×

পাঠক ফোরাম

ফারজানা ইয়াসমনি

অন্যরকম ঈদ

Icon

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

অন্যরকম ঈদ
রুবিনা হাসানের বয়স সত্তর বছর। ঢাকায় পাঁচ তলা বাড়ি ছিল একসময়। পঁয়ষট্টি বছর বয়সে যখন বিধবা হলেন চার ছেলের কেউ তাকে নিজেদের সঙ্গে রাখতে রাজি হলেন না। দুই ছেলে বিদেশে থাকে। দুই মেয়ে ঢাকায় থাকলেও সঙ্গে মাকে রাখা সম্ভব নয় তাদের পক্ষে। বাধ্য হয়ে রুবিনা হাসান নিজেই নিজের ঠিকানা খুঁজে নেন। স্বামীর সম্পত্তি থেকে যা পেয়েছেন তার পুরোটাই নিজের কাছে রেখে দেন। কারণ তিনি বুঝতে পেরেছেন তার আপন বলতে কেউ নেই পৃথিবীতে। সন্তানরা বছরে একবার বা দুইবার আসে দেখতে। তখনও মায়ের সম্পত্তির জন্যই আসে। রুবিনা হাসান একসময় স্কুল শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি তার সম্পত্তি বিক্রি করে সাভারে একটি বৃদ্ধাশ্রম খোলেন। একার পক্ষে করা সম্ভব ছিল না। তাই তার প্রিয় কিছু ছাত্রছাত্রীর সহযোগিতায় বৃদ্ধাশ্রমটি তৈরি করেন। আজ তাই এই বৃদ্ধাশ্রমে ৫০ জন বৃদ্ধ মানুষের বাসস্থান হয়েছে। এটাই তাদের স্থায়ী আবাসস্থল। রুবিনা হাসান বৃদ্ধাশ্রমটিকে বাড়ির মতো পরিবেশ দিয়েছেন। তবুও একটা শূন্যতা রয়ে যায় সবার মনের গহিনে। এই বয়সে সবাই তার পরিবারের সঙ্গে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ থাকতে চায়। জীবনের সুন্দর সময়ের স্মৃতি রোমন্থন করতে চায় নাতি-নাতনিদের সঙ্গে। কিন্তু এই ইচ্ছা তাদের পূরণ হয়নি। এই বয়সে এসেও তারা বুঝে নিয়েছেন এটা জীবনের বাস্তবতা। রুবিনা হাসান ঈদ উপলক্ষে সবার জন্য নতুন পোশাক কিনেছেন। সবাই হাসিখুশি চলাফেরা করছেন। কিন্তু সবার চোখে একটা অপেক্ষা লেগে আছে। যদি তাদের সন্তানরা আজ ঈদের দিন তাদের দেখতে আসে। আসলে অবুঝ মন কিছুতেই মানতে চায় না। যে সন্তানরা একদিন ঈদের নতুন জামা-জুতার জন্য মা-বাবার কাছে বায়না করত, যে সন্তানরা ঈদের নতুন জামা পরে বাবা-মাকে সালাম করে সামালি নিত; আজ তারা এই অবেলায় ভুলেই গেছে। সন্তানের প্রতি রাগ অভিমান হয়তো হয়। তবুও বাবা-মা সন্তানের জন্য মৃত্যু পর্যন্ত দোয়া করে যান। ঈদের দিনটা তাদের কাটে অতীত স্মৃতি রোমন্থন করে। যা পেছনে ফেলে এসেছেন। হয়তো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এটাই সম্বল তাদের। রুবিনা হাসানের কিছু ছাত্রছাত্রী আজ এসেছে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে। তারাই যেন এখন এই বৃদ্ধ মানুষগুলোর সন্তান। কিছু মানুষ হয়তো আজো ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেই ঈদ উদযাপন করে। তবুও আপনজনের অভাবে সব আনন্দ ফিকে হয়ে যায়। - আগারগাঁও, ঢাকা

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App