×

খবর

শিক্ষামন্ত্রী

মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ দুঃখজনক

Icon

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 মুক্তিযোদ্ধা কোটা  নিয়ে উষ্মা প্রকাশ  দুঃখজনক

চট্টগ্রাম অফিস : বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরাধিকারদের জন্য চাকরিতে কোটা নিয়ে কারো কারো উষ্মা প্রকাশ দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। তিনি সবাইকে উচ্চ আদালতের রায়ের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন আয়োজিত ভূমিসেবা সপ্তাহের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

ভূমিসেবা সপ্তাহের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম, সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নুরে আলম মিনা ও পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ। নগরীর এমএ আজিজ স্টেডিয়াম-সংলগ্ন জিমনেসিয়াম হলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা’ নিয়ে উচ্চ আদালতের রায় ও প্রতিক্রিয়া বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে আমাদের এ দেশ দিয়ে গেছেন। সেটার প্রতি সম্মান দেখিয়ে, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তাদের যারা পরবর্তী প্রজন্ম অর্থাৎ তাদের সন্তানদের জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক কোটার যে বিষয়টি ছিল সেটা যথাযথ প্রতিপালনের ক্ষেত্রে অনেক জায়গায় অমনোযোগিতা ও অমান্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। সে বিষয়ে উচ্চ আদালত থেকে একটি নির্দেশনা এসেছিল। আমরা সবাইকে অনুরোধ জানাব, উচ্চ আদালতের রায়ের প্রতি ও নির্দেশনার প্রতি সবাই যথাযথভাবে সম্মান দেখাবেন।’ তিনি বলেন, যেহেতু আদালতের রায় এখনো সুনির্দিষ্টভাবে আমার হাতে আসেনি বা পড়ে দেখতে পারিনি; তাই সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মন্তব্য আমি করছি না। তবে এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে মুক্তিযুদ্ধের এত সময় পরে এসেও তাদের সন্তানদের জন্য রাখা কোটা প্রশ্নে কিছু মানুষের এত উষ্মা, তা খুবই দুঃখজনক। দেশ যারা স্বাধীন করে দিয়েছেন, তাদের সন্তানদের নিয়ে তারা যদি দ্বিতীয়বার প্রশ্নবিদ্ধ হন তাহলে এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা যারা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, এটা আমাদের পীড়া দেয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের সত্তরের নির্বাচনে স্বাধীনতার প্রতীক নৌকার পক্ষে ২০ শতাংশ ভোট যায়নি। সেই ২০ শতাংশ হচ্ছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী যে অংশটি ছিল, তারা কিন্তু পরবর্তীতে দীর্ঘ ২৬-২৭ বছর ধরে সরকারের আনুকূল্য পেয়ে ফুলেফেঁপে একটা পর্যায়ে পৌঁছেছে। সুতরাং সেই গোষ্ঠীগুলো যে বেড়ে অনেক বড় হয়নি, সে কথা তো বলা যেতে পারে না। তারা রাজনীতি ও সমাজে বিদ্যমান এবং অর্থনীতিতে খুব শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে। এই শক্তিটা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনার বিরোধিতা করবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের পাকিস্তান নিয়ে বক্তব্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এখনো কিছু রাজনৈতিক দল বলছে যে, পাকিস্তানের সময় নাকি ভালো ছিল। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব বলছেন, পাকিস্তানের সময় নাকি ভালো ছিল। তো কতটুকু পাকিস্তানপ্রেম দেশের বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে সেই দলের মহাসচিবের মধ্যে থাকতে পারে সেটা আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। এ ধরনের একটা পরিস্থিতিতে আমরা আছি। সেটা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি স্বাধীনতার এতদিন পরে এসেও এরকম আছে কি না আমি জানি না। তারা কিন্তু বহাল তবিয়তে আছেন। আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় কুচক্রিরা তাদের সহযোগিতা করার মাধ্যমে তারা রয়ে গিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের রাজনৈতিক সংগ্রাম।

নতুন পাঠ্যসূচিতে সব ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হবে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবসময় বলে এসেছি, শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষা প্রক্রিয়া, পাঠদান ব্যবস্থা ও পাঠক্রমের মধ্যে সবসময় সব ধর্মের প্রতি সম্মান এবং শ্রদ্ধার জায়গাটাতে আমরা সবসময় শক্তিশালী ভূমিকায় থাকবো।

গতকাল শনিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবার বন্ধ রাখার বিষয়টি ঈদুল আজহার পর থেকে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।

কক্সবাজারে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কর্ণফুলী নদী থেকে নাফ নদী পর্যন্ত দক্ষিণ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার বিশাল জেলা এবং বান্দরবান এই তিন জেলা মিলিয়ে, দক্ষিণ চট্টগ্রামকেও কিন্তু একটি বিশাল জেলার সমান ধরা যায়, সেখানে কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নেই। তবে ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু অংশ সেখানে আছে, কিন্তু ওখানে পাঠদান কার্যক্রম হয় না, গবেষণা কার্যক্রম হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় দেয়ার জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর নীতিগত সম্মতির জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। কক্সবাজারে যেন মূলত সে বিশ্ববিদ্যালয়টি হয়, তাহলে দক্ষিণ চট্টগ্রাম, বান্দরবান থেকে শিক্ষার্থীরা যেতে পারবে। সেভাবে করে জায়গাটা নির্ধারণ করা হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App