×

খবর

সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে নদীর পানি

২ লাখ মানুষের ভোগান্তি

Icon

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মো. সাজ্জাদ হোসেন শাহ্, সুনামগঞ্জ থেকে : গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জের সব কয়টি নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। ডুবে গেছে নি¤œাঞ্চলের রাস্তাঘাট। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার ২ লাখেরও বেশি মানুষ। গতকাল মঙ্গলবার সুনামগঞ্জের নদনদীর পানি ৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

জানা গেছে, সপ্তাহখানেক ধরে সুনামগঞ্জের নদনদীর পানি কখনো কমছে আবার কখনো বাড়ছে। এতে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা নিয়ে সময় পার করছেন সুনামগঞ্জের ২০ লাখেরও বেশি মানুষ। তবে সেই দুশ্চিন্তা যেন আরো বাড়িয়ে দিয়েছে গতকালের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল।

সেই সঙ্গে মঙ্গলবার সকাল থেকে সুনামগঞ্জে মুষল ধারে বৃষ্টি হয়। ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নামছে ভারতের পাহাড়ি ঢলে। ফলে দ্রুত গতিতে বাড়ছে জেলার সুরমা, কুশিয়ারা, বৌলাই, রক্তি ও যাদুকাটা নদীর পানি। এতে বন্যার শঙ্কায় আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন ভাটির জেলার বাসিন্দারা।

এদিকে পাহাড়ি ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, ছাতক ও দোয়ারা বাজারসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার নি¤œাঞ্চলের রাস্তা ঘাট তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে সুনামগঞ্জের দোয়ারা বাজারের শরীফপুর গ্রামের প্রধান সড়ক ঢলের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দোয়ারাবাজার উপজেলার সঙ্গে সরাসরি সড়ক পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে সুরমা, ল²ীপুর, বাংলাবাজারসহ তিন ইউনিয়নের। এছাড়া বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ার খলার দুর্গাপুর সড়ক ডুবে যাওয়ায় সুনামগঞ্জ জেলা শহরের সঙ্গে তাহিরপুর উপজেলার সরাসরি সড়ক পথে যোগাযোগ বিছিন্ন রয়েছে। এতে ছোট নৌকা করে বাড়তি ভাড়া দিয়ে গন্তব্য স্থানে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সেই সঙ্গে পানির কারণে রাস্তার পাশে আটকে পড়েছে ছোট-বড় প্রায় ৫০টি যানবাহন। এমনকি ঢলের পানিতে নি¤œাঞ্চলের রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন।

তাহিরপুর উপজেলার বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইউনূছ আলী বলেন, ইউনিয়নের কামারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়ক পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ভেঙে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এতে করে নতুন বাজার কাউকান্দি সড়ক যোগাযোগ একবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন রাহাত বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানির জন্য বারবার আমরা বিপদে পড়ি। প্রায়ই এদিকে পানি আসে। সড়ক ডুবে গেলে আর কোনো সড়ক না থাকায় এভাবে পানিতে হাবুডুবু খেয়ে আমাদের চলাচল করতে হয়। নৌকা নিলেও ভাড়া বেশি দেয়া লাগে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে সুনামগঞ্জের সব নদনদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে এই জেলায় স্বল্পমেয়াদি একটা বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App