×

খেলা

টানা জয়ে শিরোপার সুবাস পাচ্ছে আবাহনী

Icon

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

টানা জয়ে শিরোপার সুবাস পাচ্ছে আবাহনী
কাগজ প্রতিবেদক : ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সুপার লিগে প্রথম পর্বে গতকাল প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে ৫ উইকেটে জয় পেয়েছে আবাহনী লিমিটেড। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ১৭৮ রানের পুঁজি গড়ে প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড। জবাবে ব্যাট করতে নেমে লিটন দাস ও তৌহিদ হৃদয়ের দুটি অর্ধশতকে ভর করে ৫ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিজেদের করে নেয় আকাশি-নীল জার্সিধারীরা। দিনের অন্য ম্যাচে শেখ জামালের বিপক্ষে ৫ উইকেটে জয় পেয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে সাইফ হাসান ও তাইবুর রহমানের দুটো শতকে ভর করে ২৫৯ রানের পুঁজি গড়ে শেখ জামাল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের একটি শতকে ভর করে ৫ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নেয় সাদা-কালোরা। অন্য ম্যাচে রূপগঞ্জ টাইগার্সের বিপক্ষে ১৩ রানের জয় পেয়েছে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব। এখন পর্যন্ত লিগ পর্ব ও সুপার লিগ মিলিয়ে ১২ ম্যাচে সর্বোচ্চ ২৪ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা জয়ের সুবাস পাচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। কারণ সুপার লিগে আবাহনীর কাছের প্রতিদ্ব›দ্বী শাইনপুকুর ও মোহামেডানের পয়েন্ট সমান ম্যাচে ১৮। আর গতকাল ম্যাচ হেরে শেখ জামালের পয়েন্ট ১৬। আবাহনীর সঙ্গে মোহামেডান ও শাইনপুকুরের পয়েন্ট ব্যবধান ৬ পয়েন্ট। ফলে সুপার লিগে আর দুটি ম্যাচ জিতলেই আবাহনীর শিরোপা জয় নিশ্চিত হয়ে যাবে। কারণ সুপার লিগে অবশিষ্ট চারটি ম্যাচে জয় পেলেও শাইনপুকুর ও মোহামেডানের পয়েন্ট দাঁড়াবে ২৬। এদিকে দুটো ম্যাচে জয় পেলেই সর্বোচ্চ ২৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শিরোপা নিজের করে নিবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ১৭৮ রানে অলআউট হয় প্রাইম ব্যাংক। তাড়া করতে নেমে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৮.৩ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আবাহনী। ওপেনিংয়ে নেমে লিটন ১০৬ বলে ৫৬ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। তার ইনিংসটি ছিল ধীরগতির। ফিফটির দেখা পান ৭৬ বলে। ইনিংসে চারের মার ছিল ৭টি। খেলেছেন দেখেশুনে, কোনো অহেতুক শট খেলতে যাননি। দল যখন জয়ের দ্বারপ্রান্তে তখনো লিটন ছিলেন ঠাণ্ডা মেজাজে। লিটন ছাড়া ফিফটির দেখা পেয়েছেন তৌহিদ হৃদয়। মাত্র ২৭ বলে ৪টি চার ও ৫টি ছয়ের মারে প্রাইম ব্যাংকের বোলারদের এলোমেলো করে ৫৫ রান করেন হৃদয়। ফিফটি পান মাত্র ২৩ বলে। এছাড়া এনামুল হক বিজয় ও নাজমুল হোসেন শান্ত সমান ২২ ও জাকের আলী অনিক ১২ রান করেন। প্রাইম ব্যাংকের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন সানজামুল ইসলাম ও শেখ মেহেদী হাসান। এর আগে ব্যাটিং করতে নেমে শরিফুল ইসলাম-তাসকিন আহমেদদের তোপে শুরু থেকে উইকেট হারাতে থাকে প্রাইম ব্যাংক। পারভেজ হোসেন ইমন, শাহাদাত হোসেন দিপু ও তামিম ইকবাল ফেরেন শুরুতে। মাত্র ৫ রানে দলটি ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে। এরপর জাকির হাসান-মুশফিকুর রহিম দলের হাল ধরেন। দুজনে জুটি গড়ে এগোতে থাকেন। মুশফিকের আউটে ১১২ রানে ভাঙে জুটি। তার ব্যাট থেকে আসে ৪৪ রান। অন্য প্রান্তে থাকা জাকির তুলে নেন ফিফটি। অবশ্য ফিফটির পর বেশিদূর যেতে পারেননি। সর্বোচ্চ ৬৮ রান আসে তার ব্যাট থেকে। জাকিরের আউটের পর সবমিলিয়ে ৪২ রান করতে পারে প্রাইম ব্যাংক। আবাহনীর হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন শরিফুল। ম্যাচসেরার পুরস্কার ওঠে তার হাতে। ২টি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও তানভীর ইসলাম। দিনের অন্য ম্যাচে বিকেএসপিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে শাইনপুকুর মাত্র ১৩৮ রানে গুটিয়ে যায়। ওই রান তাড়া করতে গিয়ে গাজী গ্রুপ ১২৫ রানের বেশি করতে পারেনি। ১৩ রানের জয়ে সুপার লিগ দারুণভাবে শুরু করল টেবিলের দুই নম্বরে থাকা শাইনপুকুর। দুই ইনিংস মিলিয়ে কোনো দলের ব্যাটসম্যান ফিফটি পাননি। শাইনপুকুরের ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ৪২ রান করেন। এছাড়া গাজী গ্রুপের হাবিবুর রহমান সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন। এছাড়া চল্লিশের ঘর পেরোনো কোনো ইনিংস নেই। বোলারদের মধ্যে ভেল্কি দেখিয়েছেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। ৮ ওভারে ৩১ রানে ৪ উইকেট নেন তিনি। এছাড়া আরাফাত সানী ৩ ও হাসান মুরাদ ২ উইকেট পেয়েছেন। মূলত এই তিন স্পিনারের ঘূর্ণিতে শাইনপুকুর মাত্র ৪২ রানে ৭ উইকেট তুলে অপ্রত্যাশিত জয় তুলে নেয়। লক্ষ্য তাড়ায় মেহেদী মারুফ ও হাবিবুর রহমানের ব্যাটে ভালো জবাব দিচ্ছিল গাজী গ্রুপ। কিন্তু এই জুটি ভাঙার পর সব এলোমেলো হয়ে যায়। পরের আট ব্যাটারদের মধ্যে কেবল দুজন দুই অঙ্কের ঘরে প্রবেশ করতে পারে। বাকিরা সিঙ্গেল ডিজিটে ফেরেন ড্রেসিংরুমে। সর্বোচ্চ ৪৪ রান করা হাবিবুর ১৯ বলে ৪টি করে চার ও ছক্কায় ইনিংসটি সাজান।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App