×

খবর

গ্রেপ্তার ৭ কিশোর গ্যাং সদস্য

‘হিরোইজম’ দেখাতে খুন করা হয় রাফিকে

Icon

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম অফিস : চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, মারামারিসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধে জড়িত কিশোর গ্যাং সদস্যরা ‘হিরোইজম’ দেখাতে তুচ্ছ ঘটনায় খুন করে মনিরুজ্জামান রাফিকে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে যাওয়া তরুণ রাফি (২৫) হত্যার ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে পুলিশ।

গতকাল সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপকমিশনার (বন্দর) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা উঠতি বয়সের তরুণ। তারা পাড়া-মহল্লার অপরাধী চক্র হিসেবে পরিচিত। বাইক নিয়ে বেপরোয়া ঘোরাঘুরি, বাইক চালানোর সময় বিকট শব্দ তৈরি করা হিরোইজম প্রদর্শন, মারামারিসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধে তারা জড়িত।

এর আগে, রবিবার ভোরে নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় মোটরসাইকেলের সাইলেন্সারের শব্দকে কেন্দ্র করে মারামারিতে তরুণদের দুই গ্রুপের (কিশোর গ্যাং) মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতে খুন হন মনিরুজ্জামান রাফি। নিহত রাফি চট্টগ্রাম নগরীর দক্ষিণ-মধ্যম হালিশহরের বাকের আলী ফকিরের টেক এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় রায়হান নামে রাফির এক বন্ধুও গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। নিহত রাফি একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। হত্যাকাণ্ডের ১৫ ঘণ্টার মধ্যে পতেঙ্গা থানা পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা হলেন- কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানার জাহিদুল ইসলাম (২২), চট্টগ্রামের কাজির দেউড়ি এলাকার মোবারক হোসেন (২৩), স›দ্বীপ উপজেলার মাইঠভাঙা ইকবাল হোসেন ইমন (২২), চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানার মাইজপাড়া এলাকার শাহরিয়ার আল আহমেদ (২০), একই থানার উত্তর পতেঙ্গার জোবায়ের বাশার (৩৪), বন্দর থানার গোসাইলডাঙ্গা এলাকার তাহরিয়ার আহমেদ বাঁধন (২০) এবং হাটহাজারী থানার কাটিরহাট গ্রামের মারুফ চৌধুরী (২১)।

গতকাল সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপপুলিশ কমিশনার শাকিলা সোলতানা বলেন, রবিবার ভোর ৪টার পর আমাদের কাছে খবর আসে, মোটরসাইকেলের সাইলেন্সারের শব্দ নিয়ে দুগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে এক গ্রুপে চার থেকে পাঁচজন, অন্য গ্রুপে ১৪-১৫ জন ছিল। তদন্তে জানা গেছে, ১৪-১৫ জনের গ্রুপটি চারজনের গ্রুপের ওপর হামলা করে। হামলার একপর্যায়ে রাফিকে অপরপক্ষের লোকজন ছুরিকাঘাত করে ও তার বন্ধু রায়হানকে মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাফিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছুরিকাঘাত যে করেছে, সেই মোবারক হোসেনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুনের ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি কিশোর গ্যাংয়ের হত্যাকাণ্ড ধরে নেয়া যায়। কারণ যারা এ কাজ করেছে তারা অনেকেই সদ্য কৈশোর পার করা উঠতি বয়সের তরুণ। এরা গভীর রাতে কিংবা ভোরে মোটরসাইকেল নিয়ে নানা জায়গায় ঘোরাঘুরি করে। তারা মারামারিসহ বিভিন্ন অপকর্মে যুক্ত।

হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মোটরসাইকেলের সাইলেন্সারের উচ্চশব্দ নিয়ে ঝগড়ার সূত্রপাত হয়। এর জেরে খুন। এটি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটানো হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় আমাদের পাড়া-মহল্লায় যেসব কিশোর গ্যাংয়ের ঘটনা ঘটে, সেগুলোর অনুরূপ। এটা আমি সামাজিক অবক্ষয় বলব। কাউকে সহ্য না করা, সম্মান না করা বা ধৈর্যের সঙ্গে কোনো কিছু মোকাবিলা না করা- এরকম অশোভন পরিবেশ আমাদের এখানে তৈরি হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিরা কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় আছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

নিহত রাফির মা জান্নাতুল ফেরদৌস স্বামী পরিত্যক্তা। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে দিশাহারা মা বারবার আহাজারি করছিলেন। ছেলের হত্যাকারীদের বিচার চেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, আমার ছেলের হত্যাকারীদের বিচার চাই। আমার তো আর কেউ নেই। আমি এ ছেলের আশায় বেঁচেছিলাম। আমার ছেলে চাকরি করে। সে বলেছিল- আম্মু আমি তোমাকে টাকা দেব বেতন-বোনাস পেলে। নানুকে আর মামাকে টাকা দিও। আমার কিছু ধারকর্জ ছিল। সেগুলোও পরিশোধ করার জন্য সে টাকা দেবে বলেছিল। আমার ছেলেকে ওরা কীভাবে মেরে ফেলল! আমি বিচার চাই।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App