×

খবর

পাহাড় ধসে নিহতদের স্মরণ

১১ জুনকে পাহাড় রক্ষা দিবস ঘোষণার দাবি

Icon

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রামের পাহাড় রক্ষা করে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য নিরাপদ নগরী গড়তে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হলো পিপল’স ভয়েস আয়োজিত সমাবেশ থেকে। ১১ জুনকে জাতীয় পাহাড় রক্ষা দিবস ঘোষণার দাবিতে নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড়ে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আয়োজিত নাগরিক সমাবেশ ও প্রদীপ প্রজ¦লন অনুষ্ঠান থেকে এই দাবি জানানো হয়। নাগরিক সমাবেশ শেষে ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে নিহত ১২৭ জন এবং ২০১৭ সালে রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে নিহত ১৩০ জনসহ পাহাড় ধসে সব নিহতদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ¦লন করা হয়। পিপল’স ভয়েস, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম চট্টগ্রাম অঞ্চল এবং পিএসডিআই কনসালটেন্সির যৌথ আয়োজনে এই নাগরিক সমাবেশ ও প্রদীপ প্রজ¦লন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সমাবেশে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ চট্টগ্রামের সভাপতি ডা. একিউএম সিরাজুল ইসলাম বলেন, পাহাড়কে রক্ষা করতে কঠোর কর্মসূচি দিতে হবে। শেষবার বলতে চাই চট্টগ্রামের সব রাজনীতিবিদ, প্রশাসন ও আন্দোলনকারীরা মিলে একটা বড় সমাবেশ করে আমরা আল্টিমেটাম দিব। এরপর আর আমরা ঘরে বসে থাকব না।

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইদ্রিস আলী বলেন, পাহাড় কাটার বিষয়ে নির্লিপ্ত প্রশাসন ও রাজনীতিবিদরা। কিন্তু অতি সক্রিয় পাহাড় খেকোরা। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাকেই এটা দেখতে হবে। আপনিই কেবল পারেন, চট্টগ্রামের এই পাহাড় রক্ষা করতে। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এই পাহাড় রক্ষা করতে হবে। উদীচী চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জসিম চৌধুরী সবুজ বলেন, প্রতি বছরই বলছি পাহাড় কাটা বন্ধ হোক, কিন্তু হচ্ছে না। আরো বাড়ছে। আমরা এখনো একটি পাহাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। নাম চেরাগী পাহাড়, কিন্তু পাহাড়ের অস্তিত্ব নেই। পরিবেশ অধিদপ্তর নামে একটি প্রতিষ্ঠান আছে কিন্তু তাদের কাজ কী? ২০০৭ সালের মতো ঘটনা যেন আর না ঘটে। আইইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ২০০৭ থেকে প্রতি বছর কোথাও না কোথাও পাহাড় ধসে মানুষ মারা গেছে।

চট্টগ্রাম ও তিন পার্বত্য জেলায় পাহাড় ধস নিয়মিত ঘটনা। রাষ্ট্র তো অনেক শক্তিশালী কিন্তু এ অপকর্ম যারা করে তাদের কি কেউ বিচারের আওতায় আনতে পারে না?

কবি-সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল বলেন, পাহাড় ধসে যে লোকগুলো মারা যাচ্ছে- সেটা হলো হত্যাকাণ্ড। কারণ কেউ এসব পাহাড় দখলের জন্য কেটেছে। তাহলে তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হচ্ছে না কেন? নাট্যজন প্রদীপ দেওয়ানজি বলেন, বিশ্বে যেখানেই প্রকৃতি ধ্বংস করা হয়েছে, সেখানেই বিপর্যয় নেমে এসেছে। আমাদের পাহাড় ক্রমান্বয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। আমাদের দুর্ভাগ্য, যারা এসব ঠেকানোর কথা তারাই নষ্ট করছে।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে পিপল’স ভয়েস সভাপতি শরীফ চৌহান বলেন, আমরা বলতে চাই আর একটিও পাহাড় কাটা হলে আমরা এবার থেকে সেই পাহাড়ের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ করব। আমাদের কেটে তারপর পাহাড় কাটতে হবে।

পিপল’স ভয়েসের সংগঠক মিঠুন চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক অসীম বিকাশ দাশ, প্রমার কঙ্কন দাশ, আদিবাসী ফোরামের লামিউ মারমা ও বিএনপিএসের পক্ষে এরশাদুল করিম। উপস্থিত ছিলেন নাট্যজন মোস্তফা কামাল যাত্রা, পটিয়া উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাজেদা বেগম শিরু, সাংবাদিক মিন্টু চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সংগঠক সুনীল ধর, অধ্যাপক অনিন্দিতা দেবনাথ, অধ্যাপক শেখ বিবি কাউসার ও পিপলস ভয়েসের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মুহাম্মদ আতিকুর রহমান।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App