×

খবর

সার্জারি ও স্টেন্ট ছাড়াই হৃদরোগ নিরাময় সম্ভব

Icon

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, হার্ট ব্লকসহ হৃদযন্ত্রের অন্যান্য রোগের বেশির ভাগেরই প্রধান কারণ হৃদযন্ত্রের রক্তনালীতে চর্বি জমা হওয়া। আর সিংহভাগ রোগীকেই এ রোগ থেকে মুক্তির জন্য অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ‘রিং’ (স্টেন্ট) পরানো কিংবা ‘বাইপাস সার্জারি’ করাতে হয়। তবে অস্ত্রোপচার করলেই ঝুঁকি মুক্ত হওয়া যায় না। কারণ ফের চর্বি জমতে পারে সেই রিংয়ে কিংবা বাইপাস সার্জারির মাধ্যমে রক্ত চলাচলের জন্য যে নতুন রাস্তা করে দেয়া হয়েছে সেই রাস্তাতেও। তাই রিং বা অস্ত্রোপচার ছাড়াই খাদ্যাভ্যাস আর জীবনযাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে সুস্থ হওয়া যায় সাওল চিকিৎসা পদ্ধতিতে। রোগ নিরাময়ের জন্য রোগের কারণকে দূর করাই সাওল পদ্ধতির মূলমন্ত্র।

‘বিনা রিং, বিনা অপারেশনে হৃদরোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকার’ শিরোনামে আয়োজিত ১৯তম জাতীয় সাওল হার্ট ও লাইফ স্টাইল সেমিনারে এ বিষয়ে দিনব্যাপী আলোচনা করেন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল শুক্রবার এই সেমিনারের আয়োজন করে রাজধানীর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবনে সাওল হার্ট সেন্টার (বিডি) লিমিটেড। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন সাওল হার্ট সেন্টার-ভারতের প্রতিষ্ঠাতা হৃদরোগ ও লাইফস্টাইল বিশেষজ্ঞ ডা. বিমল ছাজেড়-এমডি, প্রধান অতিথি ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. লেলিন চৌধুরী প্রমুখ। দিনব্যাপী চলে হৃদযন্ত্র আর হৃদরোগের খুঁটিনাটি বিষয়ে সেমিনার। সন্ধ্যায় শেখানো হয় যোগ ব্যায়াম। আর দুপুরের পরিবেশন করা হয় বিনা তেলে রান্না খাবার।

সেমিনারে বিমল ছাজেড় বলেন, শরীর নিজে নিজে মেরামত করতে পারে। ব্যবসার কারণে অনেকগুলো বিষয় ‘প্রমোট’ হয়ে গেছে। এ কারণে ‘বাইপাস সার্জারি’ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। হৃদরোগে আক্রান্ত হলে ডাক্তারের কাছে গেলেই বলে অপারেশন লাগবে। অপারেশন করলেই হাসপাতালের আয়। বড় হাসপাতাল দেখে রোগীরা মুগ্ধ হয়ে যায়। কিন্তু প্রকৃতির সঙ্গে যত কম কাটাকুটি করা যায় ততই মঙ্গল। গাছ থেকে একটি পাতা ছেড়ার পর আবার জোড়া লাগানো যায় না। শরীরের কোনো অংশ কাটলে আগের অবস্থায় ফিরে আসে না। হার্টের ক্ষেত্রে তো আরো অসম্ভব।

বিনা অপারেশনে হৃদরোগের চিকিৎসা বিষয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসকরা রোগীর সমস্যা শুনে তাদের কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে দেয়া হয়। এই পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনা করে রোগীর পরিস্থিতির তীব্রতা যাচাই করবেন চিকিৎসকরা। রোগীভেদে দুই ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে সাওল হার্ট সেন্টারে, ‘এনহ্যান্সড এক্সটারনাল কাউন্টার পালসেশন (ইইসিপি)’ এবং ‘বায়ো কেমিকাল এনজিওপ্লাস্টি (বিসিপি)’। চিকিৎসা নিতে হবে মোট ৩৫ দিন। প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে। বায়ো কেমিকাল এনজিওপ্লাস্টির খরচ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে মোট ২০ দিন। এর সঙ্গে থাকবে জীবনযাত্রার ওপর হাসপাতালের শক্ত নজরদারি, যোগ ব্যায়াম এবং নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস। স্বাস্থ্যকর তেলহীন খাবার পাওয়া যাবে হাসপাতালের ‘অয়েল ফ্রি কিচেনে’।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সমাজের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও সেবা- দুটিই বাণিজ্যকীকরণ হয়ে গেছে। শুধু বাংলাদেশে নয়- সারা বিশ্বেই। অতি মুনাফার এই মানসিকতা সমাজে গেড়ে বসেছে। এই অতি বাণিজ্যকীকরণের কারণে অনেক রোগ সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ক্ষেত্রে। এটি বড় একটি সংকট হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সাওলের চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে সামাজিক বিপ্লব ঘটাতে হবে।

উল্লেখ্য, আমেরিকার প্রখ্যাত হৃদরোগ ও লাইফস্টাইল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ডিন অর্নিশ উদ্ভাবিত, ভারতের খ্যাতিমান হৃদরোগ ও লাইফস্টাইল বিশেষজ্ঞ ডা. বিমল ছাজেড় বিকশিত সাওল (সায়েন্স অ্যান্ড আর্ট ফর লিভিং) চিকিৎসা পদ্ধতি বাংলাদেশে প্রচলন করেছেন মোহন রায়হান। সাওল হার্ট সেন্টার বিশ্বে ১৩২টি শাখার মাধ্যমে বিনা রিং ও বিনা অপারেশনে হৃদরোগের স্থায়ী চিকিৎসা দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক চেইন হার্ট কেয়ার সেন্টারের বাংলাদেশ শাখা সাওল হার্ট সেন্টার (বিডি) সাওল হার্ট সেন্টার (বিডি) লিমিটেড বিনা রিং, বিনা অপারেশনে দেশের কয়েক লাখ মানুষকে হৃদরোগ মুক্ত রেখেছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App