×

খবর

ফখরুলের আশাবাদ

দেশের জনগণের প্রত্যাশার মর্যাদা দেবে ভারত

Icon

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের জনগণের প্রত্যাশার মর্যাদা দেবে ভারত

কাগজ প্রতিবেদক : ভারতের নতুন সরকার বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশাকে মর্যাদা দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে ‘আধুনিক কৃষি, অভিন্ন নদীর পানি আগ্রাসন এবং জলবায়ু ভারসাম্যহীনতা রোধে শহীদ জিয়ার ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক শাহাদত হোসেন বিপ্লব। জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফিরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান, কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক শাহাদত হোসেন, মেহেদী হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপির তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ। নিঃসন্দেহে আমাদের অনেক প্রভাবশালী প্রতিবেশী দেশ। আমরা ভারতের নতুন সরকারের কাছে একটাই আশা করব, তাদের দেশে যেভাবে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে, তাদের নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ যেভাবে কাজ করতে পারে, আমরা ১৯৭১ সালে সেই লক্ষ্য নিয়ে যুদ্ধ করেছিলাম। আমরা দেশে গণতন্ত্রকে সেভাবেই প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আওয়ামী লীগ আর আওয়ামী লীগ নেই- এ মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, গতকাল একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার পুরনো এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। নাম বললে আপনারা হয়তো অনেকেই চিনে ফেলবেন। সে এখন রাজনীতি থেকে দূরে আছে, ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন, পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের এমপিও হয়েছেন। কিন্তু এখন প্রায় ১০-১৫ বছর ধরে রাজনীতি থেকে দূরে আছেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি রাজনীতি করছ না কেন? সে বলে কোন রাজনীতি করব। বললাম, আওয়ামী লীগ করবা। সে বলল, আওয়ামী লীগ কি আর আওয়ামী লীগ আছে? এটা তো এখন আজিজ আর বেনজীরের আওয়ামী লীগ। এই যে দেখুন, একজন আওয়ামী লীগের নেতার উপলব্ধি, এটাই বাস্তবতা। আজকে আওয়ামী লীগ সেই আওয়ামী লীগ নেই।

বাজেট প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বাজেট নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। সম্পূর্ণ বাজেটটাই হচ্ছে তাদের লুটপাটের। তিনি বলেন, এই সরকারের ক্ষুধার শেষ নেই। সবকিছু খেয়ে ফেলছে। সরকারের লোকজন যার যা খুশি তাই করছে। একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি চলছে দেশে। গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ দেশের ৫৩ বছরের সমস্ত অর্জন ধ্বংস করে ফেলেছে। কোথাও কোনো বিচার নেই, ব্যবসা করতে গেলে সরকারের লোকজনকে চাঁদা দিতে হবে। এরা পরিল্পিতভাবে দেশকে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। এমন উন্নয়ন করেছে সরকার, জনগণ এখন ঢাকা শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছে।

সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। দেশে পুরোপুরিভাবে একটা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে। এখন আমাদের একটাই লক্ষ্য, যেভাবেই হোক, এই ভয়াবহ দানব সরকারকে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, দেশ গভীর চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। একদিকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক, অন্যদিকে ভৌগোলিক দিক থেকে।

এ সময় অভিন্ন নদীর হিস্যা আদায়, তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি না হওয়া এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধে শেখ হাসিনা সরকারের ব্যর্থতারও সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, তিস্তার পানি নিয়ে বহু খেলা হচ্ছে। ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থেকেও এখন পর্যন্ত তিস্তার পানি চুক্তি করতে পারেনি এই সরকার। অথচ জিয়াউর রহমান তিস্তার পানির জন্য জাতিসংঘ পর্যন্ত গিয়েছিলেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App