×

খবর

১৩ তামাকবিরোধী সংগঠনের বাজেট প্রতিক্রিয়া

সিগারেটের করহার বাড়ানোর উদ্যোগ ইতিবাচক

Icon

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : প্রস্তাবিত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের সব স্তরে কর হার বাড়ানোর প্রস্তাবকে ইতিবাচক বলে জানিয়েছে দেশে কর্মরত ১৩টি তামাক বিরোধী সংগঠন। বাজেট প্রতিক্রিয়া জানাতে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এ কথা জানিয়েছে তারা।

প্রতিক্রিয়া জানানো সংগঠনগুলো হলো এইড ফাউন্ডেশন, আর্ক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটি, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা), বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি), ডেভেলপমেন্ট একটিভিটি অব সোসাইটি (ডাস), ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, গ্রামবাংলা উন্নয়ন কমিটি, মাদকাসক্তি ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস), জাতীয় যক্ষা নিরোধ সংস্থা (নাটাব), প্রত্যাশা মাদকবিরোধী সংগঠন, টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেল ও ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট।

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দীর্ঘদিন পর মধ্যম, উচ্চ ও অতিউচ্চ স্তরের সিগারেটের করহার ১ শতাংশ এবং নিম্ন স্তরের করহার গত বছরের চেয়ে ২ শতাংশ বাড়ানো রাজস্ব বাড়ার এবং কোম্পানির মুনাফা কমার ক্ষেত্রে ইতিবাচক। কিন্তু তামাকজাত দ্রব্যের যথেষ্ট মূল্য না বাড়ায় তা তামাক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনের লক্ষ্যকে কঠিন করে তুলবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করতে বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাব অনুসারে তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য বাড়ানোর দাবি জানান তারা। তাদের বাজেট প্রতিক্রিয়ায় আরো বলা হয়, বাজেটে ১০ শলাকা সিগারেটের দাম নিম্ন স্তরে ৫ টাকা, মধ্যম স্তরে ৩ টাকা এবং উচ্চ ও অতিউচ্চ স্তরের যথাক্রমে ৭ টাকা ও ১০ টাকা করা হয়েছে। এই পরিমাণ মূল্য বাড়ায় তামাকের ব্যবহার কমাতে কার্যকর অবদান রাখবে না বরং তামাক কোম্পানির অযাচিত মুনাফা বাড়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।

প্রতিক্রিয়ায় আরো বলা হয়, প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার দাম ৩ টাকা এবং গুলের দাম ২ টাকা বাড়ানো এবং বিড়ির মূল্য অপরিবর্তিত রাখায় জর্দা, গুল ও বিড়ির ব্যবহার বাড়বে, যা একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এতে তামাক ব্যবহারজনিত রোগের প্রকোপ বাড়বে, যা রূপকল্প ২০৪১ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করবে।

বাজেট প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তামাক করবিষয়ক নলেজ হাব বিএনটিটিপির আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক বলেন, এবারের বাজেট প্রস্তাবে তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য ও করহার নির্ধারণের ক্ষেত্রে অনেকগুলো ইতিবাচক প্রস্তাব রয়েছে। অনেক বছর পর সিগারেটের চারটি স্তরেই মূল্য ও করহার বেড়েছে, বিড়ি ও ধোঁয়াবিহীন তামাকে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ হয়েছে।

সিগারেটের খুচরা শলাকা ভাংতি পয়সা মুক্ত হয়েছে, নিম্ন স্তরে মূল্য বাড়ার হার বেশি এবং বিড়ির কাগজের ওপর কর হার বেড়েছে। কিন্তু মূল্য বাড়ার পরিমাণ কম হওয়ায় রাজস্ব আয় বাড়বে না এবং জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জিত হবে না। তিনি বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাব অনুসারে বাজেট প্রস্তাব সংশোধনের পরামর্শ দেন।

তিনি আরো বলেন, তামাকজাত দ্রব্যের ওপর করারোপে প্রচলিত অ্যাডভেলোরেম পদ্ধতি বহাল রাখা হয়েছে। অ্যাডভেলোরেম পদ্ধতির পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করা হলে সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর পাশাপাশি তামাকের ব্যবহার কমাতে কার্যকর অবদান রাখত। পাশাপশি তামাক কোম্পানির কর ফাঁকি দেয়ার সুযোগ কমত।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App