×

খবর

মাছ চুরি চেষ্টার অভিযোগে মামলা

বেনজীরের রিসোর্ট বুঝে নিল জেলা প্রশাসন

Icon

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন গোপালগঞ্জের সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কে তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে দিয়ে আদালতের ক্রোক আদেশের বাস্তবায়ন করা হলো। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় পার্কের প্রধান ফটকের পাশে মাইকিং করে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যৌথভাবে এ ঘোষণা দেয়।

এদিকে শুক্রবার বিকালে রিসোর্টের পুকুর থেকে মাছ চুরির চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার এই ঘটনায় ওই রিসোর্টের মৎস্য হ্যাচারি কর্মকর্তা সফিকুল ইসলামের (৫০) বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন এবং মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুইটি দল ভেতরে প্রবেশ করে সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কের নিয়ন্ত্রণ বুঝে নেয়। তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগের বিষয়টি রাত ১২টার দিকে মাইকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার বাবলী শবনম।

এ সময় এলাকাবাসী জড়ো হয়ে তারা আনন্দ উল্লাস করেন। এলাকাবাসী ভুক্তভোগী বাদল বল (৫০) বলেন, ডিসি স্যার পার্কের দায়িত্ব নেয়ায় আমরা অনেক খুশি। আমরা আশা করি সরকারি রাস্তা দিয়ে আমরা আমাদের জমি ও পুকুরে যেতে পারব।

গোপালগঞ্জের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান জানান, শনিবার সকাল থেকে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির তালিকা প্রস্তুত ও সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে। এরপর থেকে আয়-ব্যয়সহ জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় পার্কের সব কার্যক্রম চালু থাকবে এবং দর্শনার্থী প্রবেশে কোনো বাধা থাকবে না।

এদিকে ক্রোক করা সম্পত্তি থেকে চুরি করার সময় প্রায় ৬০০ কেজি মাছ জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। গত শুক্রবার রাতে এসব মাছ জব্দ করা হয়। এ সময় জব্দকৃত মাছ বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে প্রায় ৮৩ হাজার ৭০০ টাকা জমা করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে গোপালগঞ্জ সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রিগ্যান জানান, ওই রিসোর্ট থেকে মাছ ধরে বিক্রি করার সময় মাছ জব্দ করা হয়। পরে তা নিলামে বিক্রি করা হয়।

জানা গেছে, ২০১৫ থেকে ২০২০ সালে র‌্যাবের মহাপরিচালক এবং ২০২০ সাল থেকে ২০২২ পর্যন্ত আইজিপি থাকাকালীন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের বৈরাগীটোল গ্রামে ৬২১ (দুর্নীতি দমন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী) বিঘা জমির উপর গড়ে তোলেন সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্ক।

এ পার্কে সব জমি হিন্দু সম্প্রদায়ের বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভয় দেখিয়ে, জোর করে এবং নানা কৌশলে জমি কেনা হলেও অনেক জমি করা হয়েছে দখল। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচার হলে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করে। পরে আদালত সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্রোকের নির্দেশ দিলে বিভিন্ন সময়ে রাতের আঁধারে ট্রাকের করে মালামাল সরিয়ে নেয়া হয়েছে জানান এলাকাবাসী।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App