×

খবর

লাশ উত্তোলন

নোয়াখালীতে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

Icon

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় মৃত্যুর একমাস ৫ দিন পর আলাউদ্দিন (২৬) নামে এক দিনমজুরের লাশ কবর থেকে তোলা হয়েছে।

গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃত দেবনাথের উপস্থিতিতে বাটইয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাটইয়া গ্রামের একটি কবরস্থান থেকে লাশ তোলা হয়।

এর আগে, গত ১ মে উপজেলার যাদবপুর গ্রামে নরোত্তমপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান এ. কে. এম সিরাজ উল্যার বাড়িতে ওই যুবককে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। নিহত আলাউদ্দিন উপজেলার বাটইয়া গ্রামের মহিন উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় গত ৩জুন নিহতের মা নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ উল্যাকে প্রধান আসামি করে নিশান (২২) ও কবির (৩০) নামে তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করে নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪ নম্বর আমলি আদালতে সিআর মামলা দায়ের করেন। পরে আদালতের নির্দেশে কবিরহাট থানার পুলিশ হত্যা মামলা রুজু করে।

নিহতের বাবা মহিন উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, আমাদের বাড়ির জায়গা নিয়ে সমস্যা হলে চেয়ারম্যান সিরাজের কাছে বিচার চাই। এরপর তিনি নিজেই জায়গাটি কিনতে চান। ওই জায়গা নিয়ে বিরোধের জের ধরে ১ মে রাত ৯টার দিকে চেয়ারম্যান সিরাজ, আমার ছেলে আলাউদ্দিনকে তার বাড়িতে ডেকে নেয়। এরপর সেখানে দুই দিন আটকে রেখে তার লোক নিশান ও কবিরসহ ৮-৯ জন আমার ছেলেকে লোহার রড, জিআই পাইপ দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে মাথা, হাঁটু, চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আলাউদ্দিনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার অবনতি হলে ৫ মে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

৬ মে ভোরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলাউদ্দিনের মৃত্যু হয়। ৭ মে তাকে পারিবারিক করস্থানে দাফন করা হয়।

তিনি আরো বলেন, আমার ছেলের মৃত্যুর সংবাদ সিরাজ চেয়ারম্যানের বড় ভাই ডা. জাফর উল্যাহে জানালে তিনি বিষয়টি বাড়িতে এসে সুরাহা করবেন বলে আশ্বাস দেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করে চিকিৎসার কাগজপত্র না দিয়ে শুধুমাত্র আমার ছেলের মৃত্যুর সনদ দিয়ে রিলিজ করে দেয়। ১ নম্বর আসামি চেয়ারম্যান সিরাজের বড় ভাই ডা. জাফরের কালক্ষেপণে আমাদের মামলা করতে দেরি হয়। তিন বছর আগে এই সিরাজ চেয়ারম্যান আমাকেও তুলে নিয়ে মারধর করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. জাফর উল্যাহ সব কিছু নাকচ করে দিয়ে বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমার এলাকার লোক আমার কাছে কোনো কাজে আসলে আমি সাহায্য করি।

ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ উল্যা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একসময় তারা জমি বেচতে চাইলেও আমি কিনিনি। আমি কোনোভাবেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির বলেন, নিহতের মা আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত থানায় মামলাটি রুজু করার নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশে তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা রের্কড করা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তের স্বার্থে কবর থেকে ভিকটিমের মরদেহ তোলা হয়েছে। মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App