×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

খবর

সংস্কার কাজের ধীর গতিতে জনদুর্ভোগ চরমে

কালুরঘাট সেতুতে যানবাহন চলাচল আরো এক মাস পর

Icon

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 কালুরঘাট সেতুতে যানবাহন চলাচল আরো এক মাস পর

চট্টগ্রাম অফিস : কর্ণফুলী নদীর উপর নির্মিত কালুরঘাট সেতুর সংস্কার কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করে গাড়ি ও পথচারী পারাপারের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার কথা থাকলেও নানা অজুহাতে এখনো তা শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দাদের যাতায়াতে ভোগান্তি বাড়ছেই।

এদিকে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উপযোগী করতে আরও অন্তত এক মাস সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। তারা জানান, সেতুর পিচঢালার কাজ (কার্পেটিং) এখনো ২৫ শতাংশ বাকি রয়েছে। এছাড়া ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধে সেতুর দুই প্রান্তে উচ্চতা প্রতিবন্ধক বসানো হয়নি।

কালুরঘাট সেতু দিয়ে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী এবং পটিয়া ও রাঙ্গুনিয়ার প্রায় প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ চট্টগ্রাম নগরে আসা-যাওয়া করতেন। এ সেতুর সংস্কার কাজের জন্য যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে ফেরি ও নৌকা চলাচল শুরু করে। এতে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষের।

এদিকে নতুন কালুরঘাট সেতু নির্মাণ ও এ সেতু সংস্কারের কাজ দ্রুত শেষ করতে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে মানববন্ধন, সংশ্লিষ্ট এমপি-মন্ত্রী, সরকারি দপ্তরকে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত সোমবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে কালুরঘাট সেতু দ্রুত সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম। এ সময় বক্তারা বলেন, কর্ণফুলী নদীর উপর কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন চট্টগ্রামের জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি। সেতুটি নির্মাণ হলে শহরের যানজট কমবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চট্টগ্রামের জনগণ এই সেতুর জন্য বহুদিন ধরে অপেক্ষা করছে এবং সরকারকে দ্রুত এই প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিতে হবে। কালুরঘাট সেতু নির্মাণ না হওয়ায় নগরবাসীকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এটি কেবল পরিবহন ও যোগাযোগের সমস্যা নয়, বরং নগরের সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। এখন যে সেতু রয়েছে সেটির সংস্কার কাজেও ধীরগতি। এটি খুবই দুঃখজনক। বক্তারা সেতুর সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান।

এদিকে সেতুর সংস্কার কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা বলছেন, রেলওয়ের পক্ষ থেকে সময়মতো সংস্কার কাজের বিল পরিশোধ করা হচ্ছে না। এ কারণে কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া দেশের বাইরে থেকে নির্মাণ উপকরণ সামগ্রী আনার ক্ষেত্রেও সময় বেশি লেগেছে। রেলওয়ের এক প্রকৌশলী বলেন, কালুরঘাট সেতুর পিচঢালার কাজ হয়েছে ৭৫ শতাংশ। আগামী সপ্তাহে বাকি কাজ শুরু হবে। তা শেষ করতে ১৫ দিন সময় লাগবে। এরপর তা যান চলাচলের উপযোগী হয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পরামর্শক দল। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর যান চলাচলের জন্য সেতু খুলে দেয়া হবে। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্তত আরও এক মাস সময় লাগবে।

প্রসঙ্গত ১৯৩১ সালে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর উপর নির্মিত হয় কালুরঘাট রেলসেতু। ১৯৬২ সালে যান চলাচল শুরু হয়। এর আগে দুবার সংস্কার করা হয়েছিল। কালুরঘাট রেলসেতুর বয়স এখন ৯৩ বছর। ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের জন্য সেতুতে বড় ধরনের সংস্কার কাজের উদ্যোগ নেয় রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল। কাজ শুরু হয় গত বছরের ১ আগস্ট থেকে। এজন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের সঙ্গে ৪৩ কোটি টাকার চুক্তি করে রেল। চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের মার্চে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। সংস্কার কাজ শুরুর দিন থেকে পাশে যাতায়াতের বিকল্প হিসেবে ফেরি চালু করা হয়। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উদ্যোগে ফেরি চালু হয়। তবে শুরুর দিনই জোয়ারের পানিতে বেইলি সেতু ডুবে যায়। সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল ফেরিও। শুরু থেকে ফেরি পারাপারে যে ভোগান্তি তা আর পুরোপুরি দূর হয়নি। এমনকি দুটি দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ফেরি পারাপারের সময় দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অনেকেই।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App