×

খবর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল

উৎপাদনকারী না হয়েও মাদকের কবলে দেশ

Icon

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও উদ্বেগজনক হারে তরুণ সমাজে মাদকাসক্তি বাড়ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান জানিয়েছেন, মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হয়েও মাদক সমস্যার কবলে পড়েছে বাংলাদেশ। এই সমস্যা মূলত ভৌগলিক কারণে। দেশে অবৈধ মাদক প্রবেশ করে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে। বর্তমান সময়ের আলোচিত মাদক ইয়াবার অনুপ্রবেশ ঘটে মিয়ানমার থেকে। ভারত থেকে আমাদের দেশে গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন ও ইনজেক্টিং ড্রাগ অনুপ্রবেশ করে। গতকাল বুধবার নুরুন্নবী চৌধুরী হাজারীর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এসব কথা জানান। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।

নিজাম উদ্দিন হাজারীর অন্য এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে মিয়ানমারের নাগরিকদের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশ সরকার নানা ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদীসহ সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের স্থান/পয়েন্টগুলো গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থেকে টহল অব্যাহত রেখেছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট ডিউটি মোতায়েন করা হয়েছে। নতুন কোনো মিয়ানমারের নাগরিক এবং এফডিএমএন যাতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সেই লক্ষ্যে মিয়ানমার সীমান্তে টহল কার্যক্রম জোরদার, বিওপি ও পোস্টগুলোর জনবল বাড়ানো এবং গোয়েন্দা নজরদারি বহুলাংশে বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া মায়ানমার সীমান্তে নতুন করে আরো চারটি বিওপি স্থাপনের কাজ চলছে।

তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অন্যান্য সদস্যসহ মোট ৬১৮ জনকে দ্রুততম সময়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া গত ৪ মে থেকে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনী এবং অন্যান্য সদস্যসহ মোট ১৩৪ জন বিজিবির তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। ওই সদস্যদের প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ চলছে। অনুপ্রবেশের তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য নূরুন্নবী চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ বাস্তবায়নে সব সংস্থা বদ্ধপরিকর। দেশের তরুণ সমাজ ও তারুণ্যের শক্তিকে মাদক ও নেশার হাত থেকে রক্ষার জন্য মাদক নির্মূলে সরকার গত ১৫ বছরে বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। সেজন্য মাদকাসক্ত শনাক্ত করার জন্য ডোপ টেস্ট প্রবর্তন করা হয়েছে। সরকারি চাকরিতে প্রবেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে মাদকাসক শনাক্তকরণে ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। এ ডোপ টেস্ট চালুর ফলে তরুণ সমাজ মাদক নিতে নিরুৎসাহিত হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশে গত ১৬ বছরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে প্রায় ১৪ লাখ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭০ মামলার বিপরীতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বাংলাদেশের কারাগারে বিভিন্ন অপরাধে ৩৬৩ জন বিদেশি নাগরিক আটক আছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য বেগম ফরিদা ইয়াসমিন লিখিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরো জানান, আটকের তালিকায় রয়েছে ভারতের ২১২ নাগরিক। মিয়ানমারের ১১৪ নাগরিক। পাকিস্তানের রয়েছে ৭ জন। নাইজেরিয়ার রয়েছে ৬ জন। মালয়েশিয়ার রয়েছে ৬ জন। আমেরিকার একজন ও চীনের ৪ জন।

সরকারি দলের আরেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারির প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কক্সবাজার এলাকায় বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিকরা (রোহিঙ্গা) জননিরাপত্তা বিঘœকারী হত্যা ও অস্ত্র মামলায় ৯৯৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেসঙ্গে ক্যাম্প এলাকায় জননিরাপত্তা বিঘœকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে নজরদারি করা হচ্ছে এবং সন্ত্রাসীদের দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App