×

খবর

ঘূর্ণিঝড় রেমাল

কৃষিতে ১০৬০ কোটি টাকার ক্ষতি ৫ লাখ ৩৭ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত

Icon

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : ঘূর্ণিঝড় রেমালে দেশের ৫০ জেলায় প্রায় ৬২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১ হাজার ৫৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৩৭ হাজারেরও বেশি কৃষক।

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) জানিয়েছে, ২৫ জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ২ লাখ ২৭ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। তাদের মাঝে প্রায় ১৬ কোটি ১১ লাখ টাকার বীজ ও সার বিতরণ করা হবে।

গত ২৬ মে উপকূলসহ দেশের উপর দিয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমাল আঘাত হানে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জলোচ্ছ¡াস ও ভারি বৃষ্টিপাতে পানিতে তলিয়ে যায় বিস্তীর্ণ জনপদ। লবণ পানির প্রবেশ ও জলাবদ্ধতার কারণে ১৪টি কৃষি অঞ্চলের ৫০টি জেলার ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানায় কৃষি মন্ত্রণালয়। ১৪ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর ফসলি জমির মধ্যে ক্ষতির এ পমিাণ খুবই কম বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড়ে আউশ বীজতলা, আউশ আবাদ, বোরো, বোনা আমন, গ্রীষ্মকালীন সবজি, পাট, ভুট্টা, তিল, মুগ, আদা, হলুদ, মরিচ, চিনাবাদাম, আম, লিচু, পেঁপে, কলা, পেয়ারা, পান, আখ ও তরমুজ ফসলের ক্ষতি হয়। তবে বেশি ক্ষতি হয়েছে আউশ ধান ও বীজতলা। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো হচ্ছে- ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, ফেনী, ল²ীপুর, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, রাজশাহী, নাটোর, বগুড়া, জয়পুরহাট, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নড়াইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার।

অধিদপ্তর ফসলের ক্ষতির একটি হিসাব তৈরি করেছে। তাতে দেখা গেছে, ৬২ হাজার ৭৮৩ দশমিক ৮২ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এ ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫৯ কোটি ৫০ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। আর কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৩৭ হাজার ২৩৪ জন।

এদিকে কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের সব জেলাসহ উপকূলীয় ২৫ জেলার ২ লাখ ২৭ হাজার ৭০৪ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানায়, এসব কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার প্রদানের জন্য ১৬ কোটি ১১ লাখ ৫২ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রত্যেক কৃষককে বিনামূল্যে ৫ কেজি করে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের রোপা আমনের বীজ এবং ১০ কেজি করে ডিএপি ও এমওপি সার দেয়া হবে। ঈদের পরে তালিকভুক্ত কৃষকদের মাঝে এই কৃষি উপকরণ প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আনুষ্ঠানিকভাবে এসব উপকরণ বিতরণের জন্য কৃষিমন্ত্রীর পটুয়াখালীতে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে ডিএইর শীর্ষ সূত্র জানিয়েছে।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে ১৫ জেলার ২১ হাজার ৫৫ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় আনার কথা জানায় ডিএই। এতে বরাদ্দ করা হয় ১ কোটি ৪৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ বাদল চন্দ্র বিশ্বাস ভোরের কাগজকে বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের সময় মাঠে তেমন ফসল ছিল না। তাই ক্ষতির পরিমাণ কম হয়েছে। তিনি বলেন, বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ২৫ জেলার প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষককে পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় যে টাকা বরাদ্দ দিয়েছে তা দিয়ে কৃষি উপকরণ দেয়া হবে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক (সরজমিন উইং) কৃষিবিদ তাজুল ইসলাম পাটোয়ারী ভোরের কাগজকে বলেন, এ সময়ে মাঠে তেমন ফসল ছিল না। এখন ক্ষেতে কেবল আউশ ধানের বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে। আর সামান্য গ্রীষ্মকালীন সবজি ছিল। তাই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ক্ষতি কম হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের আওতায় আনা গেলে অনেকটাই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App