×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

খবর

জঙ্গি জাবেদ গ্রেপ্তার

রূপগঞ্জের বরপার আস্তানা ছিল জঙ্গিদের ট্রানজিট

Icon

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাতায়াতের আগে নারায়ণগঞ্জের বরপার আস্তানায় আসত জঙ্গিরা। বিশ্রাম নিয়ে পরে ওই আস্তানা থেকে পরবর্তী দিকনির্দেশনা পেয়ে গন্তব্যে যেত আগতরা। মূলত বরপার আস্তানাটি আনসার আল ইসলামের সদস্যরা তাদের ট্রানজিট আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। আর এ জঙ্গি আস্তানাটি পরিচালনা করছিলেন জাবেদ আবীর ওরফে এনামুল (২৭)। এটিইউয়ের অভিযানের মুখে এর আগে ওই আস্তানা থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

বরপার জঙ্গি আস্তানার প্রধান জাবেদকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের (এটিইউ) পুলিশ সুপার (এসপি) অপারেশনস মো. সানোয়ার হোসেন। গতকাল বুধবার দুপুরে বারিধারায় এটিইউ সদর দপ্তরে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার এটিইউয়ের একটি দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর জেলার টঙ্গী পূর্ব থানার স্টেশন রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সুপার সানোয়ার হোসেন জানান, গত ৯ জুন নেত্রকোনার সদর থানার কাইলাটি ইউনিয়নের বাসা পাড়া গ্রামে একটি খামার বাড়িতে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের প্রশিক্ষণকেন্দ্র থাকার তথ্য পেয়ে অভিযান চালায় এটিইউ। ওই প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

অভিযানের ধারাবাহিতকায় ওই প্রশিক্ষণকেন্দ্রর সমন্বয়কারী হিসেবে পারভীন আক্তার নামে এক নারী সন্ত্রাসীর নাম পাওয়া যায়। পরে কক্সবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে এটিইউ। তার দেয়া তথ্যে নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জ থানার বরপা এলাকায় আনসার আল ইসলামের একটি আস্তানার সন্ধান মেলে। ওই আস্তানায় আনসার আল ইসলামের সদস্যদের নিয়মিত যাতায়াত আছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে এটিইউর বোমা ডিস্পোজাল ইউনিট বরপা এলাকার আস্তানায় অভিযান চালায়। তবে অভিযানের আগেই সেখানে থাকা জঙ্গিরা পালিয়ে যায়। পরে আস্তানাটি ঘেরাও করে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু বোমাসহ এসব তৈরির নানাবিধ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, জাবেদ নামের একজন ওই আস্তানার জন্য ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে এসপি সানোয়ার বলেন, নেত্রোকোনার আস্তানার সমন্বয়কারী পারভীনকে গ্রেপ্তারের পর জানা গেছে, নেত্রোকোনার বাসাপাড়া গ্রামের একটি খামার বাড়ি জঙ্গিরা মাছ চাষের জন্য লিজ নেয়। কিন্তু মাছ চাষের আড়ালে সেখানে আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্যদের সারাদেশ থেকে রিক্রুট করে নানাবিধ প্রশিক্ষণ দেয়া হতো। কীভাবে বোমা তৈরি করা হয়, সেগুলো কীভাবে বিভিন্ন হামলায় ব্যবহার করা হবে, টার্গেট ব্যক্তিদের উপর কীভাবে হামলা করা হবে, সেই হামলায় অস্ত্রের ব্যবহার কীভাবে হবে এসবের প্রশিক্ষণ দেয়া হতো। ওই প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গত ৪ বছরে শতাধিক সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেন গ্রেপ্তার জাবেদ। নেত্রকোনার আস্তানায় অভিযানের পর জাবেদ বরপা এলাকায় নতুন আস্তানা গড়ে তুলেছিলেন। ওই আস্তানার কার্যক্রম সমন্বয় করতেন নিজেই। তিনি নেত্রকোনায় আনসার আল ইসলামের প্রশিক্ষণকেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিয়ে বোমা তৈরিতে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। অভিজ্ঞতার কারণে তিনি তার নিজ ভাড়া বাসায় বোমা তৈরি করে আসছিলেন। এর আগে অনলাইনে উগ্রবাদী প্রচরণা চালানোর অভিযোগে জাবেদ একবার গ্রেপ্তার হন কয়েক বছর আগে। ওই মামলায় ৬ মাস কারাভোগ করে জামিন পান। জামিনে এসে জাবেদ সক্রিয়ভাবে আনসার আল ইসলামের কার্যক্রমে জড়ান।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আনসার আল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তির ওপর হামলায় নিষ্ক্রিয় থাকলেও অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে আনসার আল ইসলামের সদস্যরা আবারো দেশব্যাপী সক্রিয় হওয়ার মধ্য দিয়ে নিজেদের শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে তাদের অর্থদাতা হিসেবে যারা সহযোগিতা করছে এমন কিছু ব্যক্তির নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। এছাড়া সংগঠনটি যারা এখন নেতৃত্ব দিচ্ছে তাদের বিষয়ে তথ্য পেয়েছে এটিইউ। তদন্তের স্বার্থে এখন এসব ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App