×

খেলা

ক্রীড়ামন্ত্রীর হস্তক্ষপে কামনা মোহামডোনরে

Icon

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগের অলিখিত ফাইনালে গত শুক্রবার মুখোমুখি হয় চিরপ্রতিদ্ব›দ্বী আবাহনী লিমিটেড ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ম্যাচের মাঝপথে সংঘাতে জড়ায় দুই দলের খেলোয়াড়রা। যার ফলে লাল কার্ড দেখানো হয় মোহামেডানের তিন খেলোয়াড়কে। লাল কার্ড দেখানোর প্রতিবাদে খেলা চালিয়ে যেতে অস্বীকার করলে ৩-২ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থাকা আবাহনীকে ৫-০ গোলে জয়ী ঘোষণা করেন রেফারি। রেফারির এ সিদ্ধান্তকে অন্যায্য বলে আখ্যা দিয়ে এ ঘটনায় ক্রীড়ামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ক্রীড়ামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে মোহামেডানের ডিরেক্টর ইনচার্জ অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাজী ফিরোজ রশিদ। ফিরোজ রশিদ বলেছেন, ‘খেলায় হার-জিত থাকবেই। মাঠের খেলায় কেউ জিতবে, কেউ হারবে। কিন্তু আমরা তো হকিতে কোনো ন্যায়বিচারই পাচ্ছি না। এখানে খেলে কী লাভ। আমরা পুরো ঘটনায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে বিচার চাচ্ছি।’ শুক্রবারের ম্যাচে আম্পায়াররা কার্ডের সিদ্ধান্ত ভিডিও রেফারেল দেখে নিলে ঘটনার আসল চিত্র বেরিয়ে আসত বলেই মনে করেন মোহামেডান কর্তারা। সাবেক হকি খেলোয়াড় ও মোহামেডানের হকি কমিটির সদস্য প্রতাপ শঙ্কর হাজরা বলেন, ‘সেদিন আম্পায়াররা যদি নিরপেক্ষভাবে কার্ডের সিদ্ধান্ত নিতেন, তাহলে তো আবাহনীর পুষ্কর খীসা মিমোরও লাল কার্ড দেখার কথা। কিন্তু তাকে তো লাল কার্ড দেখানো হয়নি।’ প্রতাপ শঙ্কর হাজরা বাইলজ ভঙ্গেরও অভিযোগ তুলেছেন ফেডারেশনের বিপক্ষে। তিনি বলেন, ‘হকি ফেডারেশন বাইলজের কথা বলছে, এবারের লিগেই দুটি ম্যাচে বাইলজ পরিপন্থি ঘটনা ঘটেছে। আজাদ-বাংলাদেশ স্পোর্টিং ম্যাচে গোলযোগের কারণে ম্যাচের ১২ মিনিট বাকি থাকতে খেলা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই ১২ মিনিট পরদিন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারও আগে অ্যাজাক্স ও বাংলাদেশ স্পোর্টিং ম্যাচে একটি গোলকে কেন্দ্র করে দুই দল খেলতে অস্বীকৃতি জানালে সেই ম্যাচের বাকি অংশও পরদিন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে আরেক রকম কেন হবে।’ মোহামেডান ক্লাব কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যও দেয়া হয়েছে। সেই বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে পড়ে শোনান কাজী ফিরোজ রশিদ। বক্তব্যের এক জায়গায় লেখা আছে, ‘মারামারির ঘটনার পর দুই আম্পায়ার ভিডিও রেফারেল দেখে কার্ডের সিদ্ধান্ত নেননি। আম্পায়ারদের দুইবার ওয়াকিটকিতে কথা বলতে দেখা যায়। এরপরই মোহামেডানের দুই খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো হয়। অথচ আমরা ভিডিও রেফারেল ব্যবহার করে ঘটনা পর্যালোচনা করতে বলেছিলাম। আম্পায়াররা আমাদের কথা শোনেননি।’ সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন ওঠে আবাহনীর বিপক্ষে ম্যাচে ৩-২ গোলে এগিয়ে থাকা অবস্থায় খেলোয়াড়দের মারামারিতে জড়িয়ে পড়া এবং এরপর কার্ডের ঘটনায় খেলতে অস্বীকৃতি জানানো কতটুকু যুক্তিযুক্ত ছিল। প্রতাপ শঙ্কর হাজরা বলেন, ‘আমাদের দুই খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে, আবাহনীর একজন। আমাদের একজনকে হলুদ কার্ডও দেখানো হয়। ২ খেলোয়াড়কে ছাড়া খেলাটা সম্ভব ছিল না। তাছাড়া, আমরা ভিডিও রেফারেলের দাবি করেছিলাম, সেটিও শোনা হয়নি। এই ম্যাচ খেলার তো কোনো মানে নেই।’ মোহামেডান শুক্রবার ম্যাচটা জিততে পারলেই শিরোপা জিতত। আবাহনীকে বিজয়ী ঘোষণা করায় এ মুহূর্তে লিগে মেরিনার্স ও আবাহনীর পয়েন্ট সমান ৩৭। লিগের বাইলজ অনুযায়ী লিগ শিরোপা নিষ্পত্তিতে হবে প্লে-অফ ম্যাচ। তবে গতকাল সেই ম্যাচ খেলার জন্য ফেডারেশন থেকে আবাহনী ও মেরিনার্স দুই ক্লাবের কাছেই চিঠি দেয়া হলেও তারা খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App