×

খবর

কুড়িগ্রামে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত

Icon

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

তৈয়বুর রহমান, কুড়িগ্রাম থেকে : ব্রহ্মপুত্র নদের ৩টি পয়েন্টে পানি গতকাল বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পানি বাড়তে থাকায় কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। ইতোমধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্ট বিপৎসীমার দশমিক ৬৭ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে দশমিক ৬৪ সেন্টিমিটার এবং হাতিয়া পয়েন্ট বিপৎসীমার দশমিক ৭৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। অন্যদিকে ধরলার পানি বেড়ে কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার দশমিক ০২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। অন্যদিকে কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি, পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার এবং শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলার পানি বিপৎসীমা সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

প্লাবিত এলাকা একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানি প্রবেশ করায় জেলার শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা জলমগ্ন হয়ে বাড়ি ঘরে পানি প্রবেশ করছে।

নদনদী তীরবর্তী চর ও নিম্নাঞ্চলের বসতভিটায় পানি প্রবেশ করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। অনেক পরিবার গবাদিপশুসহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়ে নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের সংকট দেখা গেছে।

এছাড়া বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে, আমন বীজতলা, পাট, বেগুন ও মরিচসহ মৌসুমি ফসলের ক্ষেত। কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। এ অবস্থায় দুর্ভোগ বেড়েছে বানভাসি মানুষের। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অন্তত ৫০ হাজার পরিবারের লক্ষাধিক মানুষ।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের পোড়ার চরের বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম বলেন, ব্রহ্মপুত্রের পানি ঘরের চারপাশে আসছে। গবাদিপশু নিয়ে দুঃচিন্তায় আছি। এমন অবস্থা গ্রামটির সব পরিবারের।

বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মুসার চরের মতিয়ার রহমান, আবু বক্কর ও একাব্বর আলী জানান, তাদের চরের প্রতিটি বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। কেউ নৌকা, কেউ বা মাচাং করে উঁচু স্থানে রয়েছেন। পরিবারগুলো কষ্টে আছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান গতকাল জানান, জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্রসহ অন্যান্য নদনদীর পানি বৃদ্ধি আরো ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। ব্রহ্মপুত্রের পানি তিনটি পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। অন্যন্য নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও তা বিপৎসীমা নিচে রয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার জানান, এখন পর্যন্ত বানভাসিদের জন্য ৯ উপজেলায় ১৭৩ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মজুত আছে ৬০০ মেট্রিক টন চাল ও ৩০ লাখ টাকা- যা পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App