×

খেলা

রোনালদো ঝলকে ফাইনালে আল নাসর

Icon

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রোনালদো ঝলকে ফাইনালে আল নাসর
কাগজ ডেস্ক : সৌদি প্রো-লিগে ধারাবাহিকভাবে নিজের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন পর্তুগিজ মহাতারকা রোনালদো। বল পায়ে জাদু দেখাচ্ছেন আল নাসরের এ তারকা। এবার তার জোড়া গোলে কিংস কাপের সেমিফাইনালে আল খালিজকে ৩-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে তারা। এদিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সেমিফাইনালে রাতের অপর ম্যাচে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে পিএসজি সৌদি আরবের রিয়াদে গত বুধবার আল খালিজের বিপক্ষের ম্যাচজুড়ে আলো ছড়ালেন রোনালদো। আর তাকে সঙ্গ দিলেন সেনেগাল তারকা সাদিও মানে। তাতে দুই অর্ধে রোনালদোর দুই গোলের মাঝে জালের দেখা পেলেন মানে নিজেও। ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ খেলতে থাকে আল নাসর। তাতে প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ১৭তম মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন রোনালদো। সতীর্থের ব্যাকপাস ক্লিয়ার করতে গিয়ে আল নাসরের একজনের পায়ে বল তুলে দেন আল খালিজ গোলরক্ষক। তাতে বক্সের কোনায় বল পেয়ে বুলেট গতির শটে জাল খুঁজে নেন পর্তুগিজ তারকা। গোল পেয়ে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে আল নাসর। তাতে প্রথমার্ধে আরো একটি গোল পেয়ে যায় তারা। এবার গোলদাতা সাদিও মানে। ডি-বক্সে আল নাসরের একজনকে ফেলে দেন আল খালিজের খেলোয়াড়। দেরি না করে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তাতে সফল স্পট কিক থেকে দলকে এগিয়ে নেন মানে। তাতে ২-০ ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে যায় আল নাসর। বিরতি থেকে ফিরে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধারাবাহিকতা ধরে রাখে আল নাসর। ৫৭তম মিনিটে সতীর্থের ফ্লিকে বল গোলমুখে পেয়ে শট নেন রোনালদো। গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে ঠেকালেও ফিরতি বল পেয়ে অনায়াসে লক্ষ্যভেদ করেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার। তাতে এ নিয়ে চলতি মৌসুমে আল নাসরের জার্সিতে ৩৯ ম্যাচে রোনালদোর গোল হলো ৩৮টি। ৮২তম মিনিটে একটি গোল শোধ করে আল খালিজ। তবে ততক্ষণে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ শেষ। এই আসরে সর্বশেষ ২০১৯-২০ মৌসুমে ফাইনাল খেলেছিল আল নাসর। সেবার তারা হেরেছিল আল হিলালের বিপক্ষে। আল নাসরের জন্য এবারের ফাইনাল তাই প্রতিশোধের উপলক্ষও। সব ঠিক থাকলে আগামী ৩১ মে জেদ্দার কিং আবদুল্লাহ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। এদিকে নিজেদের ঘরের মাঠে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইকে (পিএসজি) ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। তাতে প্রথম লেগে হেরে কিছুটা স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে লুইস এনরিকের শিষ্যদের। হারে এ রাতে অনেকটা নিস্প্রভ ছিলেন পিএসজি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। সিগনাল ইদুনা পার্কে গতকাল প্রথমার্ধে তিনটি শট নিয়ে একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি পিএসজি। এর দুটিই পোস্টের বাইরে মারেন উসমান দেম্বেলে। তবে নিজের ঘরের মাঠে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থকদের বলে বলীয়ান ডর্টমুন্ড পাঁচটি শট নিয়ে চারটিই লক্ষ্যে রাখে। এর মধ্যে ১৪ মিনিটে মার্সেল স্যাবিটজারের শট আটকান জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। ৪৪তম মিনিটেও স্যাবিটজারের আক্রমণ রুখে দেন পিএসজির এ গোলকিপার। তাতে ডর্টমুন্ড তাদের জয়ের গোলটি পায় ৩৬তম মিনিটে। নিজেদের অর্ধ থেকে নিকো শ্লটারবেক লম্বা করে বল বাড়ালে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নেন ফুলক্রুগ। এরপর বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান এই জার্মান ফরোয়ার্ড। তাতে ১-০ গোলে লিড নিয়ে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা। বিরতির পর সমতায় ফিরতে চাওয়া পিএসজি গোল পেয়ে যেতে পারত ৫১ মিনিটেই। তবে দুর্ভাগ্যবশত পরপর দুইবার বল লাগে গোলপোস্টে। প্রথমে এমবাপ্পের শট লাগে দূরের পোস্টে, ডর্টমুন্ড রক্ষণভাগ বল বিপদমুক্ত করতে না পারার একপর্যায়ে পেয়ে যান আশরাফ হাকিমি। তবে তার শট লাগে আবারো পোস্টে। এরপর বেশ কয়েকটি সুযোগ আসলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি এমবাপ্পেরা। ৬০ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করার সুযোগ ছিল ফুলক্রুগের সামনে। জোদান সানচোর বাড়ানো বল নিয়ে পুরো জাল সামনে পেলেও বল উপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন তিনি। একইভাবে ৮১ মিনিটে সুযোগ নষ্ট করেন পিএসজির দেম্বেলেও। তাতে শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে জয় নিশ্চিত করে ডর্টমুন্ড। ম্যাচে হারের পর যখন সবাই ব্যস্ত হিসাব মিলাতে তখন ঘটে গেল আরেক ঘটনা। পিএসজির দলীয় বাস এমবাপ্পেকে রেখেই চলে গিয়েছিল ডর্টমুন্ড বিমানবন্দরে। ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যম ‘লা পারিসিয়ান’ জানিয়েছে, সিগনাল ইদুনা পার্কে ড্রাগ টেস্টে অংশ নেয়ায় সতীর্থদের সঙ্গে দলীয় বাসে বিমানবন্দরে যেতে পারেননি এমবাপ্পে। পরে একটি প্রাইভেট কারে বিমানবন্দরে যোগ দেন সতীর্থদের সঙ্গে। তবে এটা স্বাভাবিক বলেই জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যমটি। এদিকে প্রথম লেগে এমন হারের পর কোচ লুইক এনরিক মনে করেছেন কোয়ার্টার ফাইনালের মতো সেমিতেও দ্বিতীয় লেগে ঘুরে দাঁড়াবে পিএসজি। কেননা এই ম্যাচ নিজেদের ঘরের মাঠ পার্ক দে প্রিন্সেসে খেলবে তারা। স্প্যানিশ সম্প্রচার মাধ্যম ক্যানেল প্লাসকে এনরিক বলেন, ‘এটা ফুটবল। বেশির ভাগ সময়ই এটা চমৎকার, তবে অন্যান্য সময় এমন কিছুই হয়। আমরা ভিন্ন পরিস্থিতিতে থাকতে চেয়েছিলাম।.... যেহেতু আমাদের সুযোগ ছিল, কিন্তু আমরা দুবারই পোস্টে মেরেছি। আপনাকে বলতেই হবে, এটা ব্যতিক্রমী একটি স্টেডিয়াম। কিন্তু আমি নিশ্চিত, আমরা প্যারিসে আরো শক্তিশালী থাকব, আমাদের হারানোর কিছু নেই।’

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App