×

খবর

ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়াই আজ জাবির সিনেট অধিবেশন

Icon

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

তানভীর ইবনে মোবারক, জাবি প্রতিনিধি : দীর্ঘ ৩১ বছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন বন্ধ থাকায় ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়াই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১তম সিনেট অধিবেশন।

আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলমের সভাপতিত্বে ৪১তম বার্ষিক সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।

ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়া এই সিনেট অধিবেশনকে ‘অপূর্ণাঙ্গ’ অভিহিত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ছাত্র নেতারা বলেন, ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ-১৯৭৩ অনুযায়ী জাবির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সিনেট।

সেই সিনেটে অন্যান্য প্রতিনিধির সঙ্গে অধ্যাদেশের ১৯(১) এর (কে) ও ১৯(২) ধারা মেনে জাকসু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা এবং উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনে সিনেটে ৫ জন ছাত্র প্রতিনিধির বিষয়টি ৩১ বছরে নিশ্চিত করা হয়নি। দীর্ঘ সময় ছাত্র প্রতিনিধিদের মনোনীত সদস্য ছাড়াই সিনেটের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়ার প্রতিফলন ঘটেনি।

অন্যদিকে, জাকসু ও হল সংসদ না থাকায় বর্তমানে ক্যাম্পাসে যোগ্য ছাত্র নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড মন্থর গতিতে চলছে বলে অভিযোগ ছাত্রনেতাদের। অ্যাক্ট অনুযায়ী সিনেটের মোট সদস্য ৯৩ জন। তবে এবারের সিনেটে রয়েছেন ৮৮ জন সদস্য। শুধু ছাত্র প্রতিনিধিদের আসন শূন্য রয়েছে।

১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরুর পর বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৪০টি সিনেট অধিবেশন হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ ৫৩ বছরে মাত্র ৯ বার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯২ সালে। তারপর ৩১ বছরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি।

ফলে ৩১ বছরে জাকসু মনোনীত পাঁচজন ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়াই সিনেট অধিবেশন হওয়ায় বরাবরই শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি-দাওয়া উপেক্ষিত থেকে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭২ সালে প্রথম জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যাতে গোলাম মোর্শেদ ভিপি এবং রোকন উদ্দিন জিএস নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৭৪, ১৯৭৯, ১৯৮০, ১৯৮১, ১৯৮৯, ১৯৯০, ১৯৯১, ১৯৯২ সালসহ মোট ৯ বার জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী বছর অর্থাৎ ১৯৯৩ সালের ২৯ জুলাই এক ছাত্রের বহিষ্কারকে কেন্দ্র করে ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধলে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ আহমেদ জাকসু ও হল সংসদ বাতিল করেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, সঙ্গত কোনো কারণ না থাকলে প্রতি বছরই জাকসু নির্বাচন হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১৩ সালে জাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলেও নানা জটিলতায় তা অনুষ্ঠিত হয়নি। এছাড়া ২০১৯ সালে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম জাকসুর নির্বাচনের জন্য অধ্যাপক আব্দুল মান্নানকে নির্বাচন কমিশনার করে নির্বাচন কমিশন গঠন করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নির্বাচন হয়নি।

২০২২ ও ২০২৩ সালে সিনেট অধিবেশনেও উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলম জাকসু নির্বাচনের আশ্বাস দেন। তার আশ্বাস শেষ পর্যন্ত আশ্বাসই থেকে যায়। নির্বাচন আর হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল বলেন, আমি মনে করি এটা শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করার সামিল। শিক্ষার্থীদের যে চাওয়া-পাওয়া, তা সিনেটে উত্থাপিত হচ্ছে না। এছাড়া জাকসু না থাকায় শিক্ষার্থীরা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাই অতি দ্রুত জাকসু নির্বাচন দেয়া হোক এবং নির্বাচনের মাধ্যমে সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি রাখার বিষয়টির গুরুত্ব ভুলে গেলে চলবে না।

ছাত্র ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংসদের সভাপতি আলিফ মাহমুদ বলেন, ৭৩ এর অধ্যাদেশ অনুযায়ী জাকসু মনোনীত পাঁচজন সদস্য সিনেটে থাকার কথা থাকলেও প্রশাসন কোনো ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়াই চালিয়ে যাচ্ছে সিনেট অধিবেশন। ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়া সিনেটে হওয়া বাজেট প্রণয়ন কখনোই শিক্ষার্থীবান্ধব হতে পারে না। জবাবদিহিতামূলক ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচিত ছাত্র নেতৃত্ব দরকার। তিন দশকে জাকসু নির্বাচন না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হতাশ। পক্ষান্তরে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের নির্বাচন ঠিকই হচ্ছে। অথচ যেই শিক্ষার্থীদের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়, তাদের হয়ে কথা বলার মতো কোনো প্রতিনিধি নেই। জাকসু নির্বাচনের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্বিকার।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ছাত্রদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার কথা বলা হলে বিভিন্ন অজুহাতে তা খারিজ করে দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট হিসেবে নির্বাচিত সিনেট সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, যেহেতু ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের কোনো কাজ হয় না, সে কারণে সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি অবশ্যই দরকার। এই নিয়ে আমরা প্রতি সিনেটেই দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু এটাকে বাস্তবে রূপ দেয়ার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। এখন যেহেতু সিনেটের অন্যান্য ক্যাটাগরির নির্বাচন হচ্ছে, তাই জাকসু নির্বাচনও খুব দ্রুত হওয়া উচিত। এটা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চান, তাহলে অবশ্যই এই নির্বাচন সম্ভব। আমরা এবারো সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধির বিষয়টি উল্লেখ করব, কেননা জাকসু নির্বাচন না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব তৈরি হয় না।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App