×

খবর

চট্টগ্রামে পৃথক দুটি হত্যা মামলায় ৫ জনের ফাঁসি

Icon

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রামের পৃথক দুটি হত্যা মামলায় মোট ৫ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন পৃথক দুটি আদালত। এর মধ্যে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুনের দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ বেগম জেবুননেছা। এছাড়া জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে খুনের পর মরদেহ গুমের চেষ্টার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এইচ এম শফিকুল ইসলাম। একই রায়ে আদালত অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় একজনকে বেকসুর খালাস দেন।

আদালত সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ১৭ জানুয়ারি রাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ট্রিপল নাইনে কল পেয়ে বাকলিয়া থানা পুলিশ গিয়ে বাসা থেকে খাটের ওপর কম্বল পেঁচিয়ে শোয়ানো অবস্থায় পারভিন আক্তারের (২৪) মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় পারভিনের স্বামী মো. জামাল পলাতক ছিলেন। ১৮ জানুয়ারি পুলিশ জামালকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারের পর জামাল স্ত্রীকে খুনের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে দেয়া জামালের বক্তব্য অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকে পারভিন জামালের আগের স্ত্রীর সঙ্গে মেলামেশা নিয়ে সন্দেহ করেন। তারা প্রায়ই ঝগড়া করতেন এবং এলাকায় সবার সামনে তাকে হেনস্তা করতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে অশান্তি দিন দিন বাড়তে থাকে। ২০২২ সালের ১৫ জানুয়ারি রাত ৮টায় পারভিন ও জামালের মধ্যে ঝগড়া হয়। ১৬ জানুয়ারি সকালে ঘুমন্ত পারভিনকে তার ওড়না দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে জামাল। এরপর কম্বল পেঁচিয়ে তার মরদেহ বিছানায় রেখে পালিয়ে যান। ১৮ জানুয়ারি পারভিনের বোন বেবি আক্তার বাদী হয়ে জামালকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

মহানগর দায়রা জজ আদালতের কর্মকর্তা দীপেন দাশগুপ্ত জানান, মামলা তদন্ত শেষে বাকলিয়া থানার তৎকালীন এসআই কারিমুজ্জামান ২০২২ সালের ২৫ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ১৩ অক্টোবর আসামি জামালের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৩ জনের সাক্ষ্যে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত মো. জামালকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি জামাল আদালতে হাজির ছিলেন। পরে সাজামূলে তাকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে সুলাল চৌধুরী নামে পঞ্চাশোর্ধ এক ব্যক্তিকে খুনের পর মরদেহ গুমের চেষ্টার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে আদালত অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় একজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। আদালত সূত্র জানায়, খুনের শিকার সুলাল চৌধুরী চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার চিকদাইর ইউনিয়নের মুন্সীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। একই ইউনিয়নের যুগীরহাট চালবাজারে অভয়া ঔষধালয় নামে তার একটি আয়ূর্বেদিক ফার্মেসি ছিল। দণ্ডিত আসামিরা হলেন- একই গ্রামের মিঠু চৌধুরী, সুমন চৌধুরী, দেলোয়ার হোসেন ও এরশাদ হোসেনকে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। সুদীপ চৌধুরী নামে আরেক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

এছাড়া রিকশাচালক মো. ইলিয়াসের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। দণ্ডিতদের মধ্যে দেলোয়ার এবং খালাস পাওয়া ইলিয়াস রায় ঘোষণার সময় আদালতে হাজির ছিলেন। দেলোয়ারকে সাজামূলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। পলাতক তিনজনের বিরুদ্ধে আদালত সাজা পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন।

অতিরিক্ত জেলা পিপি অঞ্জন বিশ্বাস জানান, ২০১৬ সালের ২৫ জুন রাতে রিকশায় করে ফার্মেসি থেকে বাড়িতে ফেরার পথে তাকে নোয়াজিশপুর-চিকদাইর সড়কে প্রিয়তোষ কবিরাজের বাড়ি সংলগ্ন ব্রিজের সামনে কুপিয়ে খুন করে আসামিরা। এরপর তার মরদেহ গুমের উদ্দেশে সেতুর নিচে খালের মধ্যে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখে। গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় তার স্ত্রী ও সন্তান স্থানীয়দের নিয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে খালে মরদেহের সন্ধান পান। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সুলালের ছেলে সৌরভ চৌধুরী বাদী হয়ে রাউজান থানায় মামলা দায়ের করেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App