×

খবর

থাকবে গরমের তীব্রতাও

৬ জুলাই পর্যন্ত চলবে ভারি বৃষ্টি

Icon

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে বর্ষাকালের মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়েছে দেশজুড়ে। আর উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র রয়েছে প্রবল অবস্থায়। এতে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হয়েছে উত্তর বঙ্গোপসাগরে। বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এ কারণে বিস্তৃত হয়েছে শক্তিশালী বৃষ্টিবলয়। যার ফলে গোটা দেশেই মাঝারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

গতকাল শনিবার থেকে ঢাকাসহ প্রায় সারাদেশেই বৃষ্টি হচ্ছে। অধিকাংশ এলাকায় ২০ মিলিমিটারের উপরে বৃষ্টি হয়েছে। সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ফেনীতে, ১১৩ মিলিমিটার। রাজধানী ঢাকায় গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ৫৫ মিলিমিটার। এভাবে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত ৭ দিন টানা বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। এই সময়ে ২৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের আশঙ্কার কথা বলেছেন তারা। কয়েকদিন ধরেই বেশির ভাগ অঞ্চলে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। আকাশে মেঘমালার ঘনঘটা। ভার হয়ে আছে আকাশ। আবহাওয়ার এই পরিস্থিতিতেও গরমের তীব্রতা অব্যাহত রয়েছে এবং অব্যাহত থাকবে। গুমোট গরমে নাজেহাল দশা মানুষের। আবার বৃষ্টিতেও ঢাকা মহানগরীসহ বিভিন্ন শহর পানিতে ডুবে যাচ্ছে। সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতার। এতে দুর্ভোগে পড়ছেন সংশ্লিষ্ট নগরবাসী।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মাল্লিক বলেন, দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ার ফলে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত টানা অতি বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে ভারি বৃষ্টি হলেও বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় গরমের তীব্রতা একই রকম থাকবে। বিভিন্ন আবহাওয়া মডেল বিশ্লেষণ করে কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, পশ্চিমা লঘুচাপ, বর্ষাকালের মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ ও দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিনই বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন বিভাগের জেলাগুলোর ওপর হালকা থেকে মাঝারি মানের বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিদিনই সারাদেশে ১০ থেকে ২৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী সোমবার ও মঙ্গলবার এককভাবে সর্বোচ্চ পরিমাণে বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যে মেঘালয় সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জের ছাতক ও সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ এবং জৈন্তাপুরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঘোষণা অনুসারে, ২৪ ঘণ্টায় ১ থেকে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে হালকা বৃষ্টি ধরা হয়। আর ১১ থেকে ১২ মিলিমিটার হলে মাঝারি ধরনের, ২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটার হলে মাঝারি ধরনের ভারি, ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার হলে ভারি এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি হলে অতি ভারি বৃষ্টি বলা হয়। আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ জানান, অতি ভারি বর্ষণে চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসেরও আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া দেশের দিনাজপুর, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App