×

পাঠক ফোরাম

৩২’র রঙিন দিন : বন্ধুত্ব অমলিন

Icon

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

৩২’র রঙিন দিন : বন্ধুত্ব অমলিন
‘সুন্দর হে, সুন্দর হে, বরমাল্যখানি তব আনো বহে, অবগুণ্ঠনছায়া ঘুচায়ে দিয়ে হেরো লজ্জিত স্মিতমুখ শুভ আলোকে\’ পাফোর আরো একটি অনন্য দিনের শেষে আরো শুভ আলোকের প্রত্যাশায় ফিরছিলাম নীড়ে। সঙ্গী আমাদের পুরনো পাফোস হাবিবুর রহমান (সতীর্থ হাবিব)। বাসে আমাদের পেছনের সিটে বসে কেউ একজন গাইছেন রবিঠাকুরের এই- ‘বঁধু, কোন্? আলো লাগল চোখে!’ অসাধারণ ভালোলাগায় মন ভরে উঠলেও ঘাড় ঘুরিয়ে ধন্যবাদ বলার ফুরসত নেই আমার! আমি তখন কিবোর্ডে আঙুল চালিয়ে যাচ্ছিলাম আমাদের ৩২-এর রঙিন দিনের রিভিউ লিখতে। নিউজ রুমের বাঁধা সময়, ঘরে ফেরার রুটিন- দ্বিমুখী চাপ নিয়েও এগিয়ে যেতে হয় আমাদের। এগিয়ে যাইও। শব্দ-বাক্যের বাঁধনের পেছনের গল্পগুলো না হয় তোলা থাক। নদীর কলস্রোতের মতো করে আমরা বয়ে যাই। এগিয়ে যাই বাঁকে বাঁকে দিকচিহ্ন রেখে। দীর্ঘ পথ হেঁটে হেঁটে পাফো ক্লান্ত নাকি উজ্জীবিত- তা দেখতে দেখতেই দুয়ারে কড়া নাড়ল আরেকটা ১০ মে। পাঠক ফোরাম নামের ‘সঞ্জীব সুধা’ আজ শানিত; পরিণত। তার সন্তানরা ছড়িয়ে বিশ্বময়। আবির্ভাবের দিন এলেই যথারীতি নড়েচড়ে বসা এই আমরা মাতি হাসি-আনন্দের পেয়ালা উপচাতে। পাঠক ফোরাম বিভাগীয় সম্পাদক মুকুল শাহরিয়ার আগে থেকেই প্রস্তুত রেখেছিলেন মিলনায়তন। জন্মদিন আয়োজনের বড় অনুষঙ্গ কেক কর্তন। পাফোসেরা ছুরি-চাকু হাতে প্রস্তুত। পাফোসদের উদরপূর্তিতে এখানেও মুকুল শাহরিয়ারের ব্যবস্থাপনার ক্যারিশমা টের পাওয়া যায়। স্বপন কুমার মিস্ত্রী, তার কন্যা সুচন্দ্রা মিস্ত্রী আর অভিজিৎ বড়ুয়া বিভু মিলে এবার ক্লাসের ফার্স্ট! সঙ্গে যোগ হয়েছেন ইমরুল বাবু। সপুত্র-সকন্যা সরফরাজ উদ্দিন পারভেজ এসেছে ঠিক টাইমের একটু পরে! কিন্তু ঢাকা পরিবারের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকই নিখোঁজ! সভাপতি এদিন দলবল নিয়ে গুলিস্তানে তুলকালাম ঘটিয়ে দিয়ে এসেছেন। তার সুকীর্তিস্বরূপ এদিন বিকালে গুলিস্তানের ‘পূর্ণিমা স্ন্যাকস’-এর ভোজনবিলাসী মানুষজন শিঙ্গাড়া, সমুচা আর জিলাপি খাওয়া থেকে বঞ্চিত ছিলেন এক ঘণ্টার বেশি সময়। আর সেই সুবাদে আমরা পাফো বাহিনী আর ভোরের কাগজ অফিস এদিন পেটপূজা সারলাম আনন্দচিত্তে। এই ব্যবস্থাপকের দলে কামরুল ইসলাম, মো. শামসুদ্দোহা, আরিফ, সিয়াম ছিল শ্রমিক মৌমাছির ভূমিকায়। এদিকে শেখ শামীমা নাসরিন পলি আর শেখ আসিফুর রহমান, ফুফু-ভাতিজা মিলে ততক্ষণে মহল জমিয়েছেন। আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠ ওয়াহিদ মুরাদ ছিলেন স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। নাদিম আহমেদ-সাহরিয়া তামান্না জুটি যথারীতি সপ্রতিভ। হালে মিডিয়ার চেনা মুখ হয়ে ওঠা ফয়সাল আহমেদও কম যান কিসে! আড্ডা যখন জমে ক্ষীর হব হব করছিল তখনই উপস্থিত ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত। আমাদের প্রিয় শ্যামল’দা পাফো প্রজন্মের প্রতিনিধি সুচন্দ্রা মিস্ত্রী, শাহির সাফওয়ান, আদিরা সুমাইতা, জান্নাতুল মাওয়া উমামাদের সঙ্গে মেতে উঠলেন খুনসুটিতে। আড্ডাবাজি ছকে বাঁধা থাকে না। তবু এই অধম হাতে নিলাম সঞ্চালনা নামের ব্যাটনটি। সভাপতিত্ব নিয়মানুযায়ী পাফো ঢাকা পরিবার সভাপতি দন্ত্যস সফিকের। শুরুতেই স্বাগত জানালেন পাঠক ফোরাম বিভাগীয় সম্পাদক এবং ভোরের কাগজের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক ছড়াকার মুকুল শাহরিয়ার। এর পরপরই ছুরি চলল মনোলোভা কেকে। ভোরের কাগজ সম্পাদক পরম যতেœ কেক খাইয়ে দিলেন একে একে সব বাচ্চাকে। প্রজন্মের সঙ্গে পরম আনন্দের এই পর্ব শেষে নড়েচড়ে বসলাম সবাই; শ্যামল’দা মাইক্রোফোনে এলেন বলে! গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আবৃত্তি করেন ‘পাবলিক ইন্টেলেকচুয়াল’ শিরোনামে নিজের লেখা একটি অনবদ্য কবিতা। মূলত আত্মকেন্দ্রিকতার অচলায়তন ভেঙে সোচ্চার হওয়ারই আহ্বান ছিল এই কবিতায়। দাদা পাঠক ফোরামের তিন দশকের বেশি সময় নিরবচ্ছিন্ন সাহিত্যসেবা আর সামাজিক-সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের প্রশংসা করে আগামী দিনগুলোতে আরো সমৃদ্ধ সাংগঠনিক কার্যক্রম দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। আয়োজনে ছিলেন আমাদের পরম সুহৃদ ভোরের কাগজের বার্তা সম্পাদক ইখতিয়ার উদ্দিনও। পাঠক ফোরামের ৩২ বছরের এই পথচলাকে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে আগামী দিনে বৈচিত্র্যময় সৃজনধর্মী পদক্ষেপে সমাজ ও রাষ্ট্রে এক অনন্য অবস্থান নিতে পাফো সদস্যদের উদ্বুদ্ধ করেন প্রিয় ইখতিয়ার ভাই। ঘড়ির কাঁটা যত এগোচ্ছে আড্ডাটাও ঠিক ততই পরিণত হতে থাকল। প্রাণবন্ত এ আড্ডায় অংশ নেন ঢাকা পরিবারের সাবেক সভাপতি সামস সাগর, উপদেষ্টা কাজী সেলিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ওয়াহিদ মুরাদ, ঢাকা পরিবারের সহসভাপতি সরফরাজ উদ্দিন পারভেজ, শেখ শামীমা নাসরীন পলি, সালাম ফারুক, স্বপন কুমার মিস্ত্রী, ঈশান মাহমুদ, মমিনুল ইসলাম লিটন, রয় অঞ্জন, নাদিম আহমেদ, সাহারিয়া সুলতানা তামান্না, সৈয়দ এম আনিসুর রহমান, মো. শামসুদ্দোহা, আরিফ, জাহেদা শাহীন খান, সুহানা আরিফেরা। এতসব হৈহুল্লোড়ে আলাদা করে নজর কেড়েছেন অভিজিত বড়ুয়া বিভু। চেনা নামের এই মানুষটি এখন চট্টগ্রাম থেকে এসে ঢাকায় থিতু হয়েছেন। প্রথমবারের মতো এসেছেন সংগঠক শিমুল খন্দকার। আর আমাদের সজ্জন পাফোস ফরিদা শিরীন খানের ছোট বোন জাহেদা শাহীন খান এসেছেন কন্যা সুহানা আরিফকে সঙ্গে নিয়ে। সবারই উচ্ছ¡সিত অনুভূতি, বিনাসুতার মালাটা কতটা দৃঢ়তায় আমাদের বেঁধেছে তা টের পাই। স্বর্ণালি সময়ের গল্প শোনাতে গিয়ে আপ্লুত হয়ে যান সরফরাজ উদ্দিন পারভেজ, শেখ শামীমা নাসরিন পলি। আগামীর লক্ষ্য নির্ধারণের তাগিদ দেন রয় অঞ্জন। শুধু লেখালেখির সূত্রে আত্মার আত্মীয় হয়ে ওঠা মমিনুল ইসলাম লিটন, আহমেদ প্রান্ত, ঈশান মাহমুদ, নাদিম আহমেদদের গল্প শুনতে শুনতে আমরা পেরিয়ে আসি সন্ধ্যায় সীমানা। আর ঢেঁকির স্বর্গে গিয়েও ধান ভানার মতো বলপেন আর সাদা কাগজে চলছিল আঁকাজোকা। শেষে দেখা গেল আঁকা হয়ে গেল গোটা তিনেক স্কেচ! শিমুল খন্দকার, আহমেদ প্রান্ত আর সরফরাজ উদ্দিন পারভেজ- এই তিন ভাগ্যবান। তারপর স্মৃতির ফ্রেমে বাঁধা পড়তে ক্যামেরায় ব্যস্ত হয়ে ওঠা আঙুলগুলোও যেন থামতে চায় না। নিজেদের দ্বিতীয় ঘর ভোরের কাগজ ছাড়তে আর মন চায় না যেন! তবুও সময়ের কাঁটাকে হার মানিয়ে আমরা ঘরে ফিরি। আমাদের ফিরতে হয় ‘ফের দেখা হবে’ প্রত্যয়ে। মো. বোরহান উদ্দনি : সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা পরিবার

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App