×

খেলা

ডিপিএলে ৮ উইকেট নিয়ে রাজার রেকর্ড

অপরাজিত থেকেই লিগ সম্পন্ন আবাহনীর

Icon

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

অপরাজিত থেকেই লিগ সম্পন্ন আবাহনীর
কাগজ প্রতিবেদক : ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সুপার লিগের শেষ রাউন্ডে গতকাল শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ৪ উইকেটের জয় পেয়ে টুর্নামেন্টের সবগুলো ম্যাচে অপরাজিত থেকে লিগ শেষ করল ঐতিহাসিক ক্লাব আবাহনী লিমিটেড। এর আগে সুপার সিক্সের ৩য় রাউন্ডেই লিগ শিরোপা নিশ্চিত করে আকাশি-নীল জার্সিধারীরা। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ২৩৪ রানের পুঁজি গড়ে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব। জবাবে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৬ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় আবাহনী। আকাশি-নীল জার্সিধারীদের জয়ের নায়ক ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ১১০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস হাঁকানো এনামুল হক বিজয়। এদিকে দিনের অন্য ম্যাচে সাকিব আল হাসানের দল শেখ জামাল ধানমন্ডির বিপক্ষে ১৯৯ রানের বিশাল ব্যাবধানে জয় পেয়েছে তামিম ইকবালের প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ২৭০ রানের পুঁজি গড়ে প্রাইম ব্যাংক। জবাবে ব্যাট করতে নামা শেখ জামালকে মাত্র ৭১ রানেই থামিয়ে দেয় তারা। প্রাইম ব্যাংকের হয়ে ১০টি উইকেটের ৮টিই নিয়েছেন রহমান রেজাউর রাজা। এদিকে শেখ জামালের হয়ে চারটি উইকেট নিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ৪০০ উইকেটের সংগ্রাহক সাকিব আল হাসান। দিনের অন্য ম্যাচে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে ৫৩ রানের জয় পায় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ডিপিএলের ইতিহাসে সুদীর্ঘ ১৫ বছর পর টেবিলের দুয়ে থেকে তথা রানার্স আপ হয়ে লিগ শেষ করল সাদা-কালোরা। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ১৭৬ রানের পুঁজি গড়ে মোহামেডান। জবাবে ব্যাট করতে নামা গাজী গ্রুপ গুটিয়ে যায় ১২৩ রানেই। ২ ম্যাচ আগেই শিরোপা নিশ্চিত হয়েছে আবাহনীর। বাকি ছিল অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনুষ্ঠানিকতা। শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবকে হারিয়ে চলমান ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সেই আনুষ্ঠানিকতা সারল আবাহনী। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে সবচেয়ে মর্যাদার টুর্নামেন্টে আকাশি-নীল জার্সিদের এটি ২৩তম শিরোপা। লিগের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯ বার শিরোপার স্বাদ পেয়েছিল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। এছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৬ বার, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব ৪ বার, ওল্ডডিওএইসএস ক্রিকেট ক্লাব দুইবার এবং একবার করে শিরোপা জিতেছিল শেখ জামাল, প্রাইম ব্যাংক, গাজী গ্রুপ, ও গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্স। গতকাল মিরপুরে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ৮ উইকেটে ২৩৪ রান করে শাইনপুকুর। তাড়া করতে নেমে ৪৬.১ ওভারে ৪ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে আবাহনী। বিজয় ১১০ রানে অপরাজিত ছিলেন। তার ১২০ বলের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৭টি চার ও ৪টি ছক্কায়। সেঞ্চুরির দেখা পান ১১৪ বলে। তার সঙ্গে জারিফ রহমান অপরাজিত ছিলেন ১১ রানে। এদিকে দিনের অন্য ম্যাচে প্রাইম ব্যাংকের পেসার রেজাউর রহমান রাজা মাত্র ২৩ রানে ৮ উইকেটের অবিশ্বাস্য বোলিং উপহার দেন। তাও সাকিব আল হাসানদের দল শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের বিপক্ষে। রাজার বোলিং তোপে মাত্র ৭১ রানে অল আউট শেখ জামাল। ফতুল্লায় আগে ব্যাটিং করতে নেমে প্রাইম ব্যাংক সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৭০ রান করে। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রাজার বিধ্বংসী বোলিংয়ে শেখ জামাল ম্যাচ হেরে যায় ১৯৯ রানে। ২৩ রানে ৮ উইকেট নিয়ে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন রাজা। এর আগে পেসার ইয়াসির আরাফাত মিশু গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের হয়ে আবাহনীর বিপক্ষে ২০১৮ সালে ৪০ রানে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন। শেখ জামালের প্রথম দুই উইকেট নেন আরেক পেসার হাসান মাহমুদ। তৃতীয় বোলার হিসেবে রাজা বোলিংয়ে আসেন। দশম ওভারে বোলিংয়ে এসে প্রথম বলেই পেয়ে যান উইকেটের স্বাদ। আউট করেন ফজলে মাহমুদ রাব্বীকে। ওই ওভারের শেষ বলে রাজার শিকার হন সাকিব। ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে সাব্বিরের হাতে ক্যাচ দেন শূন্য রান করা সাকিব। পরের ওভারে ফিরে রাজা প্রথম বলেই তুলে নেন কাজী নুরুল হাসান সোহানের উইকেট। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু তাইবুর রহমান তার বল ঠেকিয়ে দেন। কিন্তু এক বল পরই তার শিকার বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান। ১৪তম ওভারে রিপন মণ্ডলের উইকেট নিয়ে রাজা পেয়ে যান ফাইফারের স্বাদ। শুরু ৩ ওভারেই ৫ উইকেট পেয়ে উড়ছিলেন ডানহাতি পেসার। এরপর পরের ৩ ওভারে তার পকেটে আরো ৩ উইকেট। সব মিলিয়ে ৬.৩ ওভারে দ্রুত গতির বোলার পেয়ে যান ৮ উইকেট। তার বোলিংয়ের সামনে কেউ দাঁড়াতেই পারেননি। প্রাইম ব্যাংকের হয়ে ইয়াসির আলী চৌধুরী সর্বোচ্চ ১৬ রান করেন। এছাড়া ১২ রান আসে সৈকত আলীর ব্যাট থেকে। বাকিরা সবাই ছিলেন সিঙ্গেল ডিজিটে। এর আগে শেখ জামালের আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রাইম ব্যাংক বড় সংগ্রহ পায় মুশফিক ও জাকির হাসানের ব্যাটে। জাকির ৯৫ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ৮৫ রান করেন। মুশফিক ৯৪ বলে করেন ৭৮ রান। এছাড়া তামিম ও হাসান মাহমুদ ২২ এবং নাজমুল অপু ১৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App