×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

বিশেষ সংখ্যা

অমিত গোস্বামী

ভারতের চোখে আওয়ামী লীগের ৭৫ বছর

Icon

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের চোখে আওয়ামী লীগের ৭৫ বছর

ভারত ও আওয়ামী লীগ সম্পর্ক গত ৭৫ বছরের মধ্যে প্রথম ৬ বছর বাদ দিলে বাকি ৬৯ বছর একই খাতে প্রবাহিত হয়ে চলেছে। সেটা নিখাদ মিত্রতার সম্পর্ক। সে সম্পর্ক এখন তো সে সম্পর্ক স্বর্ণযুগে প্রবেশ করেছে। ভারতের শিল্পপতি, রাজনীতিক বা আমজনতা বাংলাদেশের দল বলতে আওয়ামী লীগকে বোঝে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে তারা নিশ্চিন্ত বোধ করে। অন্য কেউ, সে সামরিক শক্তি হোক বা অন্য দল বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিক হলে ভারতের প্রায় সবাই, তিনি যে ধর্মেরই হোন, আশঙ্কিত বোধ করেন। কেন করেন? কারণ আওয়ামী লীগের বাইরে যখন কোনো শক্তি বা দল ক্ষমতায় এসেছে, ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। আমি প্রথমেই ৬৯ বছরের মিত্রতার সম্পর্ক কেন বললাম পরে বলছি। কিন্তু তার আগে একবার ফিরে তাকানো যাক পেছনের দিকে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি রাষ্ট্রের জন্মদাতা ও দেশনায়ক হিসেবে মহানির্মাণের সূত্রপাত হয়েছিল কলকাতায়। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির মুন্সীয়ানা বা পারদর্শিতা শিক্ষা তার ছাত্রজীবনে এবং সেটা কলকাতায়। এই শহরে তারুণ্যের দীর্ঘ সময় বসবাস ও রাজনীতি তাকে ঋজু ও ইস্পাত-কঠিন মননের অধিকারী করেছে। বঙ্গবন্ধুর উন্মেষপর্বে তিনি ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ হিসেবে খ্যাত হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ‘রাজনৈতিক শিষ্য’ ছিলেন, যিনি সব সময়ই সমাজতান্ত্রিক মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাধারার চারটি বৈশিষ্ট্য: বাঙালি জাতিসত্তা, জনস¤প্রীতি, অসা¤প্রদায়িকতা এবং সমাজতন্ত্র। কিন্তু ধাক্কা তিনি খেলেন তার সূচনাপর্বে। আত্মজীবনীতে তিনি লিখেছেন সে সময় জনসভায় পাকিস্তান আন্দোলনকে তিনি উত্থাপিত করতেন লাহোর প্রস্তাবের ধারণায়, দুটি মুসলমান প্রধান সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে। তিনি পাকিস্তান আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন এই ভেবে যে এই নতুন রাষ্ট্রে দরিদ্র মুসলমান কৃষক জমিদার শ্রেণির নির্যাতন থেকে মুক্তি পাবে। তিনি সবসময় স্বাধীনতার আন্দোলনকে দেখেছেন নির্যাতিত দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম হিসেবে। তার জাতীয়তাবাদের ধ্যানধারণার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সুষম সমাজব্যবস্থার চিন্তা। আত্মজীবনীতে বঙ্গবন্ধু লিখছেন-

‘শহীদ সাহেবের নেতৃত্বে আমরা বাংলার মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকেরা মুসলিম লীগকে জনগণের লীগে পরিণত করতে চাই। মুসলিম লীগ তখন পর্যন্ত জনগণের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় নাই। জমিদার, জোতদার ও খান বাহাদুর নবাবদের প্রতিষ্ঠান ছিল।’

কিন্তু লাহোর প্রস্তাব ১৯৪৬ সালের মুসলিম লীগ কনভেনশনে পরিবর্তন করা হলো এবং দুটি পাকিস্তান রাষ্ট্রের বদলে শুধু একটি রাষ্ট্রের কথা প্রস্তাবিত হলো যা বঙ্গবন্ধুর কাছে স্বপ্নভঙ্গের বেদনা বহন করেছিল। ১৯৪৭ সালের আগস্টে কলকাতাও তার কাছে বিদেশ হয়ে গেল। তিনি এলেন অপরিচিত ঢাকা শহরে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য তিনি কারাবরণ করেন। তবে সে সময় তিনি যে শুধু ভাষার অধিকার নিয়েই সংগ্রাম করেছেন তা নয়, গরিব এবং নির্যাতিত মানুষের পাশে থেকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিবাদী আন্দোলনে যোগ দেন, যেমন কর্ডন প্রথার বিরুদ্ধে, জিন্নাহ ফান্ডের বিরুদ্ধে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নি¤œ বেতনভোগী কর্মচারীদের সমর্থনে।

কিন্তু তিনি তো ছিলেন মুসলিম লীগে। আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন হলো কেন? গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বঙ্গবন্ধুর মধ্যে তীব্র ছিল। বাঙালি জাতি সে সময় পশ্চিম পাকিস্তানিদের তুলনায় শিক্ষায় ও রাজনৈতিক সচেতনতায় অনেক এগিয়ে ছিল। কিন্তু মুসলিম লীগ ক্রমেই শাসক পশ্চিম পাকিস্তানিদের ধামাধরা হয়ে উঠেছিল। তিনি গণতন্ত্রের স্বার্থে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। তাঁর আত্মজীবনীতে তিনি লিখেছেন তা হলো : ‘আর মুসলিম লীগের পেছনে ঘুরে লাভ নেই, এ প্রতিষ্ঠান এখন গণবিচ্ছিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে...বিরোধী দল সৃষ্টি করতে না পারলে এ দেশে একনায়কত্ব চলবে।’ এরপর তিনি ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। এই সময়ে ভারতের কোনো তাপ-উত্তাপ ছিল না। কিন্তু ১৯৫৫ সালে কাউন্সিল সেশনে আওয়ামী লীগের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি অপসারণ করা হয় যা এই উপমহাদেশে ধর্মনিরেপক্ষতার একটি মাইলফলক। এ ঘটনায় ভারতের দৃষ্টিতে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে আওয়ামী লীগ। সম্পর্ক স্থাপিত হয় তৎকালীন ভারতের শাসক কংগ্রেস ও আওয়ামী লীগের মধ্যে। ক্রমে সব দলের সঙ্গেই সখ্য গড়ে তোলে আওয়ামী লীগ। তাই প্রথমেই বলেছি এই মিত্রতা দীর্ঘ ৬৯ বছরের। ১৯৫৫ সালের মে মাসে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। গণপরিষদের এক বক্তৃতায় তিনি স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলেন। তিনি বলেন, ‘যুক্ত নির্বাচনী এলাকা গঠনের প্রশ্নটারই কি সমাধান? আমাদের স্বায়ত্তশাসন সম্পর্কেই বা কি ভাবছেন?...আমার ঐ অংশের [পশ্চিম পাকিস্তান] বন্ধুদের কাছে আবেদন জানাব যে আমাদের জনগণের রেফারেন্ডাম অথবা গণভোটের মাধ্যমে দেয়া রায়কে মেনে নেন।’ এ তো সমাজবাদের আবাহনধ্বনি। ভারত এই সময়েই গুরুত্ব দিতে শুরু করেন ধর্মনিরপেক্ষ ও সমাজবাদী শেখ মুজিব ও তার দল আওয়ামী লীগকে।

ভারতীয় গণতন্ত্রের একটা বিশেষ দিক হলো দেশের ক্ষমতায় যে দলই আসুক না কেন, বিদেশনীতির পরিবর্তন কোনো বিশেষ ঘটনা না ঘটলে দ্রুত পালটায় না। অন্যদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারত চট করে নাক গলায় না। কাজেই চীনের সঙ্গে প্রথমে ‘হিন্দি-চিনী ভাই ভাই’ থাকলেও ১৯৬২ সালে চীন বিনা প্ররোচনায় ভারত আক্রমণ করায় সেই যে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে ঠেকল আজ অবধি তার পরিবর্তন হয়নি। একইভাবে পাকিস্তানের বিষয়ে ভারত দূরত্ব বজায় রেখে চলছিল। ১৯৭১ সালের জেনোসাইডের পরে ভারত পূর্ববঙ্গের শরণার্থী ভার গ্রহণ করলেও পূর্ববঙ্গের উৎপাটিত নাগরিকদের আশ্রয়-খাদ্য দিলেও মুক্তি বাহিনীদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিলেও শুরু থেকে ৯ মাস পাকিস্তানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেনি। কিন্তু তারপর? যা হয়েছে তা তো সবার অজানা নয়। বাংলাদেশ সৃষ্টির পরে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের জেল থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করে নতুন দেশে নতুন সরকারের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিল ভারত সরকার। ক্ষমতায় তখন আওয়ামী লীগ। কিন্তু বিধি বাম। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু ও তার চার সহযোগী নিহত হওয়ার পরে ভারতের কিছু করার ছিল না। সামান্য যেটুকু করার ছিল, করেছেন। ১৯৭৫ সালের ২৪ আগস্ট এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বাকিরা দিল্লির পালাম বিমানবন্দরে নেমেছিলেন। প্রথমে ৫৬ নম্বর রিং রোডের একটি ‘সেফ হাউস’-এ তাদের রাখা হয়েছিল। পরে ডিফেন্স কলোনির একটি বাড়িতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের। শেখ হাসিনার স্বামী ডক্টর ওয়াজেদ মিয়াকে ১৯৭৫ সালের ১ অক্টোবর পরমাণু শক্তি বিভাগে ফেলোশিপ দেয়া হয়েছিল। শেখ হাসিনার সব খরচ ভারত সরকারই দিত। যদিও সেটা খুব সামান্যই ছিল।

১৯৭৭ সালে ক্ষমতাচ্যুত হলেও ১৯৮০’র জানুয়ারিতেই ইন্দিরা গান্ধী আবারো ক্ষমতায় ফিরে এলেন। ১৯৮০তেই আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে দিল্লিতে এসেছিলেন, অনুরোধ করেছিলেন তাকে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার জন্য। ডক্টর ওয়াজেদ অবশ্য চাইছিলেন না যে শেখ হাসিনা ঢাকা ফিরে যান। তিনি মনে করতেন শেখ হাসিনার সরাসরি রাজনীতিতে আসা উচিত নয়। কিন্তু উৎসাহ দিলেন প্রণব মুখার্জি। তিনি ইন্দিরা গান্ধীকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বললেন যে যদি ইন্দিরা গান্ধী এই অবস্থায় ফিরে এসে দেশের হাল ধরতে পারেন তুমি কেন নয়? ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরলেন। সামরিক শাসন ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকলেও সামরিক শাসকদের সঙ্গে দূরত্ব রেখেই চলত ভারত সরকার। ইতোমধ্যে ১৯৮৮তে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এরশাদের স্বৈরশাসনের অবসানের পরে ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। শেখ হাসিনা বিরোধী নেত্রী হন। খালেদা প্রধানমন্ত্রী। এরশাদ জেলে যান। ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর মাসের ৬ তারিখে ভারতে বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয়। এর অভিঘাতে বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর নেমে আসে অবর্ণনীয় নির্যাতন। এ সময়ে সারা বাংলাদেশেই হিন্দুদের বাড়ি-ঘরে লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। প্রচুর হিন্দু দেশ ছাড়েন। ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জিতলে হিন্দুদের মনে কিছুটা আশার সৃষ্টি হয়। ২০০১-এর নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি-জামায়াত বিজয় উৎসব পালন করে হিন্দুদের ওপরে নির্যাতন করে। ২০০১’র নির্বাচনের পরে জয়ী জোট বিজয় উৎসব পালন করে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালিয়ে। খুন, জখম, ধর্ষণ, লুটপাট, ব্যবসা তছনছ, চলেছে প্রকাশ্যে সরকারি সহায়তায়। লন্ডনের ডেইলি মেল পত্রিকা হেডিং করেছিল, ‘মাইনোরিটিস আর সেফ অনলি ইন ডিপার্চার লাউঞ্জ’। বিএনপি-জামায়াতের ক্রোধের কারণ এই যে বাংলাদেশে হিন্দুরা আওয়ামী লীগের স্থায়ী ভোটব্যাংক। শুধু তাই নয়, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো সন্ত্রাসবাদীদের প্রাবল্যে জেরবার হয়ে ওঠে এবং এই সন্ত্রাসবাদকে লালন-পালন করেছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল।

এরপরে ক্ষমতায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরে আসে আওয়ামী লীগ। প্রথমেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদের প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করে বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সন্ত্রাসবাদীদের উৎখাত করেন। ভারতের উত্তর পূর্বে সন্ত্রাসবাদীরা নির্মূল হয়ে যান। ফলে ভারতে তুমুল জনপ্রিয়তা পায় আওয়ামী লীগ। ২০১৪ সালে ভারতে বিজেপি ক্ষমতায় এলেও ভারতের কাছে বাংলাদেশ আরো গুরুত্ব পায় বিজেপির ‘প্রথম প্রতিবেশী’ নীতির জন্য। দীর্ঘদিনের ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয় দ্রুত। পাশাপাশি থাকলে ছোটখাটো ক্ষেত্রে মতবিরোধ হলেও এমন কোনো বড় ইস্যু তৈরি হয়নি যাতে মন্বন্তর ঘটতে পারে। ভারতে যে দলই ক্ষমতাসীন থাকুন না কেন, প্রত্যেকেই আওয়ামী লীগের প্রতি তুমুল সহানুভূতিশীল। ভারত গত দশ বছরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন নিয়ে একটাও শব্দ উচ্চারণ করেনি। অথচ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে মাঝেমধ্যেই একটি গোষ্ঠী, যাকে ডাকা হতো ‘কফি গ্রুপ’ বলে নিয়মিত বৈঠকে বসত। তার সদস্য ছিলেন আমেরিকা, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানির রাষ্ট্রদূতরা। ডাকা হতো জাপানকেও। সেই ট্র্যাডিশন বজায় রেখে ২০২৩ সালে ঢাকায় নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত পিটার হাস, নিখোঁজ বিএনপি নেতা সায়েদুল ইসলাম সুমনের বাড়ি (ঢাকার শাহিন বাগে) পৌঁছে যান গোপনে যা পরে ফাঁস হয়ে যায়। ক্রমেই দেখা গেল আমেরিকা নাক গলাতে শুরু করেছে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে। ঠিক তখনই বাধ্য হয়ে ভারত বার্তা দেয় আমেরিকাকে। ভারত স্পষ্ট করে আমেরিকাকে জানায় যে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আমেরিকার বর্তমান ভূমিকায় ভারত খুশি নয়। ঢাকায় সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হোক এটা ওয়াশিংটনের মতো ভারতও চায়। কিন্তু যেভাবে হাসিনা সরকারকে অস্থির করার জন্য আমেরিকার তরফ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে, তা প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক নয়। ব্যস, আমেরিকা চুপ। কাজেই ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্কের রসায়নের সূত্রপাত হয়েছিল ৬৯ বছর আগে যেদিন আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে আওয়ামী লীগ হয়েছিল দলটি। সাল ১৯৫৫। ধর্মনিরপেক্ষ, প্রগতিশীল ও উন্নয়নমুখী এই দলের সঙ্গে ভারতের সব দলের এতটাই সুসম্পর্ক যে ৭৫তম বর্ষপূর্তিতে এই দল কাকে আমন্ত্রণ জানাবে আর কাকে বাদ দেবে, তা নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়বে। তা না করলে তো এই উপলক্ষে ভারতীয়দের ভিড়ে ঢাকা ঢেকে যাবে।

অমিত গোস্বামী

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App