×

পাঠকের কলাম

রক্ষাকবচ সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হবে

Icon

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রক্ষাকবচ সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হবে

বন, জলাভূমি, সামুদ্রিক ও উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রের সমন্বয়ে গঠিত প্রাকৃতিক বন সুন্দরবন। এটি বিশ্বের বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বন। বিশ্বের অন্যতম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল এটি। কিন্তু একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন লেগেই আছে সুন্দরবনকে ধ্বংস করতে। কখনো আগুন তো কখনো ঘূর্ণিঝড়। এবারো ঘূর্ণিঝড়ের প্রচণ্ড আঘাতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত সুন্দরবন। হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য। তছনছ হয়ে গেছে বনের বাস্তুসংস্থান। ঝড়ের কবলে পড়ে মারা গেছে হরিণসহ অন্যান্য প্রাণী। লবণ পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে অন্তত ৮০টি মিঠা পানির পুকুর। সুপেয় পানির সংকটে বন্যপ্রাণীরা। বাতাসের তোড়ে ধসে গেছে বনের ভেতরের টহল ফাঁড়ির অবকাঠামো। রেমালের তাণ্ডব এই বনাঞ্চলে যে বিপর্যয় ডেকে এনেছে, তা পূর্ববর্তী ঘূর্ণিঝড়গুলোর চেয়ে ভয়াবহ। নিজের অবস্থা সংকটে ফেলেও বারবার উপকূলের মানুষকে মমতায় আগলে রক্ষা করে যাচ্ছে সুন্দরবন। তবে এবার ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ও আম্ফানের আঘাতের চেয়েও রেমালে বনের ক্ষতির পরিমাণ দুই-তিনগুণ বেশি। ১১ কিলোমিটার এলাকার গোলপাতা বন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জোয়ার-ভাটার চক্রে পুরো সুন্দরবন ৪৮ ঘণ্টা ৩ থেকে ৯ ফুট পানির নিচে ছিল। ফলে পশুপাখির বাসা, ডিম ও বাচ্চা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বনের ভেতরে জীববৈচিত্র্য যেমন হরিণ, শূকর, গুঁইসাপ, সাপ ও বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। বনের পুকুরগুলো লবণাক্ত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পশ্চিম সুন্দরবনের আওতায় খুলনা ও সাতক্ষীরায় অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা। অবকাঠামোগত ক্ষতি অর্থ দিয়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব জানিয়ে সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বলেন, বনের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি অর্থ দিয়ে ফিরিয়ে আনা অসম্ভব। এই ক্ষতি সুন্দরবন নিজেই কাটিয়ে উঠতে পারবে। বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের আরেক কর্মকর্তা বলেন, সাধারণত জলোচ্ছ¡াস হলে বন্যপ্রাণীরা উঁচু স্থান ও গাছে আশ্রয় নেয়। রেমালের তাণ্ডবে বনের ভেতর অধিক উচ্চতায় জলোচ্ছ¡াস হয়েছিল। ফলে বনের উঁচু স্থান তলিয়ে যাওয়ায় প্রাণীরা আশ্রয় নিতে পারেনি। তাই অনেক প্রাণীর ক্ষতি হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত সুন্দরবন, যার ৬৬ শতাংশ বাংলাদেশে; বাকিটা ভারতে। এই ম্যানগ্রোভ বনে জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বেশকিছু বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীও বাস করে। জলবায়ু সংকট প্রকট হয়ে ওঠায় এই বনাঞ্চলের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। আর সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হলে সেখানকার জীববৈচিত্র্যকে রক্ষা করতে হবে। ঘূর্ণিঝড়ের কবল থেকে বন্যপ্রাণীদের জীবন রক্ষায় উদ্যোগ নিতে হবে। বন্যপ্রাণীদের জন্য পর্যপ্ত উঁচু টিলা ও শেল্টার তৈরি করাও জরুরি। এভাবে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব। এ ছাড়া মিঠাপানির পুকুরের পাড় অনেক উঁচু করতে হবে। যাতে জলোচ্ছ¡াসের পানি সেখানে ঢুকতে না পারে। সুন্দরবনের আশপাশের এলাকায় বনায়নের জন্য আরো প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। আশা করি, সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে সুন্দরবনের পরিবেশ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, দুর্যোগে মোকাবিলার ব্যবস্থা উন্নতকরণসহ সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের একমাত্র ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের সুরক্ষা নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App