×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

খবর

তদন্ত কমিটি গঠন

চট্টগ্রামে ব্যাংকের লকার থেকে ১৪৯ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ‘গায়েব’

Icon

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রামে ইসলামী ব্যাংকের একটি শাখার লকার থেকে প্রায় দেড়শ ভরি স্বর্ণালঙ্কার গায়েবের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নগরীর ইসলামী ব্যাংক চকবাজার শাখার এক নারী গ্রাহক গত ২৯ মে দুপুরে ব্যাংকে গিয়ে দেখেন, তার জন্য বরাদ্দ করা লকারটি খোলা। সেখানে রাখা ১৪৯ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নেই। পরে ১ জুন রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়। ভুক্তভোগী রোকেয়া আক্তার বারী নগরীর চকবাজার থানার চট্টেশ্বরী রোডের বাসিন্দা। লকার থেকে স্বর্ণ গায়েবের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

তবে স্বর্ণ গায়েবের বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কিছুই জানে না বলে জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি- গ্রাহক মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছেন। ব্যাংকের লকার থেকে স্বর্ণ চুরির কোনো সুযোগ নেই। তবুও তদন্ত কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। গতকাল রবিবার দুপুরে ব্যাংকটির ম্যানেজার শফিকুল মওলা নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। জানা গেছে, নগরের বেভারলি হিল এলাকার বাসিন্দা ও ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক রোকেয়া বারী ব্যাংকের একটি লকারে ১৪৯ ভরি স্বর্ণের গহনা রেখেছিলেন। ২৯ মে লকার ইনচার্জের সঙ্গে লকার রুমে প্রবেশ করে তিনি দেখতে পান যে, তার লকারটি খোলা এবং সেখানে কোনো গহনা নেই। পরে তিনি চকবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করতে গেলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তবে এ ঘটনায় পুলিশ সাধারণ ডায়েরি না নিয়ে ভুক্তভোগীকে ফৌজদারি মামলা করার পরামর্শ দিয়েছে।

গ্রাহক রোকেয়া বারীর ছেলে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রিয়াদ মোহাম্মদ মারজুক বলেন, ‘২০০৭ সাল থেকে আমার মা এই শাখায় তার স্বর্ণের গহনা রাখার জন্য লকার ব্যবহার করে আসছেন। ব্যাংকের লকারে মায়ের প্রায় ১৬০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রাখা ছিল। তিনি মাঝে মাঝে ব্যাংকে গিয়ে লকারে রাখা স্বর্ণালঙ্কার যাচাই করে আসতেন। গত ৮ এপ্রিল তিনি যাচাই করেছিলেন। এরপর গত ২৯ মে দুপুরে ব্যাংকে গিয়ে লকার রুমের ইনচার্জকে তার লকার দেখার অনুরোধ করেন। লকার রুমে প্রবেশ করলে ইনচার্জ প্রথমে দেখেন যে মায়ের লকারটি খোলা। সেখানে একটি চাবি ঝুলছে। লকারে মাত্র ১০-১১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার আছে। লকারের মাস্টার-কি থাকে লকার ইনচার্জের কাছে এবং আরেকটি চাবি থাকে গ্রাহকের কাছে। দুই চাবি দিয়ে লকার খুলতে হয়। কিন্তু গ্রাহকের চাবি বা মাস্টার-কি ছাড়া লকারটি কীভাবে খোলা হলো, কর্মকর্তাদের কেউই এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর গ্রাহককে দিতে পারেননি। গায়েব হওয়া স্বর্ণালঙ্কারের মধ্যে রয়েছে ৪০ পিস হাতের চুরি (বড় সাইজ), যার ওজন ৬০ ভরি। গলা ও কানের অলঙ্কার, যার ওজন ২৫ ভরি। ১০ ভরি ওজনের একটি গলার সেট, ২৮ ভরি ওজনের ৭টি গলার চেইন। ১৫ ভরি ওজনের ৪টি আংটি। ৩০ জোড়া কানের দুল, যার ওজন ১১ ভরি।

মারজুক বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ওসি নিজে আমার আম্মাকে নিয়ে ব্যাংকে যান। ওসিও লকার খোলা অবস্থায় থাকা এবং স্বর্ণালঙ্কার মিসিংয়ের প্রমাণ পান। তিনি কয়েকটি ছবি তোলেন এবং ভিডিও করেন। এরপর আমরা একটি সাধারণ ডায়রিও করতে চেয়েছি। কিন্তু ওসি আমাদের মামলা করতে বলেছেন। আমি আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছি। আগামীকাল (সোমবার) আদালতে মামলা করা হবে।’

চকবাজার থানার ওসি মোহাম্মদ ওয়ালি উদ্দিন আকবর বলেন, ব্যাংকের গ্রাহক এক নারীর মৌখিক অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সেখানে লকার খোলা অবস্থায় এবং ভেতরে কিছু স্বর্ণালঙ্কার আমরা দেখতে পাই। গ্রাহকের অভিযোগ প্রায় ১৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার মিসিং হয়েছে। লকার রুমে কোনো ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা নেই। ঘটনাটির গুরুত্বের কারণে ভুক্তভোগীকে তিনি ফৌজদারি মামলা দায়েরের পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান।

ইসলামী ব্যাংক চকবাজার শাখার ম্যানেজার শফিকুল মওলা বলেন, আমাদের মনে হচ্ছে এই গ্রাহক মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছেন। আমরা লকার-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সব সার্কুলার মেনেই আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছি। এরপরও গ্রাহকের মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে আসলে গ্রাহক মিথ্যে বলছেন কি না।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App