×

খবর

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তরুণদের নিয়ে ‘আমরা একাত্তর’

Icon

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : একাত্তরে বীর মুক্তিযোদ্ধারা যে বীরত্ব, সাহস, ত্যাগ দেখিয়েছে, তা তরুণ প্রজন্ম ভুলে গেছে কিংবা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন ভুলিয়ে দেয়ার গল্প চলছে। সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বাড়ছে। তাই মুক্তিযুদ্ধের মর্মবাণী নবপ্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রত্যয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠন ‘আমরা একাত্তর’-এর প্রথম জাতীয় সম্মেলন গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনের মধ্যদিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তারুণ্যের সম্মিলনে সাংগঠনিক যাত্রা শুরু করল সংগঠনটি।

‘একাত্তরের প্রেরণায় জাগো, জাগাও’ সেøাগানে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিস্টিউটিশন মিলনায়তনে সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সম্মেলন। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগতিক বক্তব্য রাখেন আমরা একাত্তরের প্রধান সমন্বয়কারী বীর মুক্তিযোদ্ধা হিলাল ফয়েজী। এরপর ৫৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন তরুণরা।

অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধারা তরুণদের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশ গড়ার মহান দায়িত্ব অর্পণ করেন। তরুণদের উদ্দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের আবেদন- আলোয় আলোয় উদ্ভাসিত তোমাদের চোখে চোখ রেখে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা সোনার বাংলার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখি। তোমরা দেখে রাখবে বাংলাদেশকে। তোমরা মেধা, শ্রম, প্রযুক্তি আর মানবিক বিন্যাসে গড়ে তুলবে এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

জীবনে মরণে আমরা সঙ্গী থাকব তোমাদের স্বপ্নযাত্রায়।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মৃণাল সরকারের সঞ্চালনায় আমরা একাত্তরের চেয়ারপারসন বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব জামানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে সংগ্রাম ও সফলতার গল্প বলেন তরুণ প্রজন্মের উজ্জ্বল প্রতিনিধি শহীদ সাংবাদিক সিরাজ উদ্দিন হোসেনের ছেলে জাহিদ রেজা নূর, অনুজীব বিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা, এভারেস্ট বিজয়ী নিশাত মজুমদার, অ্যান্টার্কটিকা বিজয়ী মহুয়া রউফ, আয়রন ম্যান ইমতিয়াজ এলাহীল ও নৃত্যশিল্পী পূজা সেন গুপ্ত।

সংগঠনটির চেয়ারপারসন ও সম্মেলনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব জামান বলেন, আমরা একাত্তর হলো জাগরণে ‘প্ল্যাটফর্ম’। তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগাতে চাই। তরুণদের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধাদের সংযোগ ও বন্ধন তৈরি করাই এ সম্মেলন মূল লক্ষ্য।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মাহফুজা জেসমিন সংগঠনের কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশে সংগঠিত জেনোসাইডের আন্তর্জাতিক ও জাতিসংঘ স্বীকৃতি আদায়ে কাজ করতে হবে। তরুণদের মধ্যে যারা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, বিশেষ করে তাদের এই কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। সমধর্মী অন্যান্য সংগঠনের পাশে থেকে চুকনগরসহ সব জেনোসাইড প্রান্তরের স্মৃতি নবপ্রজন্মের কাছে তুলে ধরে ও দেশের প্রতিটি বধ্যভূমি চিহ্নিত করার ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।

সম্মেলনে সম্মাননাপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা হলেন- কাজী সাজ্জাদ আলী জহির (বীর উত্তম), মেজর ওয়াকার (বীর প্রতীক), হারুন হাবিব, এম হামিদ, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, হাবিবুল আলম (বীর প্রতীক), মফিদুল হক, মেজর রফিক, কাজী কামাল উদ্দিন ইকরাম, জিল্লুর রহমান দুলাল, মকবুল ই এলাহী মসগুল, মোস্তফা আমিন, খায়রুল আহসান খান, আনোয়ার হোসেন, মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম, মোহাম্মদ শাহ আলম, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী, প্রদীপ চক্রবর্তী, সোহেল আহমেদ, রুহেল আহাম্মেদ বাবু, এনামুল হক খসরু, ইসমাত কাদির গামা, কার্তিক চ্যাটার্জি, অজয় দাস গুপ্ত, শেখ কবির আহাম্মেদ, ওসমান গনি, পিজুস বন্দোপাধ্যায়, মমিনউল্লাহ পাটোয়ারী, ডা. আমজাদ হোসেন, আব্দুর রউফ, আব্দুল গনি, রফিকুল ইসলাম, মো. নুর উদ্দিন মিন্টু, ডা. দিপা ইসলাম, মিজানুর রহমান খান (বীর প্রতীক), মাহবুব এলাহী (বীর প্রতীক), মোজ্জাম্মেল হক (বীর প্রতীক), মো. আবুল হায়াত মিয়া, এনামুল হক চৌধুরী খসরু, বোরহান উদ্দিন মিঠু, আবু আকাশ, মো. রফিকুল আলম, এম এ সামাদ, ডা. ফাউজিয়া মসলেম, দিল আফরোজ দিলু, রোকেয়া কবির, ডা. দীপা ইসলাম, ল²ী চ্যাটার্জি, নাসিমুন আরা হক মিনু, আনোয়ার জাহিদ, এ এস এম সবুর, আবুল কালাম আজাদ, এনায়েত হোসেন, শ্যামল শিংহ রায়, আব্দুস সামাদ পিন্টু, সাইদুল ইসলাম।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App