×

পাঠক ফোরাম

একগুচ্ছ বই

Icon

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

একগুচ্ছ বই
আজ ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে কেন যেন পড়ায় মন বসছে না তিমিরের। তিমির সাদামাটা একটা ছেলে। ওর কোনো বান্ধবী নাই, এই সময় এটা ভাবা যায়! ওর চিন্তাগুলো একেবারে স্বচ্ছ, কাচের মতো স্বচ্ছ। ওর চিন্তা যে, আমি একজন মেয়ের সঙ্গেই বন্ধুত্ব করব বা ভালোবাসব, যাকে নিজের করে সারাজীবন রাখতে পারব। একালের ঘনঘন ব্র্যাকআপ হওয়া ভালোবাসায় সে বিশ্বাসী নয়। বন্ধুদের নিয়ে হল্লা করে, ঘুরতে যায় অনেক দূরে। কখনো সাগর, কখনো পাহাড়, কখনো ঘুড়ি উড়াতে আর পড়াশোনা তো আছেই। বাবা নেই বলে তার কোনো কষ্ট নেই। মা ওকে আগলে রাখে বুকের মনিরতেœর মতো। মাঝেমধ্যে মাকে কাজে সাহায্য করে সে। বিদেশ তাকে টানে না আর দশটা একেলে যুবকের মতো। তার কথা এ দেশের মাটির নিচে শুয়ে আছে আমার পূর্বপুরুষেরা আর মাটির ওপর আছে আমার বর্তমান স্বজনরা। এ দেশ ছেড়ে আমি কোথায় যাব! জীবনের প্রয়োজনে যদি যেতেই হয় তারপরও আমি ফিরে আসব এ মাটিতেই। আজ সে ভাবছে বইমেলায় যাবে, অনেক বই কিনবে, অনেক বই। সাবিত, আলিফকে খুঁজতে সে পাশের একটা টি স্টলে গেল। ওই দুইটার আবার চায়ের নেশা খুব। ঠিক পেয়ে গেল ওদের। বলার সঙ্গে সঙ্গে টিএসসির সামনের বইমেলার গেটের উদ্দেশে রওয়ানা হলো। ভেতরে ঢুকে প্রথমে গেল সাহস প্রকাশনীর স্টলে। মা আবার লেখালেখি করে। তাকে লিখতে সাহায্য হয় এমন একটা বই দেয়া উচিত ভেবে বকুল আশরাফের লেখা ‘কবিতার বাঁক বদল’ বইটি কিনে ব্যাগে ভরল। তারপর কী একটা সায়েন্স ফিকশন কিনবে বলে খুঁজছে। হুমায়ূন আহমেদ তার প্রিয় লেখক। মায়ের কাছে থাকা তার অনেক বই সে পড়েছে। কিন্তু মিসির আলী টাইপের লেখাগুলো তার বেশি পছন্দ। সে সিদ্ধান্ত নিল মিসির আলী সমগ্র কিনবে। স্টলে গিয়ে নির্ধারিত বইটি কিনে নিল। নতুন লেখকদের লেখা কিছু বইও কিনল। সঙ্গে কিনল কিছু বাদাম। তারপর ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে ফোয়ারার কাছে গিয়ে ক্লান্তি কমাতে একটু বসল। বসে বসে বাদাম খাচ্ছে আর গল্প করছে। হঠাৎ চোখ পড়ল একটা মেয়ের দিকে। মেয়েটিকে চেনা চেনা লাগছে। সুন্দর, পরিপাটি করে শাড়ি পরেছে, খোঁপায় একগুচ্ছ গাঁদা ফুল। অসম্ভব মানিয়েছে এই সাজে ওকে। হাঁটতে হাঁটতে মেয়েটি ওর সামনে চলে এলো। মেয়েটিরও চোখ পড়ল ওর ওপর। সে কিছুটা থমকে দাঁড়ালো বলে মনে হলো তিমিরের, যেন সে তাকেই এতক্ষণ খুঁজছিল! - আরে! তিমির! - আপনি? - তুমি আমাকে চিনছ না। আমি লাবণ্য। স্কুলের লাবণ্য, যাকে তুমি প্রায়ই তাকিয়ে দেখতে। আর আমি হাসতাম। বন্ধুদের সামনে ওর কথা শুনে তিমির লজ্জা পেল। আলিফ বলল- তুই তাহলে স্কুলে এই করতি! শালা! - আরে না ধ্যুৎ। লাবণ্য হা হা করে হেসে উঠল। তারপর বলল- তোমাকে আমি অনেক খুঁজেছি। তিমিরও মনে মনে বলল, আমিও যেন তোমাকেই খুঁজেছি এতদিন, রাজকন্যা! লাবণ্য একবার চারপাশটা দেখে নিয়ে তিমিরের চোখে চোখ রাখল। তারপর সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলল- আজ এই বইমেলাকে সাক্ষী রেখে তোমাকে আমি ভালোবাসার প্রস্তাব করছি তিমির... - সেই প্রস্তাবে আমি রাজি। আর আমি তোমাকে একগুচ্ছ বই দিয়ে আমাদের ভালোবাসার আকুতি জানাব। এটুকু বলে হাঁটু গেড়ে বসে কয়েকটি বই হাতে নিয়ে সে বলল- আমরা কি দুজন দুজনের হতে পারি রাজকুমারী? - কেন নয়! আমিতো তোমাকেই খুঁজেছি এতদিন। একটা নতুন ভালোবাসার সাক্ষী হলো আজ বইমেলা। আলিফ ওদের সেই মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করল মোবাইলে। নাসরীন খান : পল্লবী, ঢাকা

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App