×

খবর

সড়ক ও নৌপথে ঈদযাত্রা শুরু আজ থেকে শুরু হচ্ছে ট্রেনে

Icon

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দেব দুলাল মিত্র : আর মাত্র চারদিন পর ঈদুল আজহা। এখনো সরকারি ছুটি শুরু না হলেও সড়ক এবং নৌপথে ঈদযাত্রা শুরু হয়ে গেছে। আজ বুধবার থেকে ট্রেনে ঈদযাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। ঘরমুখো যাত্রীরা অনলাইনেই বাসের অগ্রিম টিকেট কিনে নিয়েছেন। খ্যাতনামা পরিবহন কোম্পানিগুলোর বাসে ১৫ ও ১৬ জুনের টিকেট পাওয়া যাচ্ছে না। অনলাইনের মাধ্যমে দূরপাল্লার সব লঞ্চের কেবিন এরই মধ্যে ৮০ শতাংশ বুকিং হয়ে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার থেকেই সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও বিভিন্ন বাস কাউন্টারের ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে বলে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ব্যস্ততম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া-কাজিরহাট ফেরিঘাট।

যাত্রী আসায় বাস কাউন্টারে ব্যস্ততা বেড়েছে : ভিড় না বাড়লেও রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে গত কয়েক দিনের তুলনায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে বলে জানান শ্যামলী পরিবহনের কর্মী কামাল হোসেন। ঈদযাত্রার ঝামেলা এড়াতে অনেকেই আগে থেকে টিকেট কিনে নারী ও শিশুদের বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছেন। এখনো রাস্তায় জানবাহনের চাপ না থাকায় অনেকেই নিবিঘেœ বাড়ি ফিরতে চাইছেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে পুরোদমে ঈদযাত্রা শুরু হবে। বেশির ভাগ বাসের টিকেট অনলাইনে বিক্রি হয়ে গেছে। প্রতিটি বাসের শেষদিকের কিছু সিট এখনো ফাঁকা আছে, তবে তা-ও বিক্রি হয়ে যাবে। যাত্রী আসতে শুরু করায় সব পরিবহন কোম্পানির কর্মীদের ব্যস্ততা বেড়েছে।

রংপুরের যাত্রী মাহবুব হোসেন বলেন, তিনি পরিবারের সদস্যদের বাড়ি পাঠানোর জন্য হানিফ পরিবহনের টিকেট কেটেছেন। স্বাভাবিক দামেই টিকেট কিনেছেন। বৃহস্পতিবার অফিস ছুটির পর তিনি নিজে রওয়ানা হবেন।

গাইবান্ধার যাত্রী আনোয়ারা বেগম জানান, ঈদ উদযাপনের জন্য পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি আগেভাগেই বাড়ি যাচ্ছেন।

ঢাকা-বরিশাল-ঝালকাঠি রুটের সাকুরা পরিবহনের কর্মী রাসেল বলেন, আশা করছি এবার বাসে ভালো যাত্রী হবে। ঝড়বৃষ্টি না থাকায় যাত্রীরা আগেভাগেই যাত্রা শুরু করেছেন। তবে এই রুটের সিংহভাগ যাত্রী সায়েদাবাদ থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যাতায়াত করেন। এখনো বাসের টিকেট পাওয়া যাচ্ছে। সব বাস কোম্পানির অনেক টিকেট অবিক্রিত রয়েছে, টিকেটের কোনো সংকট নেই।

ঈগল পরিবহনের কর্মী মোস্তফা জানান, ঈদযাত্রা শুরু হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার থেকে ঈদের ছুটি পুরোপুরি শুরু হলে যাত্রীর ভিড় বাড়বে।

এদিকে সায়েদাবাদ এলাকার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবহন, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী রুটের বাসগুলোতেও গতকাল যাত্রী বেড়েছে। বরিশাল, পটুয়াখালি, ঝালকাঠি, যশোর, খুলনা, ফরিদপুর, ঝিনাইদহ, নড়াইল অঞ্চলের যাত্রীরা ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। তবে মাহাখালি বাস টার্মিনাল থেকে এখনো ঈদযাত্রা শুরু হয়নি। এই বাস টার্মিনাল থেকে অগ্রিম টিকেট দেয়ার ব্যবস্থা নেই। যাত্রীরা এসেই বাসে উঠে পড়ছেন। সব রুটেই প্রতি আধঘণ্টা পর পর বাসগুলো ছেড়ে যাচ্ছে। এনা পরিবহনের কর্মী সাব্বির জানান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সব রুটের পর্যাপ্ত বাস রয়েছে। বাসের কোনো সংকট হবে না। বাসের ভাড়াও বাড়ানো হয়নি। সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে।

বরাবরের মতো এবারো সরকারি পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিসি) ঈদ উপলক্ষে বিশেষ বাস সার্ভিস পরিচালনা করবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাসগুলো গুলিস্তান থেকে ছাড়বে।

নৌপথে যাত্রীদের চাপ : সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। গতকাল বিকাল থেকে যাত্রীরা টার্মিনালের আসতে শুরু করেছে। ঝড়বৃষ্টি না থাকায় অনেকেই কম খরচে যেতে নৌপথ বেছে নিয়েছে। বরিশাল, পটুয়াখালি, ভোলা, ঝালকাঠি নৌরুটের বিলাসবহুল লঞ্চগুলোর ৭০ শতাংশের বেশি কেবিন এরই মধ্যে বুকিং হয়েছে। ১৪, ১৫ এবং ১৬ জুনের কেবিনের চাহিদা বেশি। গত রোজার ঈদে লঞ্চগুলো ভালো যাত্রী পেয়েছিল। আগের মতো ভিড় না থাকায় অনেকেই নিবিঘেœ যেতে লঞ্চ ব্যবহার করছেন।

কুয়াকাটা-২ লঞ্চের মালিক আবুল কালাম খান জানান, অনলাইনেই কেবিনগুলো আগেভাগে বুকিং হয়েছে। যাত্রীর চাপ না থাকায় এখনো ডেকের যাত্রীরা এসে জায়গা পেয়ে যাচ্ছে। লঞ্চের কোনো সংকট হবে না। ঈদ উপলক্ষে সব রুটেই লঞ্চের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। ঈদযাত্রা পুরোপুরি শুরু হলে প্রয়োজন হলে লঞ্চগুলো বিশেষ সার্ভিস দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদ সামনে রেখে ঘরমুখো যাত্রীদের নিবিঘœ যাত্রা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টার্মিনাল এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে কোনো লঞ্চ টার্মিনাল ছেড়ে যেতে পারবে না। আবহাওয়া খারাপ হলে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে। টার্মিনাল এলাকায় নৌপুলিশের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। দুয়েক দিনের মধ্যে র‌্যাব ও বিআইডব্লিউটিএর টিম কার্যক্রম শুরু করবে।

প্রস্তুত ফেরিঘাট : বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, ঈদ সামনে রেখে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া-কাজিরহাট নৌরুটের ফেরিঘাটে যানবাহন ও যাত্রীর সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়েছে। রোজার ঈদের সময় যেভাবে সার্ভিস দেয়া হয়েছে, সেভাইে এবারো প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘœ করতে ঘাট এলাকায় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত তৎপর থাকবে। পাশাপাশি থাকবে জেলা পুলিশের ৪ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পশুবাহী ট্রাক, গণপরিবহন ও যাত্রীর চাপ এবং ঘাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। যাত্রী পারাপারের জন্য লঞ্চগুলোও প্রস্তুত রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ছোট-বড় ১৮টি ফেরি ও ২০টি লঞ্চ চলাচল করবে। দৌলতদিয়া প্রান্তের ৭টি ফেরিঘাটের মধ্যে এখন ৩টি ঘাট সচল রয়েছে। যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়লে ঘাটের সংখ্যাও বাড়ানোর প্রস্তুতি ঘাট প্রশাসনের রয়েছে। তখন ৬ নম্বর ঘাট চালু করা হবে। যাত্রী পারপারে জন্য লঞ্চ প্রস্তুত রয়েছে। পশুবাহী ট্রাকগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হবে। জরুরি ও পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়া সব ধরনের অপচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার এ সময় বন্ধ থাকবে। ঘাটে যাত্রীরা যেন হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে বিশেষ লক্ষ রাখা হবে।

নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ১৩ জুন থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে। এছাড়া সড়ক ও ঘাট এলাকায় ছোট গাড়ি, মাহেন্দ্রা, অটোরিকশা ও অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App