×

খেলা

আবাহনীকে হারিয়ে শিরোপার দ্বারপ্রান্তে বসুন্ধরা কিংস

Icon

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আবাহনীকে হারিয়ে শিরোপার দ্বারপ্রান্তে বসুন্ধরা কিংস
কাগজ প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ফুটবল প্রিমিয়ার লিগে গতকাল ঢাকা আবাহনীর বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় পেয়েছে বসুন্ধরা কিংস। বিজয়ী দলের পক্ষে গোল দুটি করেন দেশের তরুণ স্ট্রাইকার রাকিব হোসাইন ও ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার মিগেল ফিগেইরো। এদিকে ঢাকা আবাহনীর হয়ে একমাত্র গোলটি করেছেন গ্রানাডার মিডফিল্ডার কর্নেলিয়াস স্টুয়ার্ট। দিনের অপর ম্যাচে ফর্টিসের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয় পেয়েছে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র। শেখ রাসেলের হয়ে গোল করেছেন গাঞ্জু আতান্দা এবং একটি আত্মঘাতী গোল করেছেন ফর্টিসের আব্দুল্লাহ ওমর সজিব। এদিকে ফর্টিসের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছেন পা ওমার বাবু। দিনের অপর ম্যাচে রহমতগঞ্জ এমএফএসের বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় পেয়েছে পুলিশ এফসি। পুলিশের হয়ে গোল করেছেন শাহেদ হোসাইন মিয়াহ ও এডওয়ার্ড এনরিখ মরিলো। এখন পর্যন্ত ১৪ ম্যাচে ১২ জয়ে সর্বোচ্চ ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থানে থেকে শিরোপার দ্বারপ্রান্তে বসুন্ধরা কিংস। শিরোপা নিশ্চিত করতে আর মাত্র একটি জয়ের প্রয়োজন কিংসের। সমান ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে দুয়ে রয়েছে মোহামেডান। এদিকে তিনে থাকা আবাহনীর পয়েন্ট সমান ম্যাচে ২৫। সমান ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষ চারে রয়েছে পুলিশ এফসি। ১৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে (৮) রয়েছে শেখ রাসেল। অন্যদিকে ১০ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে রয়েছে রহমতগঞ্জ এমএফএস। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় গতকাল আবাহনী লিমিটেডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পথ মসৃণ করেছে অস্কার ব্রুজনের দল। আগামী ম্যাচে আরেক পরাশক্তি মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে হারাতে পারলেই তিন ম্যাচ হাতে রেখে শিরোপা নিশ্চিত হবে কিংসের। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে এর আগে কোনো দলই এমন কীর্তি গড়তে পারেনি। ঘরের মাঠে বরাবরই অপ্রতিরোধ্য কিংস। এর প্রতিফলন দেখা গেল আবাহনীর বিপক্ষেও। প্রথমার্ধেই ২-০ গোলের লিড নেয় কিংস। দ্বিতীয়ার্ধে আবাহনীর ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও শেষ হাসি হেসেছে স্বাগতিকরাই। আগামী মঙ্গলবার ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালেও বসুন্ধরার প্রতিপক্ষ আবাহনী। সেই ম্যাচের আগে এই জয় কিংসের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যায় বসুন্ধরা কিংস। ছোট করে কর্নার নেন মিগেল ফিগেইরো, বল পান মাসুক মিয়া জনি। ফিরতি পাস দেন মিগেলকেই, দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে শট নেন এই ব্রাজিলিয়ান। তার শট আবাহনীর গোলরক্ষক ঠেকালেও জটলার ভেতর থেকে ফিরতি শটে গোল করেন রাকিব হোসেন। মৌসুমে এটা তার নবম গোল। গোল হজমের পর শোধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে আবাহনী। তবে কিংসের শক্ত রক্ষণ ভেদ করতে পারছিলেন না আবাহনীর ফরোয়ার্ডরা। উল্টো ১৫ মিনিটে গোল হজম করতে বসেছিল দলটি। রবসনের দারুণ পাসে মিগেলের দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ম্যাচের ১৭ মিনিটে প্রতিপক্ষকে নিশ্চিত গোল বঞ্চিত করেন বিশ্বনাথ ঘোষ। এনামুলের ক্রসে হেড করেছিলেন কর্নেলিয়াস স্টুয়ার্ট। তবে বিশ্বনাথের ব্লকে গোলবঞ্চিত হতে হয় আবাহনীকে। যদিও কর্নেলিয়াস দাবি করেছিলেন পেনাল্টির। বিশ্বনাথের হাতে বল লেগেছে দাবি করেছিলেন তিনি। তাতে সায় দেননি রেফারি নাসির উদ্দিন। ১৮ মিনিটে ধাক্কা খায় কিংস শিবির। মিলাদ শেখের শট ফিরিয়ে দেন আনিসুর রহমান জিকো। ফিরতি বলে শট নিতে যান কর্নেলিয়াস স্টুয়ার্ট। তবে তার শট জিকোর মাথায় লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করে মাঠ ছাড়তে হয় কিংসের গোলরক্ষককে। তার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মেহেদী হাসান শ্রাবণ। ২৮ মিনিটে মিগেল ফিগেইরোর কর্নার ফিস্ট করে ফিরিয়ে দেন আবাহনীর গোলরক্ষক। তেবে ফিরতি বলে দোরিয়েলটেনের হেড সাইড বারে লেগে বেরিয়ে যায়। ৩২ মিনিটে পেনাল্টি পায় বসুন্ধরা কিংস। বল নিয়ে একাই বক্সের ভেতর ঢুকে পড়েন মিগেল ফিগেইরো। তাকে পেছন থেকে ফাউল করেন মিলাদ শেখ। ফলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি নাসির উদ্দিন। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেনি মিগেল। লিগে এটা তার সপ্তম গোল। দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধ করেতে মরিয়া হয়ে ওঠে আবাহনী। একের পর এক আক্রমণে কিংসের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখেন আবাহনীর ফরোয়ার্ডরা। এর ধারাবাহিকতায় ৫০ মিনিটে গোল পেয়ে যায় আবাহনী। ওয়াশিংটনের কাটব্যাকে ছয় গজ বক্সে স্লাইডিংয়ে বল জালে পাঠান কর্নেলিয়াস স্টুয়ার্ট। একটু পরেই সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন কর্নেলিয়াস। নিজেদের অর্ধে মাসুক মিয়া জনি বল হারালে তা পেয়ে বক্সে ঢুকেও পড়েন গ্রানাডিয়ান এই ফরোয়ার্ড। কিন্তু গোলরক্ষককে একা পেয়েও শট পোস্টে রাখতে পারেননি। ৬৪ মিনিটে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি আবাহনী। চারজন ফুটবলারের মাঝ দিয়ে কর্নেলিয়াসের থ্রæ পাস পান ওয়াশিংটন। গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল জালে জড়াতে পারেনিনি ওয়াশিংটন। তার শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন শ্রাবণ। দ্বিতীয়ার্ধে ভাগ্য যেন সহায় ছিল না আবাহনীর। ৬৮ মিনিটে কর্নেলিয়াসের শট সাইড নেট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। দুদলই নিজেদের স্কোর বাড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করতে পারেনি কোনো দলই। যোগ করা সময়ে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেয়া হৃদয়ের শট ক্রসবারে লাগলে আর সমতায় ফেরা হয়নি আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানির দলের।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App