×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

খবর

রাসেলস ভাইপার নিয়ে সেমিনারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

উপজেলা পর্যায়েও পর্যাপ্ত এন্টিভেনম আছে

Icon

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : সম্প্রতি দেশজুড়ে বহুল আলোচিত রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া সাপটি সারাবিশ্বে বিষধর ১০টি সাপের মধ্যে নেই। এই সাপ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দেশে পর্যাপ্ত এন্টিভেনমের মজুত রয়েছে এবং উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত তা পৌঁছানো হয়েছে।

‘রাসেলস ভাইপার : ফেরার ভার্সেস ফ্যাক্ট’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব কনভেনশন হলে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. টিটু মিঞা। প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ নূরুল হক, বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের মহাসচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর।

সেমিনারে বৈজ্ঞানিক সেশনে রাসেলস ভাইপার সাপ এবং এন্টিভেনম নিয়ে বক্তব্য রাখেন- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু রেজা, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবু শাহীন মো. মাহবুবুর রহমান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. অনিরুদ্ধ ঘোষ।

আলোচকরা বলেন, দেশের ২৭ জেলায় বহুল আলোচিত রাসেলস ভাইপার পাওয়া গেছে। এর মানে এই নয় যে, এসব এলাকার মানুষ ঘর থেকে বের হবে না। এই সাপ নিয়ে অনেক বেশি গুজব ছড়িয়েছে। এই সাপ কখনো তেড়ে এসে মানুষকে কামড়ায় না। সে বিপদের ঝুঁকি দেখলেই শুধু কামড় দেয়। ২০১৩ সালে প্রথমবার সাপটির কামড়ে রোগী পাওয়া যায়। এ সাপের দংশনে ৭০ শতাংশ রোগী সুস্থ হচ্ছে। বাকি ৩০ শতাংশের জন্য দায়ী দেরিতে হাসপাতালে আসা। বর্তমানে দেশে এর এন্টিভেনম রয়েছে। প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর এন্টিভেনম পৌঁছে দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দেশে এর এন্টিভেনম তৈরির কাজ চলমান আছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, রাসেলস ভাইপার নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। জনগণের কাছে এই বার্তাটি পৌঁছে দিতে হবে।

রোগীকে চিকিৎসকের কাছে দ্রুত নিয়ে আসার ব্যবস্থা করার জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই, আমাদের এন্টিভেনমের সংকট নেই। উপজেলা পর্যায়েও পর্যাপ্ত এন্টিভেনম রয়েছে। আর দরকার হলে আমরা তা আমদানির ব্যবস্থা করবো।

ডা. রোকেয়া সুলতানা বলেন, বাংলাদেশে সবাই ডাক্তার। এটি একটি বড় সমস্যা। আমাদের এখানে যে কোনো রোগে মানুষ নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ওষুধ খায়। এমনকি এন্টিবায়োটিকও খায়। সাপের কামড়ে ওঝাদের কাছে না গিয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। সাপের বিষয়ে আমরা সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছি। এই বিষয়ে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাই।

অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক বলেন, দেশে ৬৬৫ জনকে প্রতিদিন কুকুরে কামড়ায়। পানিতে ডুবেও অনেক সংখ্যক মানুষ মারা যায়। রাসেলস ভাইপারে কামড়ের সংখ্যা আরো অনেক কম। এ বিষয়ে আতঙ্ক তৈরি না করে সচেতন হতে হবে।

অধ্যাপক ডা. মো. টিটু মিঞা বলেন, সাপে কাটা রোগী যদি হাসপাতালে এসে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পেয়ে মারা যায়, এর দায় আমাদের। আমাদের প্রতিটি হাসপাতালে এন্টিভেনম পৌঁছানো হয়েছে। আমাদের চিকিৎসকরা এ বিষয়ে প্রশিক্ষিত। তবে ওঝাসহ নানা কারণে রোগী হাসপাতালে আসতে দেরি করায় মৃত্যু বাড়ে। দেরিতে হাসপাতালে আসায় রোগীরা অন্তত ক্রিটিক্যাল অবস্থায় চলে যায়।

অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, সাপের বিরুদ্ধে বিপ্লব ঘোষণা করা হয়েছে। এটি করা যাবে না। সাপ ইকোলজিক্যাল ব্যালেন্স রক্ষা করে। সাপের বিষ ওষুধ তৈরির একটি উপাদান। মানবসৃষ্ট কারণে সাপ তার বাসস্থান থেকে লোকালয়ে আসছে। রাসেলস ভাইপার নিয়ে অসংখ্য মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বিষধর সাপের একটি। অথচ বিশ্বের দশটি বিষধর সাপের মধ্যেও নেই এই সাপটি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App