×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

খবর

তিস্তার পানি প্রবাহে বিচিত্র আচরণ

Icon

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

শেখ জাহাঙ্গীর আলম শাহীন, লালমনিরহাট থেকে : পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে খরস্রোতা তিস্তা নদী বিচিত্র আচরণ করছে। গতকাল বুধবার সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২০ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। একই দিন বিকাল ৩টায় বিপৎসীমার ১৭ সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। নদীর পানিপ্রবাহের এমন বিচিত্র আচরণে তিস্তা পাড়ের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তিস্তা নদী কুড়িগ্রামের চিলমারীতে গিয়ে মিশেছে ব্রহ্মপুত্র নদে। সেখানে আবার বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হয়। ফলে তিস্তার পানি ফুলে ফেঁপে পুনরায় বাড়তে শুরু করেছে। মহিষখোচা স্পার বাঁধকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বাড়া-কমার কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র গতকাল বুধবার জানিয়েছে, দেশের বন্যাপ্রবণ প্রধান প্রধান নদনদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। ইতোমধ্যে পাঁচ নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে উঠে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রবল বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি বাড়ছে। রংপুরাঞ্চলে প্রবল বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পানির ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি সকাল ৬টায় বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার অতিক্রম করে নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

তিস্তা নদীর পানি বাড়া-কমায় লালমনিরহাট জেলার মহিষখোচা, রাজপুর, তাজপুর, খুনিয়াগাছ, হরিচরা, দোয়ানি, গড্ডিমারী, বিইনদই, হলদিবাড়ি, পারুলিয়া, দক্ষিণ পারুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনের মুখে পড়েছে। বেশকিছু চরাঞ্চলের বাড়িঘরের চারপাশে পানি প্রবেশ করার খবর পাওয়া গেছে। পানিতে ডুবে গেছে বন্যাকবলিত এলাকার সবজি ক্ষেত। মানুষের ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় পানিতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

মহিষখোচা ও কাউনিয়ার গদাই গ্রামের নদী ভাঙনকবলিত এলাকাবাসীরা জানান, পাউবো কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। মহিষখোচা স্পার এক বাঁধকে ঝুঁকিপূর্ণ সাইনবোর্ড লাগিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছে। অথচ এ বছর শুষ্ক মৌসুমে বিভিন্ন গ্রুপে মহিষখোচার প্রায় ৪৪ কোটি টাকা খরচ করে ৮টি গ্রুপে বাঁধ সংস্কার ও নতুন বাঁধ নির্মাণ করেছে। সেই বাঁধে ইতোমধ্যে ধস দেখা দিয়েছে। বাঁধপাড়ের কৃষক রমজান আলী জানান, সাবেক এক মন্ত্রীর এপিএস ও তার আত্মীয়-স্বজনরা এখানে বাঁধ নির্মাণে সাবঠিকাদারি করেছিল। ফলে তারা নিম্নমানের কাজ ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করেছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল চন্দ্র রায় জানান, মূল ঠিকাদারদের জামানতের টাকা থেকে ধসে যাওয়া বাঁধ পুনরায় সংস্কার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের চিলাখাল সূর্যমুখী ক্বারি মাদ্রাসা, চিলাখাল মধ্যপাড়া জামে মসজিদ, উত্তর চিলাখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। কোলকোন্দ ও লক্ষীটারী ইউনিয়নের ৫ শতাধিক ঘরবাড়িতে নদীর পানি ঢুকে পড়েছে। গংঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ তামান্না বলেন, তিস্তা নদী এলাকায় বন্যা ও ভাঙনের বিষয়ে আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছি।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় কাউনিয়া পয়েন্টে সকালে হঠাৎ তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ২০ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ডালিয়া ব্যারাজের সব জলকপাট (৪৪টি) গেট খুলে রাখা হয়েছে। ডালিয়া পয়েন্টে বিকাল ৩টায় বিপৎসীমার ২৫ সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। হঠাৎ তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ বিচিত্র আচরণ করছে।

রংপুরের জেলা প্রশাসক মো. মোবাশ্বের হাসান বলেন, উজানে ভারি বৃষ্টিপাতে পানির ঢল আসার কারণে তিস্তা, ধরলা, ঘাঘট, করতোয়া, ব্রহ্মপুত্র নদনদীর পানি বেড়েছে।

এখন পর্যন্ত বন্যার আভাস পাওয়া যায়নি। সরকারিভাবে সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি নেয়া আছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App