×

খবর

টিসিআরসির গবেষণা

হাসপাতালে ধূমপানের হার ৮৮%

Icon

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : জনসমাগমস্থল ও পরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ থাকলেও ৫৭ শতাংশ জনসমাগমস্থল এবং ৪৪ শতাংশ গণপরিবহনে ধূমপান করতে দেখা গেছে। বিভাগীয় শহরগুলোয় এই পরিসংখ্যান যথাক্রমে ৪২ ও ৩৭ শতাংশ। হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শতভাগ ধূমপানমুক্ত থাকার কথা থাকলেও ৮৮ শতাংশ হাসপাতাল এবং ৫৮ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধূমপান করতে দেখা গেছে। ১০০ শতাংশ লঞ্চ ও ফেরিতে ধূমপান চলছে। তা শুধু ধূমপায়ীকেই নয়, আশপাশের সবাইকে পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি করছে।

৮টি বিভাগীয় শহরে ‘পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের অবস্থা’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল বুধবার সকালে টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি), ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ডেভেলপমেন্ট অ্যাকটিভিটিস অব সোসাইটি (ডাস্) ও বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোটের সম্মিলিত উদ্যোগে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে এই গবেষণা প্রতিবেদনের ফল প্রকাশ করা হয়।

বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোটের উপদেষ্টা মোজাফ্ফর হোসেন পল্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের পরামর্শক হোসেন আলী খোন্দকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন ট্যুরিস্ট পুলিশ ঢাকা রিজিওনের পুলিশ সুপার মো. নাইমুল হক পিপিএম, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) জেসমিন আরা বেগম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সরকার ফারহানা কবীর, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের সিনিয়র রোডসেফটি স্পেশালিস্ট মো. মামুনুর রহমান ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ভাইটাল স্ট্রাটেজিস-বাংলাদেশের সিনিয়র কারিগরি পরামর্শক সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন। এছাড়া আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন এইড ফাউন্ডেশনের প্রকল্প পরিচালক শাগুফতা সুলতানা, মাদকবিরোধী সংগঠন প্রত্যাশার সেক্রেটারি জেনারেল হেলাল আহমেদ প্রমুখ। বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোটের প্রতিনিধি ও ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের হেড অব প্রোগ্রাম সৈয়দা অনন্যা রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিসিআরসির প্রকল্প ব্যবস্থাপক ফারহানা জামান লিজা। গবেষণার জরিপ থেকে জানা যায় দুটি বিদেশি সিগারেট কোম্পানি সবচেয়ে বেশি আইনভঙ্গ করে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরের বিভিন্ন জনসমাগমস্থল ও গণপরিবহনে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮৮ শতাংশ বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে আইন লঙ্ঘনের চিত্র পাওয়া গেছে। ১৭ শতাংশ জনসমাগমস্থলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের দিয়ে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করা হচ্ছে। গবেষণার সুপারিশে বলা হয়েছে, সব জনসমাগমস্থল ও গণপরিবহনে ধূমপানমুক্ত চিহ্ন স্থাপন নিশ্চিত করতে হবে। আইন লঙ্ঘন করে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী ছাড়াই তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করলে মামলা করাসহ তামাকজাত দ্রব্যে বিক্রয়ে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করতে হবে। পাশাপাশি জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভায় সিনিয়র স্বাস্থ্য কর্মকর্তা/ স্যানিটারি কর্মকর্তার মাধ্যমে আইনভঙ্গ সংক্রান্ত মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা এবং মনিটরিং রিপোর্ট সভায় উপস্থাপন করতে হবে।

এছাড়া নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা এবং এর প্রতিবেদন টাস্কফোর্স কমিটি ও জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলে পাঠাতে হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App