×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

খবর

আমলাদের দুর্নীতির অভিযোগে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন কামরুল

Icon

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আমলাদের দুর্নীতির অভিযোগে  ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন কামরুল

কাগজ প্রতিবেদক : সরকারের আমলা ও পদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগকে ‘জাতীয়-আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ’ মনে করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। তবে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে সেটাকে ‘সত্য’ বলেও মনে করেন তিনি। পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও কাস্টমস কর্মকর্তা মতিউর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, যাদের বিরুদ্ধে আজ অভিযোগ তারা কেন আইনকে ভয় পায়? আইনকে ভয় পেয়ে বিদেশে কেন চলে যায়? আজ বেনজীর সাহেব, ছাগলকাণ্ডের কর্মকর্তারা কেন আইনকে ভয় পায়? আইনকে ভয় পায় মানে হচ্ছে তারা দুর্নীতিগ্রস্ত। তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সেগুলো সত্য। এটা ষড়যন্ত্রের অংশ। কিন্তু তারপরও এগুলো সত্য বলে প্রতীয়মান হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের দুর্নীতিতে ছাড় দেয়া হয় না- এই দাবি করে কামরুল ইসলাম বলেন, ইদানীং যে সমস্ত ঘটনা ঘটে যাচ্ছে, আমি বিশ্বাস করি এগুলো একটা ষড়যন্ত্রের অংশ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে হঠাৎ করে কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রচার-প্রোপাগান্ডা হচ্ছে। দেশের মানুষের সন্দেহ হয়, আজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দুর্নীতির বিষয়টি সামনে এসেছে। কিন্তু এ কথা স্বীকার করতে হবে, যাদের বিরুদ্ধে আজ অভিযোগ তারা কেন আইনকে ভয় পায়? আইনকে ভয় পেয়ে বিদেশে কেন চলে যায়? তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সেগুলো সত্য।

সাবেক মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আজ সৎ নেতা হিসেবে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। সেখানে বাংলাদেশ কোনো অবস্থাতেই দুর্নীতিগ্রস্ত বা দুর্নীতিবাজদের সহ্য করতে পারে না। ?বিএনপি কখনো তাদের দুর্নীতিবাজদের শায়েস্তা করতে পারেনি। আওয়ামী বিভিন্ন সময় মন্ত্রী-এমপিদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে প্রমাণ করেছে...।

কামরুল ইসলাম বলেন, দেশের ব্যাংকলুটেরা, অর্থ পাচারকারী ও এ সমস্ত দুর্নীতিবাজরা আমাদের গায়ে চুনকালি মাখতে পারে না। কিছুদিন আগে ক্যাসিনোকাণ্ডে আমাদের অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন। ক্যাসিনোকাণ্ডে যেমনভাবে বিচার করা হয়েছিল, তেমনিভাবে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহথির মোহাম্মদকে ছাড়িয়ে যাবেন উল্লেখ করে কামরুল ইসলাম বলেন, যদি দুর্নীতিবাজ, ব্যাংকলুটেরা ও অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, বিশ্বাস করি তিনি আবার ক্ষমতায় আসবেন। এখনই সময় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের। আমরা রাজনীতি যারা করি আমাদের লজ্জা হয় যখন এ সমস্ত দুর্নীতিবাজ, ব্যাংকলুটেরাদের চিত্র দেখি।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের সরকার দলীয় এমপি আরমা দত্ত বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে আসছেন। কিন্তু কতিপয় সুবিধাবাদী মানুষ দুর্নীতি করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। এটা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হুছামুদ্দীন চৌধুরী বলেন, যারা পুকুর চুরি করে তাদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে। তিনি বলেন, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে। এই সুযোগে যেন দুর্নীতিবাজরা উৎসাহিত না হয় সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।

সংসদ সদস্যের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা রাখার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলাম, ভাবলাম যে একটি ট্যাক্সমুক্ত গাড়ি পাব। এখানেও আমাদের ওপর ট্যাক্স আরোপ করে দেয়া হয়েছে। জীবনে প্রথম স্বপ্নটি কি বাস্তবায়ন হবে না! কত গাড়ি মিসইউস হচ্ছে, পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সরকারের বিভিন্ন বিভাগে এগুলো অব্যবস্থাপনায় পড়ে আছে। আর ৩০০ সংসদ সদস্য একটি করে গাড়ি পাবেন সেখানে তা-ও আবার ২৫ শতাংশ কর দিতে হবে এটি আমাদের কাম্য নয়।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান বলেন, মূল্যস্ফীতি কমাতে হবে। অর্থমন্ত্রী এজন্য পরিকল্পনা নিয়েছেন। কিন্তু অর্থমন্ত্রী যে মডেল নিয়েছেন একই মডেল যুক্তরাষ্ট্র অনুসরণ করে পাঁচ বছরেও সফল হয়নি। তিনি অর্থমন্ত্রীকে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে আবার বসার আহ্বান জানান।

বাজেটের ওপর আলোচনায় আরো অংশ নেন এমপি রমেশ চন্দ্র সেন, শফিকুল ইসলাম শিমুল, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুন্নুজান সুফিয়ান, আরমা দত্ত, দেওয়ান জাহিদ আহমেদ, মো, হুছামুদ্দীন চৌধুরী, রেজিয়া ইসলাম, মহিউদ্দিন আহমেদ, মো. আসাদুজ্জামান, গোলাম সরওয়ার টুকু, এস এম আল মামুন, এ বি এম শহিদুল ইসলাম, মো. আখতারউজ্জামান, দিলোয়ারা ইউসুফ, মাহমুদ হাসান, রেজওয়ান হাসান তৌফিক, ফেরদৌস আহমেদ, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী রোকেয়া সুলতানা প্রমুখ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App