪-০ গোলে হেরেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। জোড়া গোল করেছেন প্যালেসের ফরাসি ফরোয়ার্ড মিকায়েল ওলিসে। এছাড়া জ্যাঁ-ফিলিপে মাতেতা ও টাইরিক মিচেল একটি করে গোল করেছেন। এই নিয়ে লিগে শেষ ১০ ম্যাচের চারটিতেই হারল টেন হ্যাগের দল। বাকি ছয় ম্যাচের চারটি ড্র এবং জয় পেয়েছে মাত্র দুটিতে। এই হারে সামনের মৌসুমে ইউরোপের কোনো প্রতিযোগিতায় খেলার আশা কার্যত শেষ হয়ে গেল রেড ডেভিলদের। শুধু তাই নয়, এই হারে ৩৫ ম্যাচ থেকে ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের অষ্টম স্থানে নেমে গেছে ম্যানইউ। যা তাদের প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। অবশ্য টেন হ্যাগের হাতে এখনো তিন ম্যাচ আছে ঘুরে দাঁড়ানোর। তিন ম্যাচে ভালো করতে পারলে টেবিলে উন্নতি হবে। এর আগে ডেভিড ময়সের সময়ে সর্বনিম্ন সপ্তম স্থানে থেকে লিগ শেষ করেছিল ম্যানচেস্টারের দলটি। এর আগে মৌসুমের শুরুতে গত সেপ্টেম্বরে ম্যানইউর মাঠ ওল্ড ট্রাফোর্ডে এসে ১-০ গোলে হারিয়েছিল ক্রিস্টাল প্যালেস। এবারের পরাজয়টা একটু বেশিই লজ্জার। এক হালি গোল হজম করতে হয়েছে তাদের। এরিক টেন হাগের ওপর চাপ যে আরো বাড়ল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। প্যালেসের মাঠে এদিন সফরকারী ম্যান ইউনাইটেড দল নেমেছিল তাদের অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নানেন্দজকে ছাড়াই। ইনজুরির কারণে এই ম্যাচ থেকে ছিটকে যান পর্তুগালের এই তারকা ফুটবলার। ক্যারিয়ারে এই প্রথম ইনজুরির কারণে ম্যাচ খেলতে পারলেন না ইউনাইটেড অধিনায়ক। প্রিমিয়ার লিগের জায়ান্ট ক্লাবটিতে যোগ দেয়ার পর এর আগে পাঁচটি ম্যাচ মিস করলেও তার কোনটিই ইনজুরির কারণে ছিল না। ইনজুরির কারণে এদিন রক্ষণভাগ সাজাতেও হিমশিম খেয়েছেন ইউনাইটেডের কোচ এরিক টেন হ্যাগ। এদিন দলে ছিলেন না সেন্টারব্যাক হ্যারি ম্যাগুয়েরও। বাধ্য হয়ে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরোকে সেন্টারব্যাক হিসেবে খেলিয়েছে তারা। জোড়াতালি দিয়ে বানানো ইউনাইটেড দলকে ম্যাচের শুরু থেকেই নাচাতে থাকে প্যালেস। ম্যাচের ১২ মিনিটেই গোল হজম করে ম্যানইউ। রক্ষণভাগের দুর্বলতায় প্যালেসের মাইকেল ওলিসে গোল করে এগিয়ে নেন দলকে। থ্রো-ইনে মুনোজ খুঁজে নেন ওলিসেকে। এরপর বল পায়ে ক্যাসেমিরোকে নাচিয়ে তিনি পৌঁছে যান ইউনাইটেডের ডি-বক্সে। এরপর দ্রুতই বাঁকানো প্লেসিং শটে ওনানাকে পরাস্ত করেন নিউক্যাসলের এই উইঙ্গার। ১৮ মিনিটে সুযোগ আসে ইউনাইটেডের সামনে। কিন্তু ডি-বক্সের ভেতর থেকে নেয়া মেসন মাউন্টের শট নিউক্যাসলের রক্ষণ দুর্গ থেকে ফিরে আসে। ২১ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ হারায় ঈগলরা। ওলিসের গড়ানো শট ইউনাইটেডের রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিলেও ফিরে আসে তার দলেরই মাতেতার গায়ে লেগে। ২৬ মিনিটের সময় জটলা থেকে বল নিউক্যাসলের জালে জড়িয়ে যায়। কিন্তু বল জালে জড়ানোর আগে ইউনাইটেডের হয়লুন্দ অবৈধভাবে বাধা দেন ঈগলদের গোলরক্ষক হেন্ডারসনকে। ফলে রেফারি ফাউলের কারণে তা বাতিল করেন। ২৮ মিনিটে ওলিসেকে ওয়ান টু ওয়ানে পরাস্ত করেন ওনানা। ফলে বেঁচে যায় ইউনাইটেড। প্রথমার্ধের পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ম্যাগপাইরা। বা প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে বুলেট গতির শট নেন ফিলিপ মাতেতা। ওনানার সাধ্যই ছিল না সে শট ঠেকানোর। দ্বিতীয়ার্ধেও ইউনাইটেড নিজেদের ছায়া হয়ে ছিল। এরই মধ্যে ৫৯ মিনিটে তৃতীয় গোল আদায় করে নেয় ঈগলরা। ওয়ার্টন ডান প্রান্ত থেকে ক্রস বাড়ান। অ্যান্ডারসন ব্যাক পোস্টে বল পেলেও দালোতের বাধায় টোকা মেরে সামনে দিয়ে দেন। অরক্ষিত মিচেল দ্রুত বলের কাছে পৌঁছে দারুণ এক শটে জাল কাঁপান। ৬৮ মিনিটে ঈগলদের হয়ে গোল উৎসবের ইতি টানেন প্রথম গোল করা ওলিসে। মুনোজ ক্যাসেমিরোকে বাইলাইনে ছিটকে ফেলেন এবং দ্রুত ডি-বক্সের কোনায় ওলিসেকে খুঁজে নেন। বা পায়ের জোরালো শটে চমৎকার দক্ষতায় বল জালে জড়ান এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। এই ম্যাচে মোট আটবার প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের দ্বারা ড্রিবল পাস্ট হয়েছেন ক্যাসেমিরো, যা প্রিমিয়ার লিগে এই মৌসুমে এক ম্যাচে যে কোনো খেলোয়াড়ের জন্য সর্বোচ্চবার। ৩৫ ম্যাচ শেষে ম্যানইউর পয়েন্ট এখন ৫৪। তারা রয়েছে অষ্টম স্থানে। ৬ষ্ঠ স্থানে থাকা নিউক্যাসলের চেয়ে ২ পয়েন্ট পিছিয়ে। এই অবস্থানেই থেকে যদি লিগ শেষ করতে হয়, তাহলে ম্যানইউর কপালে আগামী মৌসুমে ইউরোপিয়ান কোনো টুর্নামেন্টেই খেলার সুযোগ থাকবে না। ক্রিস্টাল প্যালেস রয়েছে ১৪তম স্থানে। ৩৬ ম্যাচ শেষে তাদের পয়েন্ট ৪৩। প্রিমিয়ার লিগে পয়েন্ট টেবিলের শীর্র্ষে রয়েছে আর্সেনাল, দ্বিতীয় স্থানে ম্যানচেস্টার সিটি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App