×

খবর

ডিএসসিসিকে গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সংগঠনের হুঁশিয়ারি

হরিজনদের উচ্ছেদ করে মার্কেট নির্মাণের পাঁয়তারা বন্ধের দাবি

Icon

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : পুরান ঢাকার মিরনজিল্লার হরিজন সিটি কলোনির বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বহুতল মার্কেট নির্মাণের পাঁয়তারা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সংগঠনের নেতারা। তারা বলেন, মিরনজিল্লার বাসিন্দা হরিজনরা বংশপরম্পরায় ৪০০ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু এখন তাদের অন্ন-বস্ত্রের অনিশ্চয়তার মধ্যে বাসস্থানটুকুও কেড়ে নেয়া হচ্ছে।

হুঁশিয়ারি জানিয়ে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সংগঠনের নেতারা বলেন, তাদের (হরিজন) মাটি তাদের ফিরিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় দেশব্যাপী কর্মবিরতি পালন করে সমুচিত জবাব দেয়া হবে। মিরনজিল্লা হরিজন সিটি কলোনির বাসিন্দাদের সংগ্রামের পাশে থাকবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল দল-সংগঠন। গতকাল বুধবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মিরনজিল্লা হরিজন সিটি কলোনির বাসিন্দাদের বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন বক্তারা।

মিরনজিল্লা হরিজন সিটি কলোনি ভূমি রক্ষা আন্দোলন আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ হরিজন নেতা দুলাল দাস লালু চৌধুরী। বক্তব্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মিরনজিল্লার ভূমির মালিক না হয়েও যেভাবে সেখানকার বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে বহুতল মার্কেট নির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছে, সেটা দিনে দুপুরে দস্যুতার শামিল। খাস জমি ন্যায়সঙ্গতভাবেই সবার আগে ভূমিহীনদের প্রাপ্য।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও হরিজন-দলিতরা এ দেশে ভূমির অধিকার থেকে বঞ্চিত। এটাই প্রমাণ করে যাদের রক্ত ও আত্মত্যাগে দেশ স্বাধীন হয়েছে, তারাই এই দেশে সবচেয়ে অবহেলিত ও নিপীড়িত অবস্থায় আছে। সিটি করপোরেশন হরিজনদের ভূমি আত্মসাৎ করার চক্রান্ত থেকে সরে না এলে সারাদেশে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করে সমুচিত জবাব দিতে হবে।

বাংলাদেশ জয় ভীম ছাত্র-যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হেমন্ত দাসের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের নেতা ডা. হারুন অর রশীদ, সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের নেতা নিখিল দাস, বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা সীমা দত্ত, নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চার সমন্বয়ক জাফর হোসেন, গণমুক্তি ইউনিয়নের আহ্বায়ক নাসিরউদ্দিন নাসু, সাম্যবাদী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা বেলাল চৌধুরী, জাতীয় গণফ্রন্টের নেতা কামরুজ্জামান ফিরোজ, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা মনিরুদ্দিন পাপ্পু, এপিলেট ডিভিশনের আইনজীবী আইনুন নাহার লিপি, গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক তামজীদ হায়দার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দিন, মিরনজিল্লা পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি কৃষ্ণা চরণ, সাবেক সভাপতি অনু দাস, নির্মল চন্দ্র দাস, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহেশ লাল রাজু, জয় ভীম ছাত্র-যুব ফেডারেশনের নেতা পূজা হেলা ও সীমা রাণী প্রমুখ।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন- সাউথ এশিয়ান দলিত ফোরাম বাংলাদেশ চাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক ভীমপাল্লী ডেভিড রাজু, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি অংকন চাকমা, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন (টাফ) কেন্দ্রীয় নেতা দেলোয়ার হোসেন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি দিলীপ রায়, দলিত ট্রাস্টের সভাপতি রাজেন্দ্র কুমার দাস, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদ চৌধুরী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ, বাংলাদেশ লেখক শিবিরের কাইউম হোসেন, বিপ্লবী যুব মৈত্রীর সাংগঠনিক সম্পাদক তৈমুর খান অপু, সমাজচিন্তা ফোরামের আহ্বায়ক কামাল হোসেন বাদল, উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন প্রমুখ। সমাবেশ শেষে প্রেস ক্লাবের সামনের প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন ক্ষতিগ্রস্ত হরিজনরা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App