×

খবর

বিদ্যুৎ-জ¦ালানি খাত

বরাদ্দ কমেছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা

Icon

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার কথা বলা হলেও বিদ্যুৎ-জ¦ালানি খাতে গত অর্থবছরের চেয়ে এবার বরাদ্দ সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই খাতে ৩০ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৪ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ বরাদ্দ কমেছে ৪ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। গত বৃহস্পতিবার বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এই বরাদ্দ প্রস্তাব করেন।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ইতোমধ্যেই শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে দেশের মানুষকে। ২০০৯ সালের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট থেকে ৩০ হাজার ২৭৭ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সক্ষমতা ৪০ হাজার মেগাওয়াটে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সরকার জ¦ালানির বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণে উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ৪ লাখ ১৬ হাজার ১৮টি, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড চট্টগ্রামে ৬৭ হাজার ৫টি ও জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড সিলেট এলাকায় ৫০ হাজারসহ সর্বমোট ৫ লাখ ৩৩ হাজার ২৩ টি প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করেছে। সব শিল্প পর্যায়ের গ্রাহকদের মিটারের আওতায় আনার কাজ চলছে। অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ¦ালানির উন্নয়ন ও ব্যবহার বাড়ানো উৎসাহিত করতে ১০০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাব করছি।

সামুদ্রিক খনিজ ও অন্যান্য সম্পদের আহরণ এবং এর সুষ্ঠু ব্যবহারের গুরুত্ব বিবেচনায় সুনীল অর্থনীতি খাতে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি। বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় এ খাতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩০ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি। বাংলাদেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে এবং প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশের উৎপাদন-বণ্টন চুক্তিসমূহের আলোকে বিদ্যমান ‘অফশোর মডেল পিএসসি ২০১৯’-কে আরো আকর্ষণীয় করে বাংলাদেশ অফমোর মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট-২০২৩ প্রণয়ন করা হয়েছে। এর আওতায় বর্তমানে অগভীর সমুদ্রের ৯টি ব্লক ও গভীর সমুদ্রের ১৫টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এ বছর ডিসেম্বরের মধ্যেই গভীর এবং অগভীর সাগরের জন্য পিএসসি স্বাক্ষর করা সম্ভব হবে। এছাড়া সামুদ্রিক খণিজ ও অন্যান্য সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সুনীল অর্থনীতিসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কার্যক্রম সমন্বয় করার লক্ষ্যে জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের আওতায় ব্লæ ইকোনমি সেল কাজ করছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও জ¦ালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, বরাদ্দ যাই থাক তা সুষ্ঠুভাবে কাজ লাগাতে পারলে বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাতে সমস্যা হতো না। বাজেটে যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা থেকে দেশীয় জ¦ালানি অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য গুরুত্ব দিতে হবে। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়লে বিদ্যুতের উৎপাদনে ঘাটতি থাকত না। বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি আমদানিনির্ভর না হয়ে স্থানীয় উৎসগুলোর ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হবে। গতবারের চেয়ে বরাদ্দ কম দেয়া হলেও সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করা হলে এই খাতের উন্নয়ন অব্যাহত রাখা সম্ভব বলে আমি মনে করি। অপচয় ও চুরি বন্ধে জোড়ালো উদ্যোগ নেয়া খুবই জরুরি।

এই জ¦ালানি বিশেষজ্ঞ বলেন, কয়লার অনুসন্ধান, ব্যবহার ও উত্তোলন নিয়ে অনেক বিরোধিতা আছে। তবে আমি মনে করি কয়লা নিয়ে আর সময় ক্ষেপণ করা উচিত হবে না। সরকারের গুরুত্বসহকারে দেশীয় কয়লা উত্তোলনের বিষয়টি ভেবে দেখা উচিত ছিল। কয়লা মাটির নিচে রেখে দিলে সুফল আসবে না। ভবিষ্যতের জ¦ালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই দেশীয় কয়লা উত্তোলন ও ব্যবহার করতে হবে।

সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালনের পাশাপাশি এ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্মার্ট প্রি-পেইড/স্মার্ট মিটার স্থাপন কার্যক্রম নিয়ে কাজ করছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৬৩ লাখ প্রি-পেইড/স্মার্ট মিটার স্থাপন করা হয়েছে। গ্রাহক সেবার মান উন্নয়নে বিল পরিশোধ, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং নতুন সংযোগ কার্যক্রমকে অটোমেশনের আওতায় আনা হয়েছে। ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে স্মার্ট গ্রিড ব্যবস্থা প্রচলনসহ সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থাকে স্মার্ট তথা আধুনিকায়নের ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App