×

খবর

জন্মের আগেই ঠিক করেন দাম

সন্তান বিক্রির টাকা নিয়ে দ্ব›দ্ব স্বামীকে ফাঁসাতে স্ত্রীর মামলা

Icon

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম অফিস : গর্ভে যমজ সন্তান রেখেই স্বামী-স্ত্রী মিলে দামের হিসাব কষেন অনাগত সন্তানদের কত টাকায় বিক্রি করবেন। আলট্রাসনোগ্রাম করে জানতে পারেন তাদের যমজ সন্তান। সেই অনুযায়ী সন্তানদের বিক্রি করার জন্য লোকও পেয়ে যান। জন্মদানের পরপরই ছেলে সন্তানকে ৩ লাখ আর কন্যা সন্তানকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি করেন দুজনে মিলেই। ঝামেলাবিহীন বেচাবিক্রি হলেও বিপত্তি বাধে টাকার ভাগাভাগি নিয়ে। সন্তান বিক্রির টাকায় স্বামীর ভাগ বসতেই ক্ষিপ্ত হন স্ত্রী। পরে সন্তানদের চুরির অভিযোগ এনে চট্টগ্রামের মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন স্ত্রী। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্টো ইউনিটকে নির্দেশ দেন। আর পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে এই দম্পত্তির ‘সন্তান বিক্রির’ তথ্য।

গত শনিবার চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার রাজানগর এলাকা ও নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিক্রি করা ওই দুই শিশুকে উদ্ধার করে পিবিআই। চট্টগ্রাম মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৩ জানুয়ারি নগরের পাঁচলাইশের পলি হাসপাতালে মুন্নী আক্তারের যমজ সন্তান হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক ও মুন্নীর স্বামী হাবিবুর রহমান মিলে তার সন্তানদের (১ ছেলে ও ১ মেয়ে) অজ্ঞাতনামা নারীদের হাতে তুলে দেন। আর মুন্নীর বড় মেয়ে ও ছেলে এসবের প্রতিবাদ করলে তাদের বাথরুমে আটকে রাখা হয়। পরে এসব বিষয়ে হাসপাতালের চিকিৎসককে জানালে নবজাতক দুটি অসুস্থ থাকায় অন্য হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। পরে যমজ সন্তানদের না পেয়ে চট্টগ্রাম মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন মুন্নী আক্তার। পরে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোকে নির্দেশ দেন।

তদন্তে নেমে পিবিআই জানতে পারে, মামলার বাদী মুন্নী বাবুর্চির সহকারী এবং বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। একপর্যায়ে সন্তানসম্ভবা হন। অন্যদিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার শিরু আকতার নামে এক নারীর ঘরে কোনো পুত্র সন্তান না থাকায় তিনি সন্তান দত্তক নেয়ার জন্য খুঁজছিলেন। আরেকজন বোয়ালখালীর রুনা আকতারের কোনো মেয়ে সন্তান না থাকায় তিনিও নবজাতক কন্যা সন্তান দত্তক নেয়ার জন্য খুঁজছিলেন। তাদের সঙ্গে ঘটনাক্রমে সীতাকুণ্ডের রাশেদা বেগমের পরিচয় হয়। রাশেদা বেগম তাদের আশ্বস্ত করেন নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিলে পছন্দমতো নবজাতক ছেলেমেয়ে এনে দিতে পারবেন। পরে রাশেদা বেগম সন্তান নেয়া দুই নারীর সঙ্গে সন্তানসম্ভবা মুন্নীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। নবজাতক ছেলের বিনিময়ে শিরু আকতার ৩ লাখ টাকা এবং রুনা আকতার নবজাতক মেয়ের বিনিময়ে ১ লাখ টাকা রাশেদা বেগমকে দিতে রাজি হন। এছাড়া প্রসবকালে চিকিৎসা বাবদ অর্থ দিতেও রাজি হন তারা। পরে মুন্নী আক্তার বিষয়টি তার স্বামীর সঙ্গে আলোচনা করলে স্বামীও অর্থের বিনিময়ে সন্তান দিতে সম্মতি দেন। পরিকল্পনা অনুয়ায়ী, টাকার বিনিময়ে যমজ সন্তানদের দিয়ে দেয়া হয়। আর রাশেদা বেগম মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পান ১ লাখ টাকা। ঘটনার বেশ কিছুদিন পরে মুন্নীর স্বামী তাকে মারধর করে দেড় লাখ টাকা নিয়ে যান। আর এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মানবপাচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন মুন্নী।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা জানান, গর্ভে সন্তান রেখেই স্বামী-স্ত্রী মিলে অনাগত সন্তানকে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। গর্ভাবস্থায় আলট্রাসনোগ্রাম করে জানতে পারেন যমজ সন্তান। জন্মদানের পরপরই ছেলে সন্তানকে ৩ লাখ আর কন্যা সন্তানকে ১ লাখে বিক্রি করেন স্বামী-স্ত্রী মিলেই। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহেদুল্লাহ বলেন, স্বামী-স্ত্রী মিলে স্ট্যাম্প করে যমজ সন্তানদের বিক্রি করেন। কিছুদিন পর বিক্রির টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন স্বামী। কিন্তু ৫ হাজার টাকা না দিলে বাসায় গিয়ে মারধর করে স্ত্রীর থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যান স্বামী। এ ঘটনায় স্ত্রী ক্ষিপ্ত হয়ে মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

তিনি আরো বলেন, গত শনিবার চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার রাজানগর এলাকা ও নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিক্রি করা যমজ দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। তাদের গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে চট্টগ্রামের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে দুই শিশুকে রাখার নির্দেশ দেন। আজ সোমবার ট্রাইব্যুনালে দুই শিশুর উপস্থিতি মামলাটির শুনানি হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App