×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

খবর

সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন শিক্ষক-কর্মকর্তারা

পেনশনের ‘টেনশনে’ অচলের পথে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়

Icon

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রকি আহমেদ : সর্বজনীন পেনশন স্কিমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন দেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। আজ রবিবার থেকে একযোগে সর্বাত্মক পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন তারা। এদিন শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়া বন্ধ থাকবে, তবে পরীক্ষা নেবেন শিক্ষকরা। তবে এদিনও দাবি মানা না হলে আগামীকাল সোমবার থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধসহ শিক্ষকরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। একডেমিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন না তারা। পাশাপাশি সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারাও আজ ও কর্মচারীরা আগামীকাল সোমবার থেকে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন। এর ফলে কার্যত অচল হতে চলেছে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। সেইসঙ্গে করোনা মহামারির পর ফের সেশনজট সৃষ্টির শঙ্কা দেখা দিয়েছে উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে পেনশন সুবিধার আওতায় আনতে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকে যারা নতুন করে সরকারি চাকরিতে ঢুকবেন তাদের জন্য পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ তালিকায় রয়েছেন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন। তারা বলছেন, এ স্কিমে ঢুকলে শিক্ষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। নতুন এ স্কিমের নাম দেয়া হয় ‘প্রত্যয়’। গত ১৩ মার্চ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে এই স্কিম বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আনার ঘোষণায় ঘুম হারাম হয়ে গেছে উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবারই। ‘প্রত্যয়’ স্কিম নামে সরকারের নতুন এ পেনশন ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত থাকলে কোটি টাকার ওপর লোকসানে পড়বেন বলে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন শিক্ষকরা। অবসরে গেলে শেষ বয়সে ‘অনিশ্চিত ভবিষ্যতে’ পড়তে চান না বলে পেনশনের টেনশনে আছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তাই ‘প্রত্যয়’ স্কিম বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন দেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. শেখ মাশরিক হাসান বলেন, ক্লাস না চলার কারণে ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম অচল হয়ে গেছে। কাল সোমবার থেকে সর্বাত্মক কর্মসূচি পালন করা হবে। এতে ক্লাস-পরীক্ষা তো চলবেই না, কোনো বিভাগে চেয়ারম্যান থাকবে না, ডিনরা কাজ করবে না। বলতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় একেবারেই অচল হয়ে পড়বে। সরকারের নতুন এই পেনশন স্কিম নিয়ে এত টেনশন কেন- এমন প্রশ্নে তিনি আরো বলেন, বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থায় এক টাকা যুক্ত না করেও ১ কোটি ১০ লাখ টাকা পাওয়া যায়। নতুন ব্যবস্থায় টাকা জমা করলে পেনশন পাওয়া যাবে ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থা থেকে নতুন পেনশন স্কিমে গেলে একজন শিক্ষককের কোটি টাকার লোকসান। তাই একজন শিক্ষকের সারাজীবনের জমানো টাকার পুরাটাই উধাও হয়ে যাবে নতুন সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায়। এতে উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেধাবী তরুণ-তরুণীরা শিক্ষকতা পেশায় আসতে উৎসাহী হবে না বলে মনে করেন তিনি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান ভোরের কাগজকে বলেন, আমাদের এ আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয়, বরং সরকারকে বাঁচাতে এ আন্দোলন। কারণ আমলাদের একটা গোষ্ঠী উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অস্থিতিশীল করতে চায়। আমাদের দাবি মানা না হলে কঠোর কর্মসূচিতে যাব। শিক্ষার্থীরা করোনা মহামারির সময় সেশনজটে ছিল, আমরা শিক্ষকরাই কাভার দিয়েছি। এটাতে জট আশা করছি তেমন বেশিদিন হবে না। শিক্ষকদের এই কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনের মহাসচিব ও ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, আমরা রবিবার (আজ) পর্যন্ত অপেক্ষা করব। যদি এর মধ্যে দাবি পূরণ না হয় তবে এ দিন আমরা সংবাদ সম্মেলনে আমাদের পরবর্তি কর্মসূচি জানিয়ে দেব। আর আমাদের দাবি মেনে নেয়া হলে বা সরকার আমাদের সঙ্গে যদি কোনো ধরনের আলাপ-আলোচনার আশ্বাস দেয় তাহলে আমরা আমাদের কর্মবিরতি শিথিল করব।

এদিকে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স ফেডারেশনের সমহাসচিব আব্দুল কাদের (কাজী মনির) ভোরের কাগজকে বলেন, রবিবার (আজ) আমরা দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করব। যদি দাবি মানা না হয় তার পরের তিন দিন সারাদিন কর্মবিরতি পালন করব। এ সময় কেউ কোনো দাপ্তরিক কাজ করবে না। এ পেনশন স্কিম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বৈষম্যের। আমরা এটা মানব না। বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মহিউদ্দীন খন্দকার বলেন, বৈষম্যমূলক পেনশন স্কিম বাতিলের দাবিতে আমরা সোমবার (আগামীকাল) থেকে টানা তিন দিন অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করব। এর সঙ্গে আমাদের আর একটি দাবি হলো- ইউজিসি যে অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে তা বাতিল করতে হবে। দাবি আদায় না হলে আমরা লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করব।

এদিকে ক্লাস পরীক্ষা অচলের কারণে সেশনজটের শঙ্কার কথা বলছেন শিক্ষার্থীরা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী মহিমা বলেন, আমাদের পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে সোমবার থেকে। কী হবে বুঝতে পারছি না। করোনা মহামারির কারণে আমরা এমনিই সেশনজটে ছিলাম। এখন আবার জটে পড়ার শঙ্কায় রয়েছি।

দ্রুত এ অচলাবস্থা কেটে যাক। আমরা ক্লাস-পরীক্ষা চাই।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন অচলাবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর ভোরের কাগজকে বলেন, গত ২৩ জুনের মিটিংয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। এখন এ বিষয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আমরা সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App