×

খবর

বাপার সংবাদ সম্মেলন

খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে লোনা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে

Icon

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদে জলোচ্ছ¡াসে প্লাবিত হয়ে লবণপানি ঢুকেছে- যা খাবার পানি সংকট, জনস্বাস্থ্য এবং কৃষি ও মাছের জন্য হুমকিস্বরূপ। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে লবণাক্তপানি দ্রুত অপসারণে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘ঘূর্ণিঝড় রেমাল পরবর্তী খাদ্য নিরাপত্তা : আশু করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। বাপা আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাপা সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপা জাতীয় কমিটির সদস্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গওহর নঈম ওয়ারা। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রসুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাপা জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাবিষয়ক কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম, সহসভাপতি মহিদুল হক খান, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জমান মজুমদার ও নুর আলম শেখ। সভাপতির বক্তব্যে নুর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, আইলার চেয়েও রেমালের ক্ষয়ক্ষতি অতি ভয়াবহ- যা আস্তে আস্তে প্রত্যক্ষ হচ্ছে। ঘরবাড়ি, গবাদিপশু, সুন্দরবন ও সুন্দরবনের পশু ও জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। সেখানকার অনেক স্থানের পানি এখনো নেমে যায়নি। এর ফলে সুপেয় পানির অভাব ও গবাদিপশুর জীবননাশের ঝুঁকি রয়েছে।

রফিকুল আলম বলেন, দেশে ঘূর্ণিঝড়-সাইক্লোন নিয়ে এতবেশি সংকেত থাকায় মানুষের মধ্যে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। সংকেত সহজ করা হলে এ ধরনের দূর্যোগের ফলে ক্ষতি অনেকাংশে কমে যাবে। অন্যকোনো দেশেই এতবোশি সিগনাল ব্যবস্থা চালু নাই। তিনি তিন ধরনের সংকেত রাখার দাবি করেন- হুঁশিয়ারি সংকেত, বিপদ সংকেত ও মহাবিপদ সংকেত।

মহিদুল হক খান বলেন, উপকূলে অপরিকল্পিত উন্নয়নের নামে পরিবেশের ক্ষতি করা হচ্ছে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়। এসব বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। দ্রুত নোনাপানি বের করে ফসল রক্ষা পানি ধরে রাখা ও খালের পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, যে কোনো সাইক্লোন শুরুর আগে উপকূলীয় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ঢালাওভাবে প্রচার করা হয় দুর্যোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে। এখন শোনা যাচ্ছে জেলায় বরাদ্দ আছে মাত্র ৬ লাখ টাকা। এটি জাতির কাছে প্রহসনের সামিল।

আমিনুর রসুল বিগত বছরগুলোর ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি পর্যালোচনা করে বলেন, সাধারণত এপ্রিল ও মে মাসের মধ্যেই এ ঘূর্ণিঝড় হয়ে থাকে। তাহলে এত বছরেও কেন সরকার এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় উপযুক্ত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি? এর পেছনে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও জবাবদিহি অভাব রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App