×

খবর

ড. এ কে আব্দুল মোমেন

আমরা কারো উপদেশ নেব না, দেব

Icon

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : ভারতের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক না থাকলে বাংলাদেশের ‘খবর’ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেছেন, এই কানেক্টিভিটি আওয়ামী লীগের অর্জন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ লাভবান হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এডুকেশন রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (ইআরডিএফবি) আয়োজিত ‘আওয়ামী লীগের সফল ও গৌরবময় পথচলার ৭৫ বছর’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মোমেন।

সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব না থাকলে টেকসই উন্নয়ন ধরে রাখা যাবে না। এ অঞ্চলে বাংলাদেশ ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ চায় না। অনেকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে বাস্তবতা হলো ভারতের সঙ্গে কানেক্টিভিটি আওয়ামী লীগের অর্জন। এ সম্পর্কের জন্য বাংলাদেশ লাভবান হচ্ছে। বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশের এখন উপদেশ দেয়ার সময় বলে মন্তব্য করে ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, বিশ্বের ভবিষ্যৎ কী ধরনের হওয়া উচিত, আমেরিকার বৈদেশিক নীতি কী ধরনের হওয়া উচিত- সেগুলোতে আমরা এখন উপদেশ দেব। আমাদের এখন উপদেশ নেয়ার সময় না, উপদেশ দেয়ার সময়। তিনি আরো বলেন, এখন থেকে বাংলাদেশ আমেরিকার উপদেশ নেবে না, বরং উপদেশ দেবে। সংকীর্ণ পররাষ্ট্রনীতি কিংবা দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখলে আমেরিকা বিশ্বের কাছে ‘কুলাঙ্গার’ হিসেবে পরিচিতি পাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনো চাপের কাছে মাথানত করেননি, লেজুড়বৃত্তি করেননি, ভবিষ্যতেও করবেন না।

মোমেন বলেন, দুনিয়া নিয়ে ভাবার সময় আমাদের এখন এসেছে। আমরা তাদের আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চাই। এজন্যই আমাদের প্রয়োজন আছে রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোর প্রতি আমাদের দাবি, অস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধ করে মানুষের মন মানসিকতা ও সংস্কৃতির বিকাশে সেই টাকাগুলো খরচ করা হোক। পশ্চিমা বিশ্বের ফ্রি থিঙ্কিংয়ের পরিধি সীমিত হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি আমাকে দাওয়াত দেয়, জিও পলিটিক্সের বিষয়ে আলোচনা করতে। তারপর তারা আমাকে শর্তও দিয়ে দেয়, আপনি গাজা এবং ফিলিস্তিনের ইস্যুতে কোনো কথা বলবেন না। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির মতো বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে উন্মুক্তভাবে সব কিছু আলোচনা করা যায়। তারা এখন কতটা ‘ন্যারো মাইন্ডেড’ হয়ে গেছে, এটা থেকেই বোঝা যাচ্ছে।

একে আব্দুল মোমেন বলেন, আওয়ামী লীগের সফল এবং গৌরবময় এই ৭৫ বছরের ইতিহাসে ৪৩ বছর নেতৃত্ব দিচ্ছেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দক্ষতার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা করে আসছেন। তার জাদুকরি নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের তালিকায় নি¤œ আয়ের দেশ থেকে বেরিয়ে নি¤œ-মধ্য আয়ের দেশে জায়গা করে নিয়েছে আরো আগেই। তিনি আরো বলেন, বর্তমান অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বড় প্রকল্পগুলোর উদ্যোগ নিয়েছে এই সরকার, বাস্তবায়নও প্রতিনিয়ত দৃশ্যমান হতে চলেছে। ভাবা যায়, ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে আখ্যায়িত এই দেশে আজ হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে পদ্মা সেতু, ঢাকা মেট্রোরেল, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং কর্ণফুলী ট্যানেলসহ অনেক উন্নয়ন প্রকল্প।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খান, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. ইসমাইল খান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কামরুল আলম খান, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া এবং রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সেলিনা আখতার প্রমুখ। সভায় মূল আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App