×

খবর

ক্ষেতলালে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে শোকজ

২০ দিন পর ব্যালট উদ্ধার

Icon

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ২০ দিন পর একটি ভোটকেন্দ্র থেকে অব্যবহৃত দুই হাজার ১০০ ব্যালট পেপার উদ্ধারের ঘটনায় নির্বাচন অফিসের পক্ষ থেকে প্রিসাইডিং অফিসারকে শোকজ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রিসাইডিং অফিসারকে শোকজ নোটিস দিয়ে সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, প্রথম ধাপে গত ৮ মে ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ছিলেন ক্ষেতলাল সরকারি ছাইদ আলতাফুন্নেছা কলেজের প্রভাষক তানজির আহমেদ সাকিব। ওই কেন্দ্র মোট ভোটার তিন হাজার সাতজন। চেয়ারম্যান পদে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা এক হাজার ৯৯৭টি। গত মঙ্গলবার আকলাস শিবপুর শ্যামপুর দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের একটি আলমারি খোলা হয়। অফিস সহায়ক আলমারির ভেতরে একটি বস্তা দেখে সেই বস্তা খুলে ভেতরে অব্যবহৃত ২১টি ব্যালট বই দেখেন। বিষয়টি তিনি সঙ্গে সঙ্গে প্রধান শিক্ষককে জানান। প্রধান শিক্ষক আজিজুল হাসান ব্যালট পেপার পাওয়ার ঘটনাটি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে জানান। নির্বাচন কর্মকর্তা ব্যালট পেপারগুলো বিদ্যালয়ের পিয়নের মাধ্যমে তার কার্যালয়ে পৌঁছে দিতে বলেন। বুধবার সকালে ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ভোটকেন্দ্র আকলাস শিবপুর শ্যামপুর দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে ব্যালট পেপারগুলো উদ্ধার করে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। যেখানে ২১টি ব্যালট বইয়ে চেয়ারম্যান পদে ৭০০, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭০০ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭০০ মোট দুই হাজার ১০০ অব্যবহৃত ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা প্রভাষক তানজির আহমেদ সাকিব ভোরের কাগজকে বলেন, ভুলক্রমে ওই ব্যালট পেপারগুলো বস্তায় না উঠিয়ে সিলগালা করা হয়েছিল। গত বুধবার ওই অব্যবহৃত ২১০০ ব্যালট পেপার উদ্ধার করে উপজেলা নির্বাচন অফিসার এর নিকট জমা দিয়েছি।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আয়েশা খাতুন জানান, বুধবার সকালে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা অব্যবহৃত ২১টি ব্যালেট পেপার বইয়ে ২১০০ ব্যালট আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদের ৭০০, সাধারণ ভাইস চেয়ারম্যান পদের ৭০০ ও নারী ভাইস চেয়ারম্যানের পদে ৭০০ ব্যালেট রয়েছে। ভোট গ্রহণ শেষে অব্যবহৃত ব্যালেট পেপার বুঝিয়ে দিতে হয়। কেন এমনটা ঘটল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার তার কাছে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিম একটি শোকজ নোটিস পাঠান। যেখানে তাকে আগামী সাত দিনের মধ্যে এ ঘটনায় ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

জেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিম মুঠোফোনে জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তাকে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বুধবার ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা তানজির আহমেদ সাকিব ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক আজিজুল হাসানের কাছ থেকে ব্যালট পেপারগুলো বুঝে নেন। এরপর তিনি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে ব্যালট পেপারগুলো জমা দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী ভোট গ্রহণ শেষে অব্যবহৃত ব্যালট পেপার বুঝিয়ে দিতে হয়। কেন এমনটা ঘটলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App