×

খবর

সুনামগঞ্জে পানিবন্দি থেকে মুক্তি মিললেও সড়কে ভোগান্তি

Icon

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মো. সাজ্জাদ হোসেন শাহ্, সুনামগঞ্জ থেকে : পাহাড়ি ঢল এবং বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় হাওরের জেলা সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে জেলার প্রধান নদী সুরমা, তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত নদী জাদুকাটাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলাগুলোর নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। সেসঙ্গে জেলা শহরের সঙ্গে তাহিরপুর উপজেলার এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার সঙ্গে সুরমা, ল²ীপুরসহ তিন ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ সচল হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এখনো ৩ লক্ষাধিক মানুষ বন্যাকবলিত রয়েছেন। জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী জেলার সব উপজেলায় কম-বেশি বন্যা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত জেলার ১২ উপজেলার ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৬৮১ জন বানভাসি মানুষজন রয়েছেন। এদিকে পানিবন্দি অবস্থা থেকে কিছুটা মুক্তি মিললেও বন্যায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা। ভাঙা সড়ক দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে বন্যাকবলিতদের।

তাহিরপুর উপজেলার বড়দল দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান হাজী এম ইউনুছ আলী বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার জেলায় তেমন কোনো বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানি কমেছে। তবে দ্বিতীয় দফা বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানি কমলেও এখনো সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

মধ্যনগর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হাই বলেন, সুনামগঞ্জের প্রথম দফা বন্যায় আমাদের উপজেলার বাড়ি-ঘর, ফসলি জমি তলিয়ে গিয়েছে। দ্বিতীয় দফা বন্যায় সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছি আমরা জেলার নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী, পওর বিভাগ-২ মো. ইমদাদুল হক জানিয়েছেন, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তবে জেলার দিরাই উপজেলায় পুরাতন সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ০.৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সেসঙ্গে জেলা শহর থেকে শুরু করে বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চলের লোকালয় থেকে ধীরে ধীরে পানি নামছে। গত ২৪ ঘন্টায় সুনামগঞ্জে ২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, একই সময়ে দেশের উজানে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৬৪ মিলিমিটার। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে পানি আরো কমবে। জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে জানিয়ে তিনি বলেন, সুনামগঞ্জের প্রধান নদী সুরমাসহ বিভিন্ন উপজেলার নদী ও হাওরের পানি ধীরে ধীরে কমেছে। আজ শুক্রবার থেকে আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত জেলায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে এতে জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান ইমন জানিয়েছেন, বন্যার্ত মানুষদের জন্য গত ১৮ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৩৪ মেট্রিকটন জিআর চাল, নগদ ২৬ লাখ টাকা, ৯ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ১০ লাখ টাকার শিশুখাদ্য এবং গো-খাদ্যের জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এগুলো বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App