×

খেলা

লেগ স্পিনারের আক্ষেপ গোছাল বিসিবি

Icon

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : অনেক দিন ধরে জাতীয় দলে লেগ স্পিনারের ঘাটতি দলকে বেশ ভুগিয়ে যাচ্ছিল, বিসিবিতে প্রায়ই লেগ স্পিনারের হা হুতাশ শোনা যায়। সর্বশেষ ২০১৪ সালে একজন লেগ স্পিনারের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। কোচের চাওয়া পূরণ করতে গিয়ে দেশের নিবন্ধিত ক্রিকেটারদের তালিকায় মাত্র একজন লেগ স্পিনার খুঁজে পেয়েছিল ফারুক আহমেদের নির্বাচক প্যানেল। তবে সময়ের পালাবদলে দলে লেগ স্পিনার ভেড়াতে উদ্যোগী হয়ে আট মাস আগে অনেকটা গোপনে মাঠে নামে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আর তাতে সবাইকে চমকে দিয়ে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ৮০ জন লেগ স্পিানারকে খুঁজে বের করেছেন গত বছরের অক্টোবর মাসে বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্টের লেগ স্পিন কোচ হিসেবে নিয়োগ পাওয়া পাকিস্তানের শাহিদ মাহমুদ। গত আট মাসে দেশের ৬৪ জেলা থেকে ৮০ জন লেগ স্পিনার খুজে বের করেছেন শাহিদ। জেলা ও বিভাগে ঘুরে ঘুরে খুদে লেগ স্পিনারদের নিজেই বাছাই করেছেন তিনি। গত ছয় মাস দেশের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে একশর মতো লেগ স্পিনারের একটা তালিকা করেছিলেন শাহিদ মাহমুদ। সেখান থেকে ট্রায়ালে ডাকা হচ্ছে ৮০ জনকে। এদের নিয়েই আগামী ৩ ও ৪ মে মিরপুরের একাডেমি মাঠে শাহিদ মাহমুদের তত্ত্বাবধানে ট্রায়াল ক্যাম্প হবে বলে জানান বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ম্যানেজার আবু ইমাম মোহাম্মদ কাওছার। তিনি জানান, ‘ট্রায়াল ক্যাম্প থেকে ২০ জন বোলারকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখা হবে। তিন সপ্তাহের স্কিল ক্যাম্পের পর ১২ থেকে ১৫ জন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে পরিকল্পনা নেয়া হবে।’ এদিকে গতকাল প্রাইম ব্যাংক স্কুল ক্রিকেট প্রতিভা অন্বেষণের পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে জাতীয় দলের লেগ স্পিনার ঘাটতি দূর করতে বিসিবির চলমান কার্যক্রম নিয়ে কথা বলেন বোর্ডের গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজন। তিনি জানান, ‘লেগ স্পিনার নিয়ে আমাদের বাড়তি চিন্তা আছে। ডেভেলপমেন্টে শাহিদ মাহমুদ আছে লেগ স্পিনার কোচ হিসেবে। আপনারা হয়তো জানেনও না, আমরা জানাইনি, গত আট মাস ধরে উনি আমাদের সঙ্গে আছেন। ইতোমধ্যেই অনেক লেগ স্পিনার খুঁজে বের করেছি আমরা। ৮০ জন খুঁজে বের করেছি। শাহিদ বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে গিয়েছে। রংপুর, ফরিদপুর, রাজশাহী, ওখানে গিয়ে কাজ করে আমরা ট্যালেন্টগুলোকে বের করেছি।’ এরপর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে লেগ স্পিনারদের সুযোগ কম পাওয়া প্রসঙ্গে সুজন বলেন, ‘এখনও হয়ত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলার মতো স্ট্যান্ডার্ড হয়নি। সেজন্যে অনেক ছেলে খেলতে পারছে না। আমি আরেকটা কথা বলি, ঢাকার প্রথম, দ্বিতীয় বিভাগে কেউ লেগ স্পিনার খেলাতে চায় না। লেগ স্পিনাররা একটা বাজে বল করে ছয় খায়, সেটা কেউ মানতে চায় না। আপনি যদি সেকেন্ড থার্ড ডিভিশন ফলো করেন, ওখানে স্পিনাররা দশ ওভারে ১৮ রান দেয়। ওখানে বাঁ-হাতি স্পিনারদের ডমিনেশন থাকে। ওখানে তারা খেলাতে চায় না। আমাদের ক্লাব অফিসিয়ালদের বুঝতে হবে একটা লেগ স্পিনার একটা ম্যাচ উইনার। আপনি যদি রিশাদকে দেখেন, ওকে তিন বছর আগে কেউ খেলাতে চাইত না। গত বছর সে আমার সঙ্গে আবাহনীতে ছিল। আবাহনী যেমন স্ট্রং দল সেখানে তার খেলা কঠিন। আমি ওকে শাইনপুকুরে পাঠিয়ে বলেছি তুই শাইনপুকুরে খেল, ওই ক্লাবকে আমি একটা কথা বলেছি, সে যেন নিয়মিত খেলে। এই শর্তে তাকে ছাড়তে রাজি হয়েছি। সে কিন্তু ১০ ম্যাচে ২৩ উইকেট পেয়েছে। অনেক ম্যাচ জয়ের অবদান ছিল। লেগ স্পিনার যে ম্যাচ উইনার, এটা আমরা অনেক সময় ভুলে যাই।’ সুজন আরও বলেন, ‘আমি ক্লাব অফিসিয়ালদের বলব, আপনারা লেগ স্পিনারদের সুযোগ দেন, ওরা হয়তো এক ম্যাচে খারাপ করবে, কিন্তু ওই লেগ স্পিনার আপনার ম্যাচ উইনার হবে। এটা আমাদের বিসিবির যেমন দায়িত্ব তাদের ডেভেলপ করা, বিসিবি কিন্তু ক্লাব ক্রিকেট খেলে না, খেলে ক্লাবগুলো, তাদের আগ্রহটা থাকতে হবে। সুযোগটা কিন্তু তাদেরই দিতে হবে। সুযোগ দিলে তাদের জন্য ফল বয়ে আনবে লেগ স্পিনাররা।’ এদিকে গতকাল ২০২২-২৩ মৌসুমের প্রাইম ব্যাংক স্কুল ক্রিকেটের দেশসেরা ১৫ ক্রিকেটারের হাতে শিক্ষাবৃত্তির অর্থ (৬০ হাজার টাকা) তুলে দেন প্রাইম ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম এ. চৌধুরী। উল্লেখ্য দেশীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে বৃহৎ আয়োজন জাতীয় স্কুল ক্রিকেটের সঙ্গে ২০১৫ সাল থেকে জড়িয়ে আছে প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড। প্রতি বছর সারাদেশের প্রায় ১২ হাজার ক্ষুদে ক্রিকেটার অংশ নেয় এই ক্রিকেট আসরে। দেশের ৩৫২ স্কুলের অংশগ্রহণে এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে জেলা পর্যায়ের ৫৭৯ ম্যাচ। জেলা চ্যাম্পিয়নরা এবার অংশ নেবে বিভাগীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে। বিভাগীয় পর্যায়ের ৫৭ ম্যাচ শেষে ৭ বিভাগের চ্যাম্পিয়ন দল অংশ নেবে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App